ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে

প্রকাশিত: ১১:২১ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০২৬

ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে

Manual3 Ad Code

আব্দুল মুকছিত চৌধুরী |

আসামের বারপেটায় অবস্থিত ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-এর নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আসাম ক্যাবিনেটের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়|

সরকারের বক্তব্য (নাম পরিবর্তনের কারণ)

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন যে, রাজ্যের অন্যান্য মেডিকেল কলেজগুলোর নামকরণের ধারার সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Manual4 Ad Code

· নামকরণের নীতি: আসামের বাকি ১৫টি সরকারি মেডিকেল কলেজের নাম সেই জায়গার (লোকেশন) নামে রাখা হয়েছে, যেমন—গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ, শিলচর মেডিকেল কলেজ ইত্যাদি। কিন্তু বারপেটার এই কলেজটি একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল, যা একজন ব্যক্তির নামে নামাঙ্কিত ছিল ।
· দ্বৈততা দূরীকরণ: এই ব্যতিক্রমী নামের কারণে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগত যে এটি কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজ কিনা। এই বিভ্রান্তি দূর করতেই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ।
· ক্ষতিপূরণ: ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ আসামেরই কৃতি সন্তান এবং দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি। তাই তাঁকে সম্মান জানাতে তাঁর নামে রাজ্যের অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নামকরণ করা হবে বলে সরকার জানিয়েছে ।

Manual4 Ad Code

কে এই ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ?

Manual1 Ad Code

তিনি ভারতের পঞ্চম রাষ্ট্রপতি (১৯৭৪-১৯৭৭) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন আসামের প্রথম ব্যক্তি, যিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি হন ।

· স্বাধীনতা সংগ্রামী: মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সত্যাগ্রহ আন্দোলনে অংশ নেন এবং জেলও খাটেন ।
· কংগ্রেস নেতা: তিনি ১৯৩১ সালে কংগ্রেসে যোগ দেন এবং আসামের অর্থমন্ত্রী সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়ও তিনি কৃষি, শিক্ষা, শিল্প গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন ।
· জরুরি অবস্থা: তাঁর রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়েই ১৯৭৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়, যার জন্য তিনি সমালোচিত হন ।

বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া

কংগ্রেস নেতা ও আসামের প্রতিপক্ষ দলের নেতা গৌরব গগৈ এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

· অপমান: তিনি একে আসামের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রতি “গভীর আঘাত” এবং “অপমান” বলে অভিহিত করেছেন।
· রাজনৈতিক উদ্দেশ্য: তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এটা কি আসামের ইতিহাস ও গৌরব মুছে দেওয়ার চেষ্টা, নাকি রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের আরেকটি কৌশল? ।

· পুনর্বিবেচনার দাবি: গগৈ আসাম সরকারের কাছে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ফখরুদ্দিন আলি আহমেদের নাম কলেজটির সাথে সংযুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

Manual6 Ad Code

আসাম সরকার নামকরণের নীতিগত সামঞ্জস্য ও বিভ্রান্তি দূর করার যুক্তিতে এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিরোধীরা একে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের অবদান মুছে ফেলা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। সরকার তাঁকে সম্মান জানাতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও, এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ