গণমাধ্যম কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকার আইন প্রণয়ণের উদ্যোগ নিয়েছে

প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২২

গণমাধ্যম কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকার আইন প্রণয়ণের উদ্যোগ নিয়েছে

Manual8 Ad Code

গাজীপুর, ১৭ এপ্রিল ২০২২ : “একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে গণমাধ্যম কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার আইন প্রণয়ণ করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। এ আইন বাস্তবায়ন হলে, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার যথাযথভাবে সুরক্ষিত হবে।” বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)’র নবনির্বাচিত কমিটিকে সবংর্ধনা ও গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জিইউজে)’র বার্ষিক সাধারণ সভা-২২ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি এসব কথা বলেন।
শহরের একটি রেস্তোরাঁয় শনিবার অনুষ্ঠিত মহান স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন ও ১৯ মার্চ ’৭১ প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ শীর্ষক উক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, বিএফইউজে’র সভাপতি ওমর ফারুক। জিইউজে’র সভাপতি আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন , গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরন, প্যাানেল মেয়র আবদুল আলীম মোল্লা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, বিএফইউজে’র নির্বাহী কমিটির সদস্য নূরে জান্নাত আকতার সীমা ও আঙ্গুর নাহার মন্টি, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মানিক, ঢাকা সাংবাদিক পরিবার সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আল মামুন, জিইউজের সহসভাপতি এম.এ সালাম শান্ত ও সাধারণ সম্পাদক এস.এম. নূরুল ইসলাম।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, গণমাধ্যম কর্মী আইনটি সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদার কথা বিবেচনায় রেখেই যেন পাস করা হয়, তার উদ্যোগ নেয়া হবে। সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণে একটি ট্রাস্ট গঠন করে দিয়েছে। এই ট্রাস্টের মাধ্যমেও সাংবাদিকরা আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। করোনাকালে সাংবাদিকদের জন্য ১০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মানুষের কল্যাণে কাজ করে নিজ যোগ্যতা বলে এখন বিশ্ব নেতায় পরিণত হয়েছেন।
মূখ্য আলোচক আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশের বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও পেশাগত মর্যাদা সুরক্ষায় নিবন্ধিত সংগঠনগুলিকে আরো বেশি সুসংঠিত হতে হবে। অপসাংবাদিকতা বন্ধের পাশাপাশি অপসংস্কৃতি, অপরাজনীতি থেকে মানুষ মুক্তি চায়।
তিনি বঙ্গন্ধুর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের সূচনাকালে জয়দেবপুরের সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধের ঘটনা তুলে ধরে বলেন, অপসাংবাদিকতা রোধে প্রকৃত সাংবাদিকদের একযোগে কাজ করতে হবে। অসম্প্রাদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গঠনে ও মানুষের কল্যাণে সাংবাদিকদের কাজ করতে হবে। স্বাধীনতার বিরোধী শক্তিকে কোন ভাবেই প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন মহাপুরুষ। তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা হচ্ছেন মহাশক্তি। তিনি অপশক্তিকে নিভৃত করে, স্থিতিশীলতা বজায় রেখে বাংলাদেশকে উচ্চ শিখরে নিয়ে যাচ্ছেন।
বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল মহান স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন ও ১৯ মার্চ ’৭১ প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধুর নিদের্শে জয়দেবপুরের পথ ধরো বাংলাদেশ স্বাধীন করো এই শ্লোগান দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শুরু হয়।
তিনি বলেন, সারা বিশ্বে গণমাধ্যমের উপর মানুষের আস্থা আজ কমে যাচ্ছে। মানুষ এখন আর গণমাধ্যমকে বিশ্বাস করতে চায় না। এটা শুধু আমাদের দেশে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। ফেসবুক আর গণমাধ্যমকে এক করে, অনেকে সাংবাদিকতার পেশাকে ভিন্ন খাতে ধাবিত করছে। এছাড়া, এখনকার সংবাদপত্রগুলি ব্যক্তির প্রভাবে কারো পক্ষে লিখে, আবার কারো বিপক্ষে লিখে প্রকৃত সাংবাদিকতাকে হেয় করছে।
বিএফইউজে.র সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা সুরক্ষায় সরকারের গণমাধ্যম কর্মী আইন যদি সাংবাদিকদের কল্যাণে না আসে, তবে আইন প্রণয়ণের ক্ষেত্রে আমাদের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা ব্যর্থ হবে।
অনুষ্ঠানে বার্ষিক সাধারণ সভায় জিইউজের নেতৃবৃন্দ বিএফউজে’র অঙ্গ ইউনিয়ন হিসাবে জিইউজেকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য দাবি জানিয়ে বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি দেশের সুস্থ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে শৃংখলায় আনতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ