ঐতিহাসিক ‘শিক্ষা দিবস’ আজ

প্রকাশিত: ১:০২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৪

ঐতিহাসিক ‘শিক্ষা দিবস’ আজ

Manual8 Ad Code

ঐতিহাসিক প্রতিবেদক| ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ : ছাত্র জনতার সংগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক মহান শিক্ষা দিবস আজ।

১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি শাসন, জাতিগত নিপীড়ন, শোষণ ও শিক্ষা সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুলসহ নাম না-জানা অনেকেই। তাদের স্মরণে এই দিনকে শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

Manual4 Ad Code

৬২’র শিক্ষা আন্দোলন জনগণের সংগ্রামের এক যুগান্তকারী এক ইতিহাস। তৎকালীন পাকিস্তানী সামরিক স্বৈরাচার আইয়ুব খানের চাপিয়ে দেয়া শরীফ কমিশনের অগণতান্ত্রিক ও শিক্ষার্থী স্বার্থবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজের আন্দোলনের ৬২তম বার্ষিকী। ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণআন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতিবিজড়িত এই দিবস।
স্বৈরশাসক আইয়ুব খান ক্ষমতা দখলের মাত্র ২ মাস পর ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। শরীফ কমিশন নামে খ্যাত এসএম শরীফের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন পেশ করে।

১৯৫৯ সালে প্রেসিডেন্ট ও সামরিক শাসক আইয়ুব খান তৎকালীন শিক্ষা সচিব এসএম শরিফকে চেয়ারম্যান করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। ওই কমিশন পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর লক্ষ্য ও স্বার্থের প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি গণবিরোধী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে। ১৯৬২ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে আইয়ুব সরকার এই কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

Manual4 Ad Code

এই তথাকথিত শিক্ষানীতিতে যে সকল বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছিল তার মধ্যে ছিল- শিক্ষাকে ব্যয়বহুল পণ্যের মতো শুধু উচ্চবিত্তের সন্তানদের স্বার্থে উচ্চ শিক্ষাকে সীমিত করা এবং সাধারণের জন্য উচ্চ শিক্ষার সুযোগ একেবারেই সঙ্কুচিত করা, শিক্ষা ব্যয়কে পুঁজি বিনিয়োগ হিসেবে দেখা ও শিক্ষার্থীদের ওপর তা চাপিয়ে দেয়া, যে অভিভাবক বেশি বিনিয়োগ করবেন তিনি বেশি লাভবান হবেন, অবৈতনিক শিক্ষার ধারণাকে- ‘অবাস্তব কল্পনা’ বলে উল্লেখ করা, ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে ডিগ্রী পর্যন্ত ইংরেজী পাঠ বাধ্যতামূলক, উর্দুকে জনগণের ভাষায় পরিণত করা, সাম্প্রদায়িকতাকে কৌশলে জিঁইয়ে রাখার চেষ্টা, ডিগ্রী কোর্সকে তিন বছর মেয়াদী করা ইত্যাদি।

১৯৬২ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের চাপিয়ে দেয়া অগণতান্ত্রিক ও ছাত্র স্বার্থবিরোধী এ শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ তীব্র আন্দোলন ও সংগ্রাম গড়ে তোলে। গণবিরোধী শিক্ষানীতি বাতিল করে সকলের জন্য শিক্ষার অধিকার ও সুযোগ প্রতিষ্ঠা এবং একটি গণমুখী বিজ্ঞানমনস্ক অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সহজলভ্য আধুনিক শিক্ষানীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা অর্জনের লক্ষ্যে ছাত্র সমাজ আন্দোলন জোরদার করে। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনের পটভূমিতে আইয়ুবের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আগস্ট থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। ব্যাপক বিক্ষোভ ও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্র সমাজের আন্দোলনের প্রতি সাধারণ জনগণের সহানুভূতি ও সমর্থন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৯৬২ সালের এই দিনে ছাত্ররা শিক্ষাকে পণ্য করার ওই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে মিছিল বের করলে হাইকোর্টের সামনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শহীদ হন মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজীউল্লাহসহ অনেকে। সেই থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠন প্রতিবছর এ দিনটিকে মহান শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

Manual8 Ad Code

তৎকালীন প্রতিক্রিয়ায়
১৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী হরতাল কর্মসূচির পরে সারা দেশে জোর প্রতিক্রিয়া ঘটে। স্বৈরশাসক আইউব খানের রোষানলে পড়েন ছাত্র ইউনিয়নসহ ছাত্র ও যুব নেতৃবৃন্দ। ১৯৬৪ সালে হুলিয়া জারি হয় ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের নয়জন ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে। তারা হলেন রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর খান রনো, সিরাজুল আলম খান, কেএম ওবায়দুর রহমান, বদরুল হায়দার চৌধুরী, শাহ মোয়াজ্জেম, রেজা আলী, গিয়াস কামাল চৌধুরী এবং আইউব রেজা চৌধুরী।

উদযাপন ও কর্মসূচি
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে গণ ছাত্র সমাবেশ শিক্ষা অধিকার চত্বরে শিক্ষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা ও মিছিল।

Manual6 Ad Code