খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী ‘খাসি সেং কুটস্নেম’ উৎসব এবার হচ্ছে না

প্রকাশিত: ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০২৪

খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী ‘খাসি সেং কুটস্নেম’ উৎসব এবার হচ্ছে না

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার), ০৯ নভেম্বর ২০২৪ : খাসিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বর্ষ বিদায় ও নতুন বর্ষবরণ ‘খাসি সেং কুটস্নেম’ উৎসব অনুষ্ঠান এবছর আয়োজন করা হচ্ছে না। প্রতি বছর ২৩ নভেম্বর নাচে গানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

Manual2 Ad Code

পানের ব্যবসায় মন্দা ও আর্থিক সংকটের কারণে এবার ১২৫তম বর্ষ বিদায় ও নতুন বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি জিডিশন প্রধান সুছিয়াং (করডর) ও আদিবাসী নেতা পিলা ফতমী।

প্রতি বছরের ২৩ নভেম্বর দিনব্যাপী কমলগঞ্জের মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির খেলার মাঠে খাসিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী এ বর্ষবিদায় ও নতুন বর্ষবরণ অনুষ্ঠান (খাসিয়া উপজাতির ভাষায় ‘খাসি সেং কুটস্নেম’ (Khasi Seng Kutsnem) অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

খাসিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৭০টি খাসিয়া পুঞ্জির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সেং কুটস্নেম বা বর্ষ বিদায় খাসিয়াদের একটি সার্বজনীন উৎসব। প্রাচীন খাসিয়া সমাজে দেবতার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশের মধ্য দিয়েই এ উৎসব পালিত হয়। প্রতি বছরের ন্যায় এবার কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া পুঞ্জিতে নানা সমাহারে এ উৎসবের আয়োজন হবে না। তবে ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটির তাৎপর্য ও এর ইতিহাস সম্পর্কে আলোচনা সভা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।

নতুন বর্ষবরণ ও বর্ষ বিদায় অনুষ্ঠানে খাসিয়ারা তাদের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে আদি পাহাড়ি নৃত্য ও গান পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি তাদের জীবিকার প্রধান উৎসব জুম চাষের এবং জীবন-জীবিকার বিভিন্ন পদ্ধতি নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। উৎসব উপলক্ষে খাসি সোশ্যাল কাউন্সিল বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে।

সেং কুটস্নেম উৎসবের দিনব্যাপী সবাই মিলে মাছ শিকার, ঐতিহ্যগত খেলাধুলা, ঐতিহ্যগত পোষাক পরিধান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসহ ঐতিহ্যবাহী খাবার খেয়ে তারা আনন্দ ফুর্তি করে নিজেদের সামাজিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হন।

সেং কুটস্নেম উপলক্ষে সকাল থেকে আলিয়াছড়া বা মাগুরছড়া পুঞ্জির মাঠে বসে ঐতিহ্যগত মেলা। মেলায় খাসিয়া জনগোষ্ঠীর লোকেরা বসেন বাহারি পণ্যের পসরা নিয়ে। বিভিন্ন স্টলে খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, পান, তীর, ধনুকসহ বাঁশ-বেতের জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখা হয়। খাসিয়া তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি, বাংলাদেশে খাসিয়াদের প্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা ও পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য বর্ষ বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

Manual8 Ad Code

খাসিয়া সম্প্রদায়ের পাশাপাশি এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বাঙালি ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষসহ দেশী-বিদেশী পর্যটকরা অংশগ্রহণ করেন।

Manual5 Ad Code

পানের ব্যবসায় মন্দা ও আর্থিক সংকটের কারণে খাসিয়া সম্প্রদায় তাদের ১২৫তম বর্ষ বিদায় ও নতুন বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করতে না পারার বিষয়টিকে কীভাবে নিচ্ছেন, এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, সাপ্তাহিক নতুন কথার বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, “খাসিয়াসহ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা এবং তাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ ও চর্চাকে অব্যাহত রাখতে এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও তাদের উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি।”

Manual6 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ