তারেক রহমানের সাথে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের বৈঠক

প্রকাশিত: ২:৪৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২৬

তারেক রহমানের সাথে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের বৈঠক

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ : বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বের ভিত্তি হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “’৭১ বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্বই থাকে না।” তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাতের শুরুতে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা সদ্য প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তারেক রহমান, তাঁর পরিবার ও বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

Manual1 Ad Code

সমসাময়িক রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হয়—সে বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

যুক্তফ্রন্ট নেতারা বলেন, ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরিয়ে আনার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক চক্র সেই সুযোগ নস্যাৎ করতে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটাচ্ছে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দিয়ে দেশকে ’৪৭-এর ধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তারা আরও বলেন, বিগত সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল এবং মুক্তিযুদ্ধকে একটি দল ও একটি পরিবারের সম্পত্তিতে পরিণত করেছিল। এর ফলে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আদর্শ—সমতা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র—ক্ষুণ্ন হয়েছে। এখন সময় এসেছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনার ভিত্তিতে একটি সমতার বাংলাদেশ গড়ে তোলার।

Manual5 Ad Code

তারেক রহমানের বক্তব্য

জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ’২৪-এর গণআন্দোলন—এই তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তিনি বলেন, “আমি ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে যে বক্তব্য দিয়েছি, সেখানেও স্পষ্ট করেছি—আমাদের রাজনীতি এই ধারাগুলোকেই ধারণ করে এগোতে হবে।”

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট পেলে বাংলাদেশকে একটি উদার গণতান্ত্রিক ও কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই বিএনপির লক্ষ্য।
মতপার্থক্যের মধ্যেও গণতান্ত্রিক ঐকমত্য
বৈঠকে বিএনপি ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতারা একমত পোষণ করেন যে, রাজনীতিতে মতাদর্শিক পার্থক্য ও ভিন্নমত থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে সেই ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

তারা বলেন, বিগত সরকারের সময় সমালোচনাকারীদের যেভাবে ‘দেশদ্রোহী’ বা ‘উন্নয়নবিরোধী’ ট্যাগ দিয়ে নিপীড়ন করা হয়েছে, ভবিষ্যতে যাতে কেউ সে পথ অনুসরণ করতে না পারে—সে বিষয়ে সবাই সতর্ক থাকবেন।

উভয় পক্ষই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেওয়া, ’৭১, ’৯০ ও ’২৪-এর গণআকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার বিষয়ে একমত হন।

Manual8 Ad Code

সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান

বৈঠক শেষে বিএনপি ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান—আগামী জাতীয় নির্বাচনে যাতে সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয় এবং নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

Manual6 Ad Code

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ

সাক্ষাতে বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সাবেক সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক কমরেড আব্দুল্লাহ কাফী রতন, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদসহ বিভিন্ন বাম ও গণতান্ত্রিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ