সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৪:২৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০২৫

সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২০ নভেম্বর ২০২৫ : সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন, মামলা-হামলার প্রতিবাদ এবং সকল সাংবাদিক হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর ২০২৫) সকালে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনের আয়োজন করে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ অনলাইন সাংবাদিক কল্যাণ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সাংবাদিক সংগঠন।

Manual7 Ad Code

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাংবাদিকরা নিয়মিত হামলা, হুমকি, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সাংবাদিকদের ওপর একের পর এক চাপ সৃষ্টি করে সত্য প্রকাশের পথ সংকুচিত করা হচ্ছে। অবিলম্বে এসব নির্যাতন বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

বিভিন্ন ঘটনায় সাংবাদিকদের হয়রানির অভিযোগ

Manual6 Ad Code

মানববন্ধনে বক্তারা সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরেন। অভিযোগ করা হয়—

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে থানার অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের উপজেলা সভাপতি ও সাংবাদিক আনোয়ারকে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Manual8 Ad Code

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য জানতে চাওয়ায় ১০ জন কর্মরত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দায়ের করা হয় এবং তাদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়।

নেত্রকোনায় পূর্বনির্ধারিত গণশুনানির আগে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক মহিউদ্দিনের ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা ঘটে।

বগুড়ায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক আব্দুল হালিম গণহামলার শিকার হন।

বক্তারা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্য

মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক ফরিদ খান। তিনি বলেন, “কোনো ঘটনা ঘটলেই সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হুমকি ও মামলা দেওয়া এখন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে উঠেছে। সাংবাদিকদের কি দুর্বল ভাবা হয়? সাংবাদিকরা দুর্বল নয়। তবে সংগঠিত না থাকার কারণে অনেক সময় আমরা ন্যায়বিচার পাই না।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ প্রেসক্লাব দেশের সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন। সারাদেশে আমাদের প্রায় ৭০০টি শাখা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় আমরা মাঠে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”

গাজীপুরের সাংবাদিক তুহিন হত্যার ঘটনায় দ্রুত চার্জশিট দেওয়ায় তিনি পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিটের দাবি জানিয়েছিলাম—তা পূরণ হয়েছে। এখন দ্রুত বিচার নিশ্চিত হবে বলে আশা করি।”

ফরিদ খান প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সারাদেশের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাব দেশব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে।”

বক্তাদের দাবি

সমাবেশে বক্তারা ৫ দফা মূল দাবি তুলে ধরেন—

Manual1 Ad Code

১. সকল সাংবাদিক হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের ব্যবস্থা করা।
২. সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা ও হুমকি বন্ধে কঠোর নির্দেশনা ও নজরদারি।
৩. মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার।
৪. সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রটেকশন আইন বা নীতিমালা প্রণয়ন।
৫. দোষী পুলিশ কর্মকর্তা বা সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

সমাবেশে অংশগ্রহণ

মানববন্ধনে শতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন। ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও প্রতিবাদী স্লোগানে প্রেসক্লাব এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। বক্তারা বলেন, স্বাধীন গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হতে পারে না।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ