৭৮৬ কোটি টাকার প্রথম বাজেট থেকে এখন তা ৭২৩ গুণ বেড়ে হচ্ছে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা মতো

প্রকাশিত: ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ১১, ২০২০

৭৮৬ কোটি টাকার প্রথম বাজেট থেকে এখন তা ৭২৩ গুণ বেড়ে হচ্ছে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা মতো

Manual7 Ad Code

ঢাকা, ১১ জুন ২০২০ : স্বাধীন বাংলাদেশে তাজউদ্দীন আহমদ ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করে ১৯৭২ সালে যে যাত্রার সূচনা করেছিলেন, সেই পথ ধরে বাংলাদেশের ৪৯তম বাজেট নিয়ে আসছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল, যার আকার হতে পারে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা মতো।

এই হিসেবে ৪৯ বছরে বাংলাদেশের সরকারি ব্যয়ের ফর্দ বাড়ছে প্রায় ৭২৩ গুণ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২০ ২১ অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল; তা পাস হবে ৩০ জুন। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।

কোভিড-১৯ মহামারীর উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে এবার একেবারেই ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অর্থমন্ত্রী সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন।

বুধবার শুরু হয়েছে বাজেট অধিবেশন। এবার বাজেট অধিবেশন হবে খুবই সংক্ষিপ্ত। ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে সব সংসদ সদস্যও এতে অংশ নেবেন না।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সামরিক থেকে গণতান্ত্রিক বিভিন্ন সরকারে ১২ জন অর্থমন্ত্রী (অর্থ উপদেষ্টা অথবা সামরিক আইন প্রশাসক) ৪৭টি বাজেট উপস্থাপন করেছেন এর আগে।

মুস্তফা কামাল গত বছরের ১৩ জুন তার প্রথম বাজেট (২০১৯-২০ অর্থবছর) উপস্থাপন করেছিলেন। বৃহস্পতিবার উপস্থাপন করবেন দ্বিতীয় বাজেট।

Manual4 Ad Code

সংসদে সমান ১২ বার বাজেট পেশ করে রেকর্ড করেছেন প্রয়াত এম সাইফুর রহমান এবং আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে টানা ১০টি বাজেট দেওয়ার রেকর্ড শুধু মুহিতের।

শেখ হাসিনার সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে টানা ১০টিসহ মোট ১২টি বাজেট পেশ করেছেন মুহিত। এর আগে তিনি এইচ এম এরশাদের সামরিক সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-১৪ এই দুই অর্থবছরের বাজেট দিয়েছিলেন।

Manual3 Ad Code

বাংলাদেশের বাজেট উপস্থাপনে একটি স্থানে এখনও অনন্য তাজউদ্দীন আহমদ। কারণ, তিনি ছিলেন দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিবিদ, যিনি সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী মোট যে ১৩ জন অর্থমন্ত্রী বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, তাজউদ্দীন ছাড়া বাকিরা ছিলেন হয় অবসরপ্রাপ্ত আমলা, সেনা কর্মকর্তা, অথবা অর্থনীতিবিদ বা ব্যবসায়ী। এরা কেউই পরিপূর্ণ রাজনীতিবিদ ছিলেন না।

এক অর্থবছরে দুবার বাজেট উপস্থাপনের উদাহরণও আছে বাংলাদেশে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। এর পরে নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব নিয়ে মূল আর্থিক কাঠামো ঠিক রেখে নতুন করে বাজেট উপস্থাপন করেন শাহ এ এম এস কিবরিয়া।

বাজেট যে শুধু অর্থমন্ত্রী বা অর্থ উপদেষ্টা দিয়েছেন তা কিন্তু নয়। জিয়াউর রহমান সামরিক শাসক হিসেবে তিনটি বাজেট উপস্থাপন করেন।

তাজউদ্দীন আহমদ তিনটি, এএমএস কিবরিয়া ছয়টি, এম সাইদুজ্জামান চারটি বাজেট দেন। অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম দুটি এবং ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ একটি বাজেট পেশ করেন।

এরশাদ সরকারের দুই অর্থমন্ত্রী এমএ মুনিম দুটি এবং ওয়াহিদুল হক একটি বাজেট উপস্থাপন করেন।

বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে মীর্জা নুরুল হুদা একটি বাজেট দেন। খন্দকার মোশতাক সরকারের আমলে দেশের প্রথম টেকনোক্র্যাট অর্থমন্ত্রী হিসেবে ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরের বাজেট দেন এ আর মল্লিক।

চার মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের চারজন অর্থমন্ত্রী ২০টি বাজেট দিয়েছেন।

Manual6 Ad Code

বিএনপির তিন মেয়াদের শাসন আমলে তিনজন ১৬টি বাজেট উপস্থাপন করেছেন।

Manual5 Ad Code

জাতীয় পার্টির আমলে নয়টি বাজেট চারজন অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন। তিনটি বাজেট দিয়েছে দুটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ। এই তিন মেয়াদের প্রথম অর্থাৎ ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা, নতুন বাজেটে তা ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার মতো হতে যাচ্ছে।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ