হাওর ধ্বংস করে সৌরবিদ্যুৎ নয়: মৌলভীবাজারের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের প্রতি খোলাচিঠি

প্রকাশিত: ৬:৪৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২৬

হাওর ধ্বংস করে সৌরবিদ্যুৎ নয়: মৌলভীবাজারের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের প্রতি খোলাচিঠি

Manual7 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | মৌলভীবাজার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ : হাওর, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্বেগ জানিয়ে মৌলভীবাজার জেলার চারটি আসনের সম্মানিত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে খোলাচিঠি দিয়েছেন হাওর রক্ষা আন্দোলন।

Manual4 Ad Code

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনটি নির্বাচনী ইশতেহারে হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক জীবিকা রক্ষার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

খোলাচিঠিতে সংগঠনটির নেতারা বলেন, মৌলভীবাজার জেলা চা-বাগান, পাহাড়-টিলা, নদী-ছড়া ও হাওর নিয়ে গঠিত এক অনন্য ভূ-প্রকৃতির অঞ্চল, যা জেলার পরিবেশগত ভারসাম্য ও বাস্তুতন্ত্রের মূল ভিত্তি। তবে সম্প্রতি কাউয়াদীঘি হাওর, হাইল হাওর এবং আথানগিরি পূবের হাওরে কোনো ফিজিবিলিটি স্টাডি বা পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ছাড়াই কৃষিজমি ক্রয়-বিক্রয় ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

Manual5 Ad Code

খোলাচিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইতোমধ্যে পূবের হাওরে ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং সেখানে আরও ২৫ মেগাওয়াট প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সংগঠনটির মতে, সরকার কর্তৃক মৌলভীবাজার জেলা থেকে ৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও তা হাওর ধ্বংস করে নয়; বরং কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করেই বাস্তবায়ন করা উচিত।

হাওর রক্ষা আন্দোলনের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, হাওরের জমি যদি বেসরকারি কোম্পানির মালিকানায় চলে যায়, তাহলে হাজারো কৃষক ও মৎস্যজীবীর জীবন-জীবিকা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠবে।

Manual5 Ad Code

খোলাচিঠিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প হিসেবে মনুসেচ প্রকল্পের বেরীবাঁধের প্রায় ৬৪ কিলোমিটার উন্মুক্ত ভূমি, টেংরা ইউনিয়নের মনুর আনগাঙ এলাকার প্রায় ২.৫ কিলোমিটার অঞ্চল এবং মনুসেচ প্রকল্পের প্রধান ও সাব-ক্যানেলের প্রায় ১০৫ কিলোমিটার জায়গা ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংগঠনটির দাবি, এসব এলাকায় ৫০০ থেকে ৭০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

সরকারি জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নিলে ব্যাংক ঋণ পাওয়া যায় না—এমন কিছু দপ্তরের যুক্তিকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে খোলাচিঠিতে বলা হয়, চা-বাগান মালিকরা রাষ্ট্রীয় লিজের জমিতে নিয়মিতভাবে ব্যাংক ঋণ পেয়ে থাকেন, ফলে এই যুক্তি টেকসই নয়।

এছাড়া ভূমি সংস্কার আইনে একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৬০ বিঘা জমি মালিকানার বিধান থাকলেও কীভাবে শত শত একর হাওরের জমি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যাচ্ছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। আইন লঙ্ঘন করে কোনো উন্নয়ন মানবিক বা টেকসই হতে পারে না বলেও খোলাচিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

হাওরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প হিসেবে উইন্ড টারবাইন প্রযুক্তি নিয়েও গবেষণার আহ্বান জানানো হয়েছে, তবে সেক্ষেত্রে দেশীয় ও অতিথি পাখির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

খোলাচিঠিতে স্বাক্ষর করেন হাওর রক্ষা আন্দোলন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহবায়ক আ স ম ছালেহ সোহেল এবং সদস্যসচিব এম. খছরু চৌধুরী।

Manual1 Ad Code

তাঁরা বলেন, দেশের সম্পদ সীমিত এবং জনসংখ্যা বেশি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যেতে হলে হাওর রক্ষা, সঠিক পরিকল্পনা, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং রাষ্ট্রীয় ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ