শ্রীমঙ্গলের আলোর দিশারী পাঠাগার চারবছর পূর্ণ করলো আজ

প্রকাশিত: ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৫

শ্রীমঙ্গলের আলোর দিশারী পাঠাগার চারবছর পূর্ণ করলো আজ

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১১ জুন ২০২৫ : চা বাগানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠিত শ্রীমঙ্গলের আলোর দিশারী পাঠাগার চারবছর পূর্ণ করলো আজ।

Manual3 Ad Code

২০২১ সালের ১১ জুন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট চা বাগানে এ পাঠাগারটি উদ্বোধন করা হয়েছিলো। শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুদর্শন শীল এবং টিআইবি’র শ্রীমঙ্গল-এর তৎকালীন এরিয়া কো-অর্ডিনেটর ও উন্নয়নকর্মী পারভেজ কৈরীর একান্ত অনুপ্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতায় এবং কালিঘাটের সামাজিক সংগঠন ‘আলোর দিশারী’-এর সার্বিক সহযোগিতায় এ পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাত্র ৫০টি বই দিয়ে এ পাঠাগারটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে পাঠাগারটিতে বইয়ের সংখ্যা ৪৫০টিরও বেশি। এটি উদ্বোধনের পর থেকেই বিভিন্ন সংগঠন ও পাঠাগার প্রেমী মানুষজন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিভিন্ন সময় পাঠাগারটি পরিদর্শন করেছেন সমাজের গুণীজনেরা। সমাজের বিভিন্ন প্লাটফরম থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন অনেকেই। বইয়ের পাশাপাশি পাঠাগারটিতে এখন যুক্ত হয়েছে একটি একটি জাতীয় দৈনিক। সাথে আরো যুক্ত হয়েছে একটি কম্পিউটার। সমাজের পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা এখন নিয়মিত বই পড়ার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার সুযোগও পাচ্ছে এই পাঠাগারে। বর্তমানে সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া এবং সুবিধা বঞ্চিত চা শ্রমিকদের এ জনগোষ্ঠী মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সাধারণ শিক্ষা বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষার সুফল এখনো এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে আসে নাই। চা বাগানের এ জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা এখনো চাকুরির পরীক্ষাগুলোতে, বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে ভালো করতে না পারার কারণে তারা সরকারি চাকুরী থেকে বঞ্চিত হয়। গাইডলাইনের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কিভাবে ভর্তি হতে হয় বা প্রস্তুতি কিভাবে নিতে হয়, ভতি পরীক্ষায় পড়ার জন্য বইয়ের অভাবের কারণে চা বাগানের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ছে। এর মূলকারণ হলো যথেষ্ট প্রস্তুতি এবং বই পড়ার মতো চা বাগানে অনুকুল পরিবেশের অভাব।

স্কুল কলেজের সিলেবাস ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোর জন্য বই কিনে লেখাপড়া করার মতো যথেষ্ট টাকা পয়সা তাদের নেই। এরজন্য প্রতিটি চা বাগানে দরকার একটি করে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে সাহিত্য চর্চা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য চা শ্রমিক সন্তানরা নিজেদের গড়ে তুলতে পারবেন।

অতিমাত্রায় প্রযুক্তিনির্ভরতা চা বাগানের শিক্ষার্থীদের আচরণেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিশু-কিশোর ও তরুণদের সংকীর্ণ গণ্ডি থেকে বের করতে পারে একমাত্র পাঠাগার। মূলত এই উদ্দেশ্য নিয়েই পাঠাগারটির যাত্রা শুরু হয়েছিলো ২০২১ সালে।

চার বছরে পাঠাগারটির বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অর্জনও রয়েছে। আলোর দিশারী পাঠাগারে বই পড়ার সহযোগিতায় কালিঘাট চা বাগানের ছাত্র রিপন তাঁতী ২০২২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করেন এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আছেন। আলোর দিশারী পাঠাগারে বইপড়ার সহযোগিতায় কালিঘাট চা বাগানে ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় দুইজন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। আলোর দিশারী পাঠাগারে বই পড়ার সহযোগিতায় কালিঘাট চা বাগানের দুইজন শিক্ষার্থী অজয় তাঁতী এবং অসীম তাঁতী পাঠাগারে পড়াশোনা করে সিলেট ইনস্টিটিউটি অব হেলথ টেকনোলজিতে পড়াশোন করছেন।

Manual8 Ad Code

এর উদ্দেশ্য হচ্ছে –

Manual7 Ad Code

১. চা বাগানের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বইপড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা
২. চা বাগানের গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ্য বইয়ের অভাব পূরণ করা
৩. চা বাগানের চাকুরী প্রত্যাশী ছাত্র-ছাত্রীদের প্রস্তুতি নিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা
৪. পরিশীলিত জীবন গঠনের লক্ষ্যে সমৃদ্ধশালী পাঠাগার স্থাপন ও জনগণের পাঠসেবা প্রদান
৫. চা বাগানের মানুষের জন্য বইপড়ার মাধ্যমে সুস্থ্য অবসর বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করা
৬. বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মাদক ও বদঅভ্যাস ত্যাগে সহায়তা করা
৭. পাঠ্যবই পড়ার পাশাপাশি চা বাগানের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা, বিজ্ঞান চিন্তা এবং প্রযুক্তিগত চিন্তার বিকাশ ঘটানো।
৮. চা বাগানের নতুন প্রজন্মের মধ্যে বইপড়া আন্দোলন বেগবান করা।

সবশেষে বলতে চাই কোন প্রচেষ্টা ক্ষুদ্র নয়। আমরা স্বপ্ন দেখি শ্রীমঙ্গলের কালিঘাটের মতো প্রতিটি চা বাগানেই একটি করে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা। এরজন্য দরকার শুধুমাত্র সমাজের সুধীজনদের একটু সহযোগিতা। পাঠাগারটির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যারা অনুপ্রেরণা দিয়েছেন তাদেরকে ধন্যবাদ দিতে চাই। পাঠাগারটিতে এখন শ্রীমঙ্গল শহর থেকেও শিক্ষার্থীরা পড়তে যায়। আলোর দিশারী পাঠাগারটি সত্যিই আজ আলো ছড়াচ্ছে। আজ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শুভকামনা থাকলো পাঠাগারটির সকল পাঠকদের প্রতি। একইসাথে শুভকামনা থাকলো আলোর দিশারী সামাজিক সংগঠনের অন্যতম কর্নধার পরিতোষ ও মনোজসহ সকল সদস্যদের প্রতি, যাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আজ পাঠাগারটি আলো ছড়াচ্ছে। #

 

 

Manual4 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ