কবি ও কথাসাহিত্যিক আবু বকর সিদ্দিকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:২০ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫

কবি ও কথাসাহিত্যিক আবু বকর সিদ্দিকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ : প্রখ্যাত কবি, কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ আবু বকর সিদ্দিকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

Manual1 Ad Code

দিনটি উপলক্ষে দেশজুড়ে তাঁর অসংখ্য ছাত্র, পাঠক ও গুণগ্রাহী গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছেন। বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

কবি আবু বকর সিদ্দিক ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ভোর পৌনে ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনার একটি বেসরকারি সিটি মেডিকেল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তিনি পাঁচ কন্যা ও এক পুত্রসহ অসংখ্য ছাত্র, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তাঁকে খুলনা শহরের তুঁতপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শিক্ষাজীবন ও একাডেমিক পথচলা

Manual1 Ad Code

আবু বকর সিদ্দিক ১৯৫২ সালে বাগেরহাট মাধ্যমিক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৫৪ সালে বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯৫৬ সালে একই কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হয়ে ১৯৫৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্যচর্চায় গভীর মনোনিবেশ ছিল তাঁর।

শিক্ষকতা ও কর্মজীবন

সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি শিক্ষকতাকেই তিনি আজীবন পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি চাখার ফজলুল হক কলেজ, দৌলতপুর বিএল কলেজ, কুষ্টিয়া কলেজ, বাগেরহাট পিসি কলেজ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে তিনি ১৯৯৪ সালের ৭ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর-পরবর্তী সময়েও তিনি থেমে থাকেননি; কুইন্স ইউনিভার্সিটি এবং ঢাকার নটর ডেম কলেজে অধ্যাপনার মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান অব্যাহত রাখেন।

Manual2 Ad Code

সাহিত্যচর্চা ও গ্রন্থসম্ভার

মাত্র পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ১৯৪৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। এরপর দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কবিতা, গল্প ও উপন্যাস রচনায় এক অনন্য সাহিত্যভুবন নির্মাণ করেন। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৮টি। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— ধবল দুধের স্বরগ্রাম, বিনিদ্র কালের ভেলা, হে লোকসভ্যতা, মানুষ তোমার বিক্ষত দিন প্রভৃতি। শিশুদের জন্য তিনি রচনা করেন ছড়াগ্রন্থ হট্টমালা।

গল্পসাহিত্যে তাঁর অবদানও উল্লেখযোগ্য। তাঁর লেখা গল্পগ্রন্থের সংখ্যা ১০টি। পাশাপাশি তিনি জলরাক্ষস, খরাদাহ, একাত্তরের হৃদয়ভস্ম এবং বারুদপোড়া প্রহর শীর্ষক উপন্যাস রচনা করে বাংলা কথাসাহিত্যে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। তাঁর লেখায় মানবিক বোধ, সামাজিক সংকট, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গভীরভাবে।

Manual8 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ