ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দানবীয় হামলা, ভাংচুর-লুটপাট — কমরেড মনির আটক

প্রকাশিত: ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০২৫

ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দানবীয় হামলা, ভাংচুর-লুটপাট — কমরেড মনির আটক

Manual6 Ad Code
রাজনৈতিক মহলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৩ নভেম্বর ২০২৫ :
১২ নভেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর তোফখানাস্থ বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দানবীয় মব সন্ত্রাস, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পার্টি অফিস শাখার সদস্য ও কেন্দ্রীয় অফিস সহকারী কমরেড মনির হোসেনকে দুর্বৃত্তরা ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে পুলিশ উল্টো কমরেড মনির হোসেনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর থেকেই দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রবাস থেকে নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও কমরেড মনিরের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানিয়েছেন।

নেতাদের ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী ও যুব মৈত্রীর সাবেক সভাপতি কমরেড কলিন্স খান; সাবেক ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলাদা আলাদা এক স্ট্যাটসে জানিয়েছেন— “১২ নভেম্বর দিবাগত রাতে ওয়ার্কার্স পার্টির তোফখানাস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দানবীয় মব সন্ত্রাস, ভাংচুর-লুটপাট এবং পার্টি অফিস শাখার সদস্য ও কেন্দ্রীয় অফিস সহকারী কমরেড মনিরকে ধরে নিয়ে যাওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা অবিলম্বে কমরেড মনিরের মুক্তি দাবি করছি এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী বিবেকবান মানুষ ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

স্ট্যাটসে তারা আরও উল্লেখ করেন, “এ ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, গোটা দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির উপর আঘাত।”

Manual2 Ad Code

মব সন্ত্রাসী কর্তৃক ওয়ার্কার্স পার্টি অফিস আক্রমণ, ভাংচুরের তীব্র নিন্দা ও বিচার এবং কমরেড মুনির হোসেনের মুক্তি দাবী —

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো এক বিবৃতিতে ১২ তারিখে দিবাগত রাতে ১১ থেকে রাত্রি ১২:৩০ মি: পর্যন্ত ওয়ার্কার্স পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সরকার সমর্থিত মব সন্ত্রাসী কর্তৃক অফিস আক্রমণ এবং ভাংচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও পার্টির কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের আহবায়ক কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন স্বাক্ষরিত ও প্রেরিত পলিটব্যুরোর বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আওয়ামী লীগ’ ঘোষিত লক ডাউন কর্মসূচি প্রতিহত করার নামে ১২ নভেম্বর তারিখ রাত্র ১১টায় প্রায় শতাধিক লোক ড: ইউনুসের সমর্থনে নারায়ে তকবীর স্লোগান দিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের ফাঁসি দাবী করে ওয়ার্কার্স পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আক্রমণ করে এবং ভাংচুর করে। ৩১/ই তোপখানা রোডে অবস্থিত ঐ পার্টি অফিস প্রায় দেড়ঘন্টা তান্ডব চালানো হয়। অফিস সহকারি কমরেড মনির হোসেনকে মারধর করে তাকে মব সন্ত্রাস করে হাতে বোমা ধরিয়ে দিয়ে পূর্ব থেকেই পুলিশকে খবর দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ঘটনা এখানেই থেমে নেই রাত্রে পূর্ণবার তারা ঐ অফিসে গিয়ে তালা লাগিয়ে ঐ অফিসকে তাদের দখলে নিয়ে নেয়। অফিসের দরজায় তারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী গবেষণা কেন্দ্রের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়। পার্টি অফিসের গলিতে তারা আতঙ্ক ছড়িয়ে ওয়ার্কার্স পার্টি নেতাকর্মীদের আক্রমনের চেষ্টা অব্যহত রেখেছে। এ ঘটনায় পুলিশের সহায়তা চাওয়া হলেও তারা নীরবতা পালন করে।

পলিটব্যুরো দ্বার্থহীন ভাবেই মনে করে ড. ইউনুস গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বদলে প্রতিশোধের নয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা প্রশস্ত করেছেন। তার মদতে চরম দক্ষিণপন্থী শক্তিসহ সকল জংগী সন্ত্রাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতার চেতনার সকল শক্তির ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টি অফিস আক্রমণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার দাবি করছে এবং অফিস সহকারি কমরেড মনির হোসেনের মুক্তি দাবী করছে।

কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের নিন্দা ও প্রতিবাদ

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজ সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেন— “ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নৃশংস মব হামলা, ভাংচুর-লুটপাট এবং কমরেড মনির হোসেনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর উদ্বেগজনক অধ্যায় হিসেবে স্থান পাবে। এটি গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।”

তিনি অবিলম্বে হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচার ও কমরেড মনিরের মুক্তি দাবি করেন। পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অনুরোধ জানান, যাতে প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়

ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দেশ-বিদেশের প্রগতিশীল কর্মী, প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই লিখেছেন, “একটি দলীয় অফিসে এমন সন্ত্রাস গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ভয়ংকর দৃষ্টান্ত।”

Manual2 Ad Code

প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী পদক্ষেপ

Manual7 Ad Code

তোফখানাস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্কার্স পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রমের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, হামলার পর থেকে অফিসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি, যন্ত্রপাতি ও সাংগঠনিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে লিখিতভাবে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হবে।

কমরেড মনির হোসেন

উপসংহার

Manual3 Ad Code

দেশের প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে এমন হামলা উদ্বেগজনক নজির বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক মতবিরোধের নামে সহিংসতা রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও সব দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সময়ের দাবি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ