দ্রব্যমূল্যের দাম কমানো ও বাজেটে শ্রমজীবি মানুষের সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ১:০৩ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০২২

দ্রব্যমূল্যের দাম কমানো ও বাজেটে শ্রমজীবি মানুষের সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৭ মে ২০২২ : জাতীয় শ্রমিক জোট ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের যৌথ আয়োজনে পল্টনের মোড়ে আজ শুক্রবার (২৭ মে ২০২২) সকাল ১০টায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবনা প্রত্যাহার, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমানো ও আসন্ন জাতীয় বাজেটে শ্রমজীবি মানুষের সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বিশ্ব ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং জাতীয় শ্রমিক জোট সভাপতি মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক জোটের কার্যকরী সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে আজাদ, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য অলক দাশগুপ্ত, জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, জাতীয় শ্রমিক জোটের সহ-সভাপতি সালেহা ইসলাম শান্তনা।
মানববন্ধনের ঘোষণা উপস্থাপন করেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট পারভেজ হাসেম।
মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ।
মানববন্ধনে আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে নিম্নোক্ত দাবী জানানো হয় :
১. চাল, ডাল, আটা, ময়দা, পেয়াজ, রসুন, ভোজ্য তেল সহ সকল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমাতে হবে।
২. বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে হবে।
৩. জাতীয় ন্যুনতম মজুরী ২০,০০০ টাকা ঘোষণা করতে হবে।
৪. শ্রমজীবী মানুষদের জন্য স্থায়ী রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৫. বিদ্যুৎ, গ্যাসখাতসহ সরকারি বেসরকারি পর্যায়ের সকল উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. অর্থ পাচারকারী, ঋনখেলাপীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
৭. কুইক রেন্টালসহ অপ্রয়োজনীয় সকল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করতে হবে।
৮. সংখ্যালঘু ও আদিবাসী নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।
৯. নারী-শিশু নির্যাতন ও পাচার বন্ধ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনার বিপর্যয় কেটে না উঠতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী জটিল পরিস্থিতিকে আরো জটিলতর করে তুলেছে। প্রায় তিন মাস থেকে চলা এই যুদ্ধ কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা কারো জানা নেই। ইতোমধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানী তেলের মূল্যের বৃদ্ধি ও তার প্রভাবে নতুন করে উৎপাদন, বন্টন, বাণিজ্য সহ বিশ্বব্যাপী জনজীবনে অন্ধকার নেমে এসেছে। জ্বালানীর তেলের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে সব ধরনের ভোগ্য পণ্য পৃথিবীর সর্বত্রই দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। আমাদের দেশেও এর প্রভাবে লাগাতারভাবে দ্রব্যমূল্য বিশেষ করে, ভোজ্য তেল, চাল, ডাল, আটা, ময়দা সহ সকল পণ্যের দাম বৃদ্ধি জনজীবকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষগুলো পরিবার পরিজন নিয়ে এখন দিশেহারা। মানুষের মোট আয়ের উপর দ্রব্য মূল্যের প্রভাব পড়ায় সর্বত্র অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অন্যদিকে এক শ্রেণীর অসাধু মজুতদার কালোবাজারী ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মজুত বৃদ্ধি করে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরী করে নিজেদের হীন স্বার্থ হাসিল করছে।
সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে আজাদ বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের নিয়ন্ত্রণহীন দাম বৃদ্ধির পরিস্থিতিতে দেশে ইতোমধ্যে বিদ্যুতের দাম ৫৮ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাবনা দেশবাসীকে হতাশ করেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি) এর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দেশের অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী সহ সকল শ্রেণী পেশার প্রতিনিধি নানাভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। মূলত: বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সাথে সকল ধরণের উৎপাদন, বন্টন, বাণিজ্য সহ সমাজের সর্বস্তরে বিরূপ প্রভাব পড়বে। দেশে এক ধরণের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরী করবে। বর্তমান সময়ে জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির এই প্রস্তাবনা জাতীয় আত্মহত্যার সামিল হিসেবে পরিগণিত হবে। আমরা এই প্রস্তাবনা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখতে গিয়ে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সালেহ আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে দেশে অস্থিরতা তৈরী করার হীন প্রচেষ্টা চালানো হয়, সমাজের দুর্বল জনগোষ্ঠী বিশেষ করে সংখ্যালঘু, আদিবাসীদের উপর নিপীড়নের খড়গ নেমে আসে। এমনকি সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। আমাদের এখন থেকে সেই সব বিষয়ে অধিকতর সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপক্তা নিশ্চিত করতে হবে। আসন্ন জাতীয় বাজেটে সমাজের দুর্বল জনগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের সামাজিক নিরাপত্তা সুরক্ষায় বরাদ্দ রাখতে হবে।

Manual6 Ad Code

সমাবেশের ঘোষণায় বলা হয়,
চাল, ডাল, ভোজ্য তেল সহ সকল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমাও, গ্যাস ও বিদ্যুতের প্রস্তাবিত দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহার কর, আসন্ন বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বরাদ্দ বাড়াও।

Manual5 Ad Code

মানববন্ধনের ঘোষণা
বৈশ্বিক মহামারী করোনার রাহুগ্রাসে বিশ্বব্যাপী জনজীবন বিপর্যস্ত। কর্মহীনতা, উৎপাদন, বন্টন, বাণিজ্য সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি ৬০ লক্ষের অধিক মানুষের জীবনহানি ঘটনা মানব ইতিহাসে সবচেয়ে বেদনাদায়ক সময় বলে বিবেচিত হবে। করোনার বিপর্যয় কেটে না উঠতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী জটিল পরিস্থিতিকে আরো জটিলতর করে তুলেছে। প্রায় তিন মাস থেকে চলা এই যুদ্ধ কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা কারো জানা নেই। ইতোমধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানী তেলের মূল্যের বৃদ্ধি ও তার প্রভাবে নতুন করে উৎপাদন, বন্টন, বাণিজ্য সহ বিশ্বব্যাপী জনজীবনে অন্ধকার নেমে এসেছে। জ্বালানীর তেলের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে সব ধরনের ভোগ্য পণ্য পৃথিবীর সর্বত্রই দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। আমাদের দেশেও এর প্রভাবে লাগাতারভাবে দ্রব্যমূল্য বিশেষ করে, ভোজ্য তেল, চাল, ডাল, আটা, ময়দা সহ সকল পণ্যের দাম বৃদ্ধি জনজীবকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষগুলো পরিবার পরিজন নিয়ে এখন দিশেহারা। মানুষের মোট আয়ের উপর দ্রব্য মূল্যের প্রভাব পড়ায় সর্বত্র অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অন্যদিকে এক শ্রেণীর অসাধু মজুতদার কালোবাজারী ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মজুত বৃদ্ধি করে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরী করে নিজেদের হীন স্বার্থ হাসিল করছে। নিত্য পণ্যের নিয়ন্ত্রণহীন দাম বৃদ্ধির পরিস্থিতিতে দেশে ইতোমধ্যে বিদ্যুতের দাম ৫৮ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাবনা দেশবাসীকে হতাশ করেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি) এর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দেশের অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী সহ সকল শ্রেণী পেশার প্রতিনিধি নানাভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। মূলত: বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সাথে সকল ধরণের উৎপাদন, বন্টন, বাণিজ্য সহ সমাজের সর্বস্তরে বিরূপ প্রভাব পড়বে। দেশে এক ধরণের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরী করবে। এমনিতেই করোনা বিপর্যয়ে ৩ কোটির উপর মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে নেমে এসেছে বলে গবেষকরা বলেছেন। অন্যদিকে প্রায় ৭১ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে, ৪১ শতাংশ শ্রমজীবী মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার কেনার ক্ষমতা হারিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়। করোনা মোকাবেলায় আমাদের দেশের সফলতার দিকটি ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলেও শ্রমজীবী মানুষকে বঞ্চিত করে করোনাকালীন সময়ে সরকারের নানা ধরণের প্রণোদনার সুযোগে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে স্বীয়স্বার্থ হাসিল করেছেন। এতে দেশের ভাবমুর্তিও ক্ষুন্ন হয়েছে। এর বিপরীতে মাথাপিছু গড় আয় ইতোমধ্যে ২৮২৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে, আর করোনাকালীন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ১৭ হাজার নতুন কোটিপতি বেড়েছে বলে জানা যায়। বৈষম্য, শোষণ, বঞ্চনাহীন গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ৩০ লক্ষ শহীদানের আত্মদানের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ৫১ বছর পার হলেও শোষণ, বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা অর্জন এখনো সম্ভব হয়ে উঠেনি। এখানে প্রতিনিয়ত বৈষম্যের পাহাড় তৈরী হচ্ছে। স্বাধীনতা উত্তর ৫১তম বাজেটকে সামনে রেখে আমরা বলতে চাই, দেশের মালিক জনগণ। দেশের প্রায় ৭ কোটি শ্রমজীবী মানুষ। জনগণের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ট্যাক্সের টাকায় রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। আমরা আশা করবো আসন্ন বাজেটে দেশের শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক মর্যাদা, নিরাপত্তা, নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই বাজেটে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপিত হবে। বিশেষ করে সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষদের পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা ও দেশের বাহিরে কর্মরত প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী শ্রমিকদের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে এবারের বাজেট কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে ভবিষ্যৎ জাতীয় অগ্রযাত্রাকে সমুন্নত রাখা ও শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে নিম্নোক্ত দাবী জানাচ্ছি :-
১. চাল, ডাল, আটা, ময়দা, পেয়াজ, রসুন, ভোজ্য তেল সহ সকল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমাতে হবে।
২. বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে হবে।
৩. জাতীয় ন্যুনতম মজুরী ২০,০০০ টাকা ঘোষণা করতে হবে।
৪. শ্রমজীবী মানুষদের জন্য স্থায়ী রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
৫. বিদ্যুৎ, গ্যাসখাতসহ সরকারি বেসরকারি পর্যায়ের সকল উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. অর্থ পাচারকারী, ঋনখেলাপীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
৭. কুইকরেন্টালসহ অপ্রয়োজনীয় সকল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করতে হবে।
৮. সংখ্যালঘু ও আদিবাসী নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।
৯. নারী-শিশু নির্যাতন ও পাচার বন্ধ করতে হবে।

Manual4 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ