মনে হচ্ছে আমাদের সমাজে শিক্ষকের আর কোনো প্রয়োজন নেই

প্রকাশিত: ৯:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২২

মনে হচ্ছে আমাদের সমাজে শিক্ষকের আর কোনো প্রয়োজন নেই

Manual7 Ad Code

মীরা মেহেরুন |

পূর্বাপর শিক্ষকদের ওপর যে ঘটনা গুলো ঘটছে–মনে হচ্ছে আমাদের সমাজে শিক্ষকের আর কোনো প্রয়োজন নেই।

দুচারটে মুক্তবুদ্ধি সম্পন্ন প্রগতিশীল পরিবার ব্যতিরেকে এ সমাজের অধিকাংশ কোমলমতি শিশু–পরিবার, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ, মক্তব, মাদ্রাসা থেকে যে শিক্ষা গ্ৰহণ করে সেই শিক্ষাই তাদের বাকী জীবনের পথ পরিক্রমণে সর্বোতভাবে প্রভাবিত করে। এরা বিজ্ঞান পড়ে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার অথবা কর্মসংস্থানের জন্য কিন্তু বিজ্ঞানে বিশ্বাস করে না বলে বিজ্ঞান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে। এরা মুসলিম ব্যতীত যে কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণার শিক্ষা থেকে অমুসলিম শিক্ষক বা মহান কোনো মানুষ হোন তাদের প্রতি যে কোনো ধরনের ঘৃণ্য লাঞ্ছনা থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পিছ পা হয়না কারণ এর বিনিময়ে তাদের জন্য রয়েছে ৭২ হুর, শুরাসহ নানা রকমের অভাবনীয় লোভনীয় পুরস্কার।

Manual6 Ad Code

সমাজে প্রতিষ্ঠিত অনেক নামিদামি সার্জন নিজে অপারেশন করেন আর মুখে বলেন ” আল্লাহর কৃপায় আলহামদুলিল্লাহ রোগী সুস্থ হয়ে যাবেন।” তিনি রোগীকে অপারেশন টেবিলে না নিয়ে পরম করুণাময় আল্লাহর কৃপায় রোগীকে ছেড়ে দিয়ে পরীক্ষা করে দেখতেন আল্লাহ প্রকৃতই কৃপা করে কিনা!

Manual2 Ad Code

ইদানিং লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো সনাতন ধর্মের শিক্ষকরা কোনো এক গোষ্ঠীর লাঞ্ছনা ও হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছেন–যা সামাজিক অসহনশীলতা ও অবক্ষয়ের এক চরম দৃষ্টান্ত! যে শিক্ষা শিশুকে অন্য ধর্মীয় গোত্রের প্রতি অসহনশীল–হন্তারক, ধর্ষক, নিপীড়ক, বেয়াদব হতে শেখায় সে শিক্ষা থেকে বেরিয়ে মানবিক ও কর্মমুখী ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে একটি উন্নত প্রযুক্তি ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গঠনের বিষয়টি ভাবা জরুরি। না হলে শিক্ষক মারতে মারতে, লাঞ্ছিত করতে করতে এ সমাজ একদিন শিক্ষক শুন্য এক অভিশপ্ত জাতি–সমাজে পরিণত হবে।

আগামীতে শিক্ষকতা পেশার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় কেউ অংশগ্রহণ করবে কিনা তাও ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

Manual1 Ad Code

???????

Manual3 Ad Code