গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্টে প্রাগ্রসর সাংবাদিক পলাশ চৌধুরীর তেরো বছর: পর্যটনের এক অনন্য সেতুবন্ধন

প্রকাশিত: ৫:২৬ অপরাহ্ণ, জুন ৭, ২০২৬

গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্টে প্রাগ্রসর সাংবাদিক পলাশ চৌধুরীর তেরো বছর: পর্যটনের এক অনন্য সেতুবন্ধন

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০৭ জুন ২০২৬ : বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প, গণমাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রের সীমানা অতিক্রম করে বহুমাত্রিক অবদানের মাধ্যমে স্বতন্ত্র পরিচয় নির্মাণ করেছেন। সিনিয়র সাংবাদিক-সংস্কৃতিকর্মী পলাশ চৌধুরী তাঁদেরই একজন। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি চর্চার প্রতি গভীর অনুরাগ এবং পর্যটন খাতে পেশাদারিত্বের অনন্য সমন্বয়ে তিনি আজ একটি সুপরিচিত নাম।

২০২৬ সালের জুন মাসে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পাঁচ তারকা মানের প্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ-এর জনসংযোগ বিভাগের ব্যবস্থাপক হিসেবে তিনি তেরো বছর পূর্ণ করে চতুর্দশ বছরে পদার্পণ করেছেন। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদানের পর থেকে তিনি শুধু একজন কর্মকর্তা হিসেবেই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি, অতিথি সেবা এবং গণসংযোগ কার্যক্রমকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

বহুমাত্রিক পরিচয়ের এক মানুষ

পলাশ চৌধুরীর পরিচয় কেবল একজন জনসংযোগ ব্যবস্থাপকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি একজন সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, আবৃত্তিচর্চার পথিকৃৎ এবং সমাজ-সচেতন লেখক। তাঁর কর্মজীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার এক অসাধারণ দক্ষতা।

পেশাগত জীবনে তিনি যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই নিজের আন্তরিকতা, মানবিকতা এবং সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। সহকর্মী, সাংবাদিক, শিল্পী, সাহিত্যিক, পর্যটক, কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব কিংবা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা—সবার কাছেই তিনি সমানভাবে শ্রদ্ধেয় ও প্রিয়।

শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে পলাশ চৌধুরী একটি নির্ভরতার নাম। কোনো সমস্যা দেখা দিলে সেটিকে জটিল করে না দেখে দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পর্যটনসেবার ক্ষেত্রে এই দক্ষতাই তাঁকে আলাদা মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।

শিক্ষা ও মননের ভিত্তি

ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী আনন্দমোহন কলেজ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৯০ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন পলাশ চৌধুরী। সাহিত্য ও ভাষার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকতা, সংস্কৃতি ও জনসংযোগ—সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রভাব ফেলেছে।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে তিনি শুধু পাঠ্যক্রমেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং সাহিত্য, আবৃত্তি, সংগঠন ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। ফলে তাঁর ব্যক্তিত্বে একদিকে যেমন রয়েছে সাহিত্যবোধ, অন্যদিকে রয়েছে সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।

Manual6 Ad Code

সাংবাদিকতার দীর্ঘ পথচলা

Manual5 Ad Code

পলাশ চৌধুরীর সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা ১৯৮৯ সালে। সে সময় তিনি সাপ্তাহিক খবরের কাগজ পত্রিকার ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেই শুরু থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় চার দশকের দীর্ঘ পথচলায় তিনি বাংলাদেশের গণমাধ্যম অঙ্গনের নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি কাজ করেছেন দৈনিক মুক্তকণ্ঠ, দৈনিক প্রথম আলো, একাত্তর টেলিভিশনসহ বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে। সংবাদ সম্পাদনা, রিপোর্টিং, ফিচার লেখা এবং নিউজরুম ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন।

এছাড়া গণসাহায্য সংস্থা, এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন, আনন্দ বিনোদন, প্রাচীন টেলিফিল্মসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার মাধ্যমে তিনি সামাজিক উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক কর্মকাণ্ডেও অবদান রেখেছেন।

সাংবাদিকতা পেশায় নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে তিনি প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এবং এমআরডিআর থেকে পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তাঁর এই নিরন্তর শেখার মানসিকতা তাঁকে একজন পরিপূর্ণ পেশাজীবীতে পরিণত করেছে।

বর্তমানে তিনি চ্যানেল আই অনলাইন এবং জাতীয় সাপ্তাহিক ঢাকা নিউজ টুয়েন্টিফোরডটকম-এ নিয়মিত লেখালেখি করছেন। তাঁর লেখায় উঠে আসে পর্যটন, সংস্কৃতি, সমাজ ও মানুষের গল্প।

সংস্কৃতি আন্দোলনের নিবেদিত কর্মী

পলাশ চৌধুরীর জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সংস্কৃতি চর্চা। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি সমাজের উন্নয়নে সংস্কৃতি অপরিহার্য শক্তি হিসেবে কাজ করে। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

তিনি শব্দ-আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং শিশুতীর্থ-আনন্দধ্বনি সঙ্গীত বিদ্যায়তনের সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া জাতীয় আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ এবং ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

আবৃত্তি, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে আলোকিত করার যে প্রয়াস তিনি চালিয়ে গেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

পর্যটন শিল্পে এক দক্ষ জনসংযোগ নেতৃত্ব

বাংলাদেশের পর্যটন খাতে জনসংযোগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। একটি আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্টের সুনাম, অতিথি সন্তুষ্টি এবং ব্র্যান্ড পরিচিতি অনেকাংশেই নির্ভর করে দক্ষ জনসংযোগ ব্যবস্থাপনার ওপর।

গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফে যোগদানের পর পলাশ চৌধুরী এই দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করে আসছেন। দেশ-বিদেশের পর্যটক, কূটনীতিক, ভিভিআইপি, সিআইপি, কর্পোরেট প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিদের সঙ্গে তাঁর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠানটির ইতিবাচক ভাবমূর্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিশেষ করে শ্রীমঙ্গলকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও সুপরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর লেখালেখি এবং জনসংযোগ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ অঞ্চলের প্রকৃতি, চা-বাগান, জীববৈচিত্র্য, সংস্কৃতি ও পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর অসংখ্য ফিচার পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

Manual2 Ad Code

সম্পর্ক গড়ার অসাধারণ ক্ষমতা

মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সেই সম্পর্ককে দীর্ঘদিন ধরে রাখার ক্ষমতা পলাশ চৌধুরীর অন্যতম বড় শক্তি। সহকর্মী, বন্ধু এবং শুভানুধ্যায়ীদের বক্তব্যেও এই বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে।

সিনিয়র সাংবাদিক শান্তা মারিয়া তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন, “কর্মক্ষেত্র বদলে যাবে, কিন্তু সম্পর্কটা চিরকালীন।” এই মন্তব্যই পলাশ চৌধুরীর ব্যক্তিত্বের এক গভীর দিককে তুলে ধরে।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য, ইংরেজি দৈনিক দ ফিনান্সিয়াল পোস্ট এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান তাঁর সম্পর্কে একান্ত আলোচনায় বলেছেন, “পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া খুব সহজ বিষয় নয়। কিন্তু পলাশ চৌধুরী তাঁর সৌজন্য, আন্তরিকতা এবং মানবিক আচরণের মাধ্যমে সেই কাজটি করে চলেছেন বছরের পর বছর।”

তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা

বর্তমান সময়ে যখন পেশাগত জীবনে দ্রুত সাফল্য অর্জনের প্রবণতা বেশি দেখা যায়, তখন পলাশ চৌধুরীর দীর্ঘ কর্মজীবন তরুণদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার উৎস। তাঁর জীবন দেখায়—অধ্যবসায়, সততা, পেশাদারিত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধ একসঙ্গে ধারণ করলে কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন সম্ভব।

সাংবাদিকতা থেকে সংস্কৃতি, সংস্কৃতি থেকে কর্পোরেট আতিথেয়তা—প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়েছেন। এ কারণেই তিনি কেবল একজন কর্মকর্তা নন; তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের মুখ, একটি অঞ্চলের পর্যটন দূত এবং সাংস্কৃতিক চেতনার ধারক।

Manual8 Ad Code

উপসংহার

তাঁর সম্পর্কে কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান আরও বলেছেন, “বাংলাদেশের সাংবাদিকতা, সংস্কৃতি ও পর্যটন খাতের এক নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে পলাশ চৌধুরীর অবদান নিঃসন্দেহে মূল্যায়নের দাবি রাখে। প্রায় চার দশকের পেশাগত অভিজ্ঞতা, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং পর্যটন শিল্পে সফল নেতৃত্ব তাঁকে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফে তাঁর তেরো বছরের সফল দায়িত্বপালন শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশের পর্যটন খাতের জন্যও একটি ইতিবাচক উদাহরণ। আগামী দিনগুলোতেও তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও মানবিক গুণাবলি দিয়ে সমাজ, সংস্কৃতি ও পর্যটন শিল্পে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন—এটাই প্রত্যাশা।

পলাশ চৌধুরীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং কর্মময় জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ