ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ অলিভার ক্রমওয়েলের ৪২২তম জন্মবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০২১

ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ অলিভার ক্রমওয়েলের ৪২২তম জন্মবার্ষিকী আজ

Manual6 Ad Code

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল ২০২১: ইংল্যান্ডের রাজার ক্ষমতা হ্রাস ও পার্লামেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধির সমর্থকদের নেতা অলিভার ক্রমওয়েলের ৪২২তম জন্মবার্ষিকী আজ।

Manual1 Ad Code

ব্রিটিশ সেনানায়ক ও রাজনীতিবিদ অলিভার ক্রমওয়েল ১৫৯৯ সালের ২৫ এপ্রিল পূর্ব ইংল্যান্ডের হান্টিংডনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম চার্লসকে ক্ষমতাচ্যুত করে স্টুয়ার্ড রাজবংশের অবসান ঘটান। সিংহাসন দখলের পর রাজা উপাধি না নিয়ে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড কমনওয়েলথের লর্ড প্রক্টেকটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটিশ ইতিহাসে বিতর্কিত ব্যক্তিদের একজন তিনি। ইতিহাসবিদদের কেউ তাকে সেনা একনায়ক, কেউবা স্বাধীনতার নায়ক হিসেবে বর্ণনা করেন। ২০০২ সালে বিবিসির ‘টেন গ্রেটেস্ট ব্রিটনস অব অল টাইম’ জরিপে তিনি একজন নির্বাচিত হন।

তার বাবা রবার্ট ক্রমওয়েল ছিলেন রানী প্রথম এলিজাবেথের সময়কার মন্ত্রিসভার সদস্য। ১৮ বছর বয়সে ক্রমওয়েল বাবাকে হারান। তার জীবনের প্রথম ৪০ বছর সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায় না। ১৬৩০ এর দশকে তিনি ধর্মীয়ভাবে প্রোট্যাস্টান ধারায় স্বাধীন পিউরিটান হয়ে উঠেন। তিনি মনে করতেন, বিজয়ের পথে ঈশ্বরই তাকে পথ দেখিয়েছেন। ১৬২৮ সালে হান্টিংডন থেকে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। ক্যামব্রিজ থেকে সংক্ষিপ্ত (১৬৪০) ও দীর্ঘমেয়াদি (১৬৪০-৪৯) সদস্য নির্বাচিত হন।

Manual2 Ad Code

ওই সময় ইংল্যান্ডের রাজা ছিলেন প্রথম চার্লস। চার্লস ছিলেন স্বেচ্ছাচারী। ফলে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ক্রমওয়েল পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এক বছরের মাথায় পার্লামেন্ট বাতিল করেন চার্লস। ফলে বিদ্রোহ আরও জোরদার হয়। হান্টিংডন অঞ্চল থেকে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন ক্রমওয়েল। ১১ বছর পর আবারও নির্বাচন হলে সদস্য নির্বাচিত হন ক্রমওয়েল। গির্জা পুনর্গঠন ও রাজার ক্ষমতা সীমিত করে একটি বিল পাসে বিশেষ অবদান রাখেন তিনি। ফলে রাজা ক্ষেপে ওঠেন ক্রমওয়েলের ওপর। পরে রাজা পার্লামেন্টের পাঁচ সদস্যকে বরখাস্ত করলে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ক্রমওয়েল ছিলেন সে কমিটির সদস্য। রাজার খামখেয়ালিপনায় দেশের অবস্থা আরও খারাপের দিকে গেলে ক্রমওয়েল একটি ছোট সেনাবাহিনী গঠন করেন।

Manual8 Ad Code

১৬৪২ সালের ২৩ অক্টোবর শুরু হয় মুখোমুখি যুদ্ধ। প্রথম দিকের যুদ্ধে জয়লাভ করে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন ক্রমওয়েল, বড় করেন সেনাবাহিনী। ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে স্কটল্যান্ডের দিকে পালিয়ে যান চার্লস। তবে স্কটল্যান্ড থেকে তাকে তুলে দেওয়া হয় ক্রমওয়েলের হাতে। আদালত চার্লসকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। রাজার মৃত্যুদণ্ডে স্বাক্ষরদাতাদের মধ্যে ক্রমওয়েল একজন।

Manual1 Ad Code

রাম্প পার্লামেন্টের (১৯৪৯-৫৩) সদস্য হিসেবে তিনি স্বল্পায়ুর কমনওয়েলথ অব ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেন। ১৬৫১ সালের মধ্যে স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডকে কমনওয়েলথে নিয়ে আসেন। এর পর দেশ শাসনের জন্য গঠন করা হয় স্টেট অব কাউন্সিল। ক্রমওয়েল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দক্ষ হাতে দেশ পরিচালনা করেন ক্রমওয়েল। নানামুখী উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মিটিয়ে ফেলেন পর্তুগালের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ। তবে ক্যাথলিকদের ওপর কঠোর ছিলেন বলে তার ওপর অভিযোগ করা হয়। ১৬৫৩ সালের ২০ এপ্রিল জোরপূবর্ক রাম্প পার্লামেন্ট ভেঙে দেন। এর বদলে মনোনীত পরিষদ নিয়ে বারেবনস পার্লামেন্ট নামে পরিচিত স্বল্পায়ুর সংসদ গঠন করেন।

ওলিভার ক্রমওয়েল ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৬৫৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মারা যান। এর কিছুদিন পরই রাজতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন তার বিচার হয়। বিচারের পর মৃত্যুদণ্ডের আদলে তার কঙ্কালকে কবর থেকে তুলে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ