সাংবাদিকদের আর্থিক সুরক্ষা খুব দরকার: শ্রীমঙ্গলে প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান

প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৫

সাংবাদিকদের আর্থিক সুরক্ষা খুব দরকার: শ্রীমঙ্গলে প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান

Manual3 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ : বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম বলেছেন, ‘সংবাদপত্রে কাজ করেও শেষ জীবনে নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে অনেককে শূন্য হাতে ফিরতে হয়। কারো কারো বেলায় দেখা যায়, কোনো নিয়োগপত্রও দেওয়া হয় না, সাংবাদিকতার শপথনামা নেই এবং কেউ কেউ বিনা বেতনে কাজ করে জীবন পার করে দেন। আইনগত ন্যূনতম সুযোগ সুবিধাও পান না। সাংবাদিকরাও এসব ব্যাপারে সচেতন না। দেশে গণমাধ্যমের এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের আর্থিক সুরক্ষা খুব দরকার।’

Manual7 Ad Code

শ্রীমঙ্গলে গণমাধ্যমের অপ-সাংবাদিকতা প্রতিরোধ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন শীর্ষক বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সেমিনার ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম

Manual5 Ad Code

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সকাল ১০টায় শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো.সাখাওয়াত হোসেনের সঞ্চালনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সভায় প্রেস কাউন্সিলের সচিব (উপসচিব) আবদুস সবুর রিসোর্স পারসন হিসেবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারে প্রেস কাউন্সিল প্রণীত আচরণবিধি প্রতিপালনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল থানার উপ- পরিদর্শক নৃপেন্দ্র বিশ্বাস।

এসময় ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট’ ও সাপ্তাহিক নতুন কথা’র বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান এবং শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আ ফ ম আব্দুল হাই ডন সহ শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব ও উপজেলা প্রেসক্লাবের অর্ধ শতাধিক প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এ সেমিনার ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম আরও বলেন, ‘সাংবাদিকতার পেশাকে অবশ্যই দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। গণমাধ্যমকে অবশ্যই নিজস্ব মতামত প্রচার-প্রকাশকে বর্জন করতে হবে। সাংবাদিকদের মর্যাদা নিশ্চিত করা না গেলে গণমাধ্যমকে কার্যত রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভে পরিণত করা যাবে না।’

দেশের সাংবাদিক সমাজে বিভাজনের বিষয়ে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই একাধিক প্রেসক্লাব দেখছি।
সিলেটে আটটি প্রেসক্লাব রয়েছে। যশোরে ১৮টি প্রেস ক্লাবের তথ্য পেয়েছি। সুনামগঞ্জে সাতটি প্রেসক্লাব। শ্রীমঙ্গল আর মৌলভীবাজার এর ব্যতিক্রম।
অথচ প্রেসক্লাব হলো একটি সামাজিক সংগঠন, যেখানে সাংবাদিকরা মিলিত হবেন, মতবিনিময় করবেন, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্য গড়ে তুলবেন। প্রেসক্লাবের সদস্য ছাড়াও সাংবাদিকতা করতে বাধা নেই। অতিরিক্ত বিভাজন পেশাদারি সাংবাদিকতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সাংবাদিকদের উচিত পেশাদারী দায়িত্বের প্রতি অধিক মনোযোগী হওয়া এবং নিজ দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন করা।’

Manual5 Ad Code

বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম আরও বলেন, অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধে সাংবাদিকদের তালিকা প্রনয়নের কাজ চলছে। এজন্য সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিগ্রি পাস রেখে নীতিমালা প্রণয়ন করে সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, হলুদ সাংবাদিকতা সমাজের দুষ্ট ক্ষত। তা রোধ করতে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চা করতে হবে।
সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সংবাদ পরিবেশন করার আহবান জানিয়ে প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম সচেতনতা ও দক্ষতা অর্জনে সাংবাদিকদের পড়াশোনা করার উপর জোর দেন।

এতে অপ-সাংবাদিকতা পরিহার করে দায়িত্বশীল ও পেশাদারী সাংবাদিকতা চর্চায় প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৯৭৪ এর প্রয়োগ, সাংবাদিকদের অনুসরণীয় আচরণ বিধি ২০০২ সালের সংশোধিত ২৫টি ধারা ও সাংবাদিকদের অধিকার বিষয়ক প্রেস আপিল বোর্ড বিষয়ক আলোচনা করা হয়।

Manual5 Ad Code

এ সেমিনার ও মতবিনিময় সভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার প্রতিনিধি ও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর সালাউদ্দিন, দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ ছায়েদ আহমেদ, দৈনিক খোলা কাগজের প্রতিনিধি ও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এহসান বিন মুজাহির।

#

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ