সংবাদকর্মীদের তুলে নেওয়া মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য ‘ভীতিমূলক দৃষ্টান্ত’: টিআইবি

প্রকাশিত: ২:২৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬

সংবাদকর্মীদের তুলে নেওয়া মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য ‘ভীতিমূলক দৃষ্টান্ত’: টিআইবি

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় থেকে রাতে ২১ জন কর্মীকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমের ওপর ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির দৃষ্টান্ত।

Manual7 Ad Code

আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন।

‘গণভোট ও প্রাক্-নির্বাচন পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশ্ন তুলে বলেন, সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া সেনা কর্মকর্তারা এ কাজ করতে পারেন? যদি পারেন, তবে সেনাবাহিনীর ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ বিষয়টি কোথায়?

Manual1 Ad Code

বক্তব্যের শুরুতে ইফতেখারুজ্জামান গতকাল রাতে ‘বাংলাদেশ টাইমস’-এর কর্মীদেরকে অফিস থেকে তুলে নেওয়ার প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, ‘আমি জোর প্রতিবাদ এবং উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছি। কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া রাতের বেলা একটি প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীকে তুলে নেওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। যে যুক্তিতেই হোক না কেন, এটি বাংলাদেশের মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক ও সহিংসতার দৃষ্টান্ত।’

Manual2 Ad Code

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে তা নিরসনের বা প্রতিবাদ জানানোর যথাযথ আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু এভাবে স্বৈরতান্ত্রিকভাবে তুলে নেওয়া—যদিও পরে তাদের ফেরত দেওয়া হয়েছে—তা সত্ত্বেও এটি একটি অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছে। এটি শুধু ওই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ওপর একটি প্রচণ্ড ভীতিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টির দৃষ্টান্ত।

কথার সঙ্গে কাজের মিল নিয়ে প্রশ্ন

দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট ও আগুন দেওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অথচ মাত্র দুই দিন আগেই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে গণমাধ্যমকে ‘জাতির দর্পণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

Manual7 Ad Code

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছিলেন, গণমাধ্যম জাতির দর্পণ। অত্যন্ত শ্রুতিমধুর কথা। তিনি আরও বলেছিলেন, গণমাধ্যম যেন ভীতিহীনভাবে সংবাদ প্রচার করতে পারে। কিন্তু এই যে ভীতিহীনভাবে সংবাদ প্রচার, সেটার কি দৃষ্টান্ত এটি?’
সাধারণত এ ধরনের ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ব্যক্তিগত দায় হিসেবে দেখানো হয়, যা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেনাবাহিনী নিতে চায় না—এমন মন্তব্য করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমি প্রশ্ন করতে চাই, তাহলে সেনাবাহিনীর এই সত্যটার সঙ্গে “কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল” বিষয়টি কোথায়? এই ধরনের কাজ করার আগে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো সেনা কর্মকর্তা এটা করতে পারেন, এটা বিশ্বাস করা কঠিন। যদি তাই হয়, তবে সেনাবাহিনীর কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল বিষয়টা কেন লঙ্ঘিত হচ্ছে, তা হিসাব করতে হবে।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান সেনাবাহিনীসহ যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যমের প্রতি যে ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিরসনের উপায় খুঁজে বের করার ওপর জোর দেন তিনি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ