শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০২৬

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

Manual7 Ad Code

রাজনীতি বিষয়ক প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ : অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল।

১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। শিক্ষানুরাগী এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জীবন্ত প্রতীক হিসেবেও ইতিহাসের পাতায় তার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামের মিঞা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং আইনসভার সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

Manual5 Ad Code

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনেও তার অবদান ছিল। ১৯৪০ সালে তিনি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি যুক্তফ্রন্ট কর্তৃক উত্থাপিত ২১ দফা দাবিরও প্রণেতা ছিলেন।

শেরে বাংলার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ এবং আলোচনা সভা।

শেরে বাংলা : এক অনিঃশেষ জাগরণের নাম
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান

প্রভাতের রোদ ঝরে নরম বাংলার বুকে,
নদীর ঢেউ ডাকে তাকে ইতিহাসের সুখে,
মাটির গন্ধে ভেজা অমলিন সেই প্রাণ—
শেরে বাংলা তুমি চিরজাগ্রত মহান।

সাতুরিয়ার মাটিতে প্রথম আলোর ছোঁয়া,
শিশুর চোখে তখন ভবিষ্যতের বোনা,
শিক্ষার দীপ জ্বেলে এগিয়ে চলার গান—
তুমি ছিলে আগামীর নির্ভীক অভিমান।

কলকাতার প্রাঙ্গণে জ্ঞানের দীপ্তি হাতে,
অঙ্কের জট খুলে দিলে অদম্য প্রভাতে,
অপমানের আগুনে গড়েছিলে জ্ঞান—
তোমার মেধা জাগে আজও বাংলার প্রাণ।

Manual8 Ad Code

আইনের অঙ্গনে তুমি সত্যের পথিক,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠ ছিল দৃঢ়তর ঠিক,
বরিশালের মাটি জানে তোমার শপথ—
মানুষের মুক্তিই ছিল জীবনের রথ।

কৃষকের কান্না শুনে থামেনি তোমার মন,
জমিদারের শৃঙ্খল ভাঙার ছিল আয়োজন,
“লাঙল যার জমি তার”—স্লোগানের তান,
বুকে তুলে নিয়েছিলে মানুষেরই গান।

Manual3 Ad Code

প্রজাদের স্বপ্ন তুমি রক্তে বুনে দিলে,
শোষণের দেয়ালে বিদ্রোহ তুলে দিলে,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে উঠেছিলে অবিরাম—
বাংলার ইতিহাসে তুমি এক অবিনাশ নাম।

প্রধানমন্ত্রীর আসনে থেকেও নির্ভীক,
ক্ষমতার মোহে তুমি হওনি কখনও দীক্ষিত,
শিক্ষার আলো ছড়াও গ্রামে গ্রামে গিয়ে—
সমতার স্বপ্ন আঁকো মানুষের হৃদয়ে।

Manual7 Ad Code

লাহোরের মঞ্চে উচ্চারিত যে ডাক,
তোমার কণ্ঠে তা হয়েছিল অমোঘ ফাঁক,
ইতিহাসের পাতায় জ্বলজ্বলে সেই দিন—
এক জাতির স্বপ্নে তুমি প্রধান সঙ্গীন।

ধর্ম নয়, মানুষ ছিল তোমার পরিচয়,
অসাম্প্রদায়িকতায় গড়েছিলে নতুন জয়,
জাতির কল্যাণেই ব্যক্তির সব মান—
এই বাণী আজও দেয় আলোর সন্ধান।

ভাষার দাবিতে যখন উত্তাল পূর্বদেশ,
তুমি ছিলে পাশে—নির্ভীক পরিবেশ,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত নয়—
তোমার পথ আজও আমাদের পরিচয়।

যুক্তফ্রন্টের পতাকা উঠেছিল আকাশে,
জনতার ঢেউ বয়ে গিয়েছিল ইতিহাসে,
একুশ দফার মাঝে ছিল মুক্তির গান—
তোমার স্বপ্নে জেগে ওঠে স্বাধীন প্রাণ।

ক্ষমতার ঝড় এল, ভাঙল বহু পথ,
তবুও অটল ছিলে সত্যেরই রথ,
বঞ্চিতের অধিকারে লিখেছিলে নাম—
তুমি চির সংগ্রামী এক অম্লান ধাম।

শেষ জীবনের প্রান্তে নিঃশব্দ নির্জনে,
তোমার চোখে ছিল বাংলারই স্বপনে,
জীবনভর লড়াই—অসীম অবদান—
তুমি রয়ে গেলে ইতিহাসের প্রাণ।

আজও প্রভাতে যখন সূর্য ওঠে ধীরে,
বাংলার মাঠে বাজে তোমারই সমীরে,
ন্যায়ের ডাক শোনা যায় নদীরই টানে—
তুমি আছো চিরকাল মানুষের প্রাণে।

শেরে বাংলা, তুমি অনন্তের ডাক,
বৈষম্য ভাঙার তুমি অবিরাম ফাঁক,
জাতির স্বার্থে নিজেকে বিলাও বারবার—
তুমি এক ইতিহাস, তুমি অমর।
—( প্রাতঃস্মরণীয় শেরে বাংলা, —সৈয়দ আমিরুজ্জামান)

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ