সিলেট ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২৬
ভারতের ছাত্র আন্দোলন, উচ্চশিক্ষা এবং মূলধারার রাজনীতির সংযোগ নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকে শুরু করে জরুরি অবস্থা, মণ্ডল আন্দোলন, বা সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন— বারবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে উঠে এসেছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সেই ধারাবাহিকতার সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে উঠে আসছে এক নতুন নাম— ড. দীপ্সিতা ধর।
সম্প্রতি একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় কালো টপ পরিহিতা এক তরুণীকে ঘিরে রয়েছে পুলিশ বাহিনী। ঘটনাটি কোনও উগ্রপন্থী সংগঠনকে কেন্দ্র করে নয়; তিনি ছিলেন দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। এই তরুণীই ড. দীপ্সিতা ধর, যিনি এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর দমদম কেন্দ্র থেকে সিপিআই(এম) মনোনীত প্রার্থী।
কমরেড দীপ্সিতা ধরের শিক্ষাজীবন বেশ উল্লেখযোগ্য। কলকাতার আশুতোষ কলেজ থেকে ভূগোলে সাম্মানিক স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পরবর্তীতে জেএনইউ থেকেই দর্শন শাস্ত্রে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অ্যাকাডেমিক প্ল্যাটফর্মেও নিজের গবেষণা উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন, যার মধ্যে জাপানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাডেমিক বক্তব্য পেশ করাও উল্লেখযোগ্য।
তবে শুধুমাত্র একাডেমিক ক্ষেত্রেই নয়, ছাত্র রাজনীতি এবং আন্দোলনের ময়দানেও কমরেড দীপ্সিতা ধর পরিচিত মুখ। বর্তমানে তিনি ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (এসএফআই)-এর সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বিভিন্ন শিক্ষা ও গণআন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে ছাত্র আন্দোলনের একটি পরিচিত মুখ করে তুলেছে। বিশেষ করে ‘নবান্ন অভিযান’-এর সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও জলকামানের মুখে প্রতিবাদীদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত হয়।
ভারতের রাজনীতিতে ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা নেতাদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বৃহত্তর গণরাজনীতির প্রস্তুতিপর্ব হিসেবে কাজ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে কমরেড দীপ্সিতা ধরের প্রার্থিতা শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী লড়াই নয়, বরং ছাত্র রাজনীতি থেকে মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশের একটি ধারাবাহিকতার অংশ বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।
তবে একই সঙ্গে এটাও মনে রাখা প্রয়োজন যে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে শেষ কথা বলে ভোটাররাই। কোনও প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, আন্দোলনের অভিজ্ঞতা বা রাজনৈতিক আদর্শ— সবকিছুর চূড়ান্ত মূল্যায়ন হয় নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে।
বাংলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নতুন প্রজন্মের শিক্ষিত, আন্দোলন-অভিজ্ঞ নেতৃত্ব রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা সময়ই বলবে। তবে এটুকু বলা যায়, কমরেড দীপ্সিতা ধরের মতো প্রার্থীদের উপস্থিতি রাজনীতিতে শিক্ষা, ছাত্র আন্দোলন ও গণআন্দোলনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
#
আমিরুল হোসেন

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি