হামে শিশু মৃত্যুর দায়ে ড. ইউনূসের বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, মে ৭, ২০২৬

হামে শিশু মৃত্যুর দায়ে ড. ইউনূসের বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৭ মে ২০২৬ : হামে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর দায়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচার চেয়ে শিশুদের প্রতিকী মরদেহ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। একই সঙ্গে হামকে ‘মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি

বুধবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সাবেক প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। বিপুলসংখ্যক শিশুর প্রাণহানির জন্য তৎকালীন সরকারপ্রধান ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দায়বদ্ধতার বিষয়টি উল্লেখ করে তাদের বিচারের জোর দাবি জানান তারা।

Manual3 Ad Code

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, ‘হামের এ সংকট প্রাকৃতিক নয়, এটি মানবসৃষ্ট।’

দিলীপ রায় আরও বলেন, সংসদে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, কিন্তু মার্কিন চুক্তি বা হামের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেন না। এসব ইস্যুতে জামায়াত বা বিএনপি কেউ-ই স্পষ্ট অবস্থান নিচ্ছে না। তারা যেন একযোগে নীরব।

এ সময় তৌহিদি জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, হামের প্রকোপ নিয়ে, শিশুদের মৃত্যু নিয়ে তারা কখনোই কথা বলবেন না। তারা বাইরে দিল্লির বিরুদ্ধে স্লোগান দিলেও মনে মনে ওয়াশিংটনের দিকেই ঝুঁকে আছেন।

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের মুনাফার জন্য এভাবে শিশুদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এ অপরাধে তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার।’

জাবির আহমেদ জুবেল আরও বলেন, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, হামকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে এটি সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

জাবির আহমেদ আরও বলেন, ‘হামের এই প্রকোপ এবং এর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও দেখিনি, বর্তমান সরকারের সময়েও দেখছি না। বরং মনে হচ্ছে, তারা যেন অপেক্ষা করছে, আর কত শত প্রাণ ঝরে যাবে, কত শিশুর জীবন বিনষ্ট হবে।’

Manual2 Ad Code

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে হামের অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপনে আপত্তি জানানোর কারণে ডাকসু নেতাদের সমালোচনা করেন তিনি।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি নুজিয়া হাসান রাশা বলেন, অনতিবিলম্বে বর্তমান সরকারকে এ মহামারি ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যারা এর জন্য দায়ী, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

নুজিয়া হাসান আরও বলেন, ‘সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। সংস্কারের নামে মুহাম্মদ ইউনূস কেবল তার ঋণগুলো মওকুফ করেছেন এবং একটি ইউনিভার্সিটি করে চলে গেছেন।’

সরকার ও বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের শিশুরা মরছে, দেশের ভবিষ্যৎ পুড়ছে। কিন্তু সরকার ও বিরোধী দলের তা নিয়ে টনক নড়ছে না। আমি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই, যে বাবাকে তার শিশুর লাশ নিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে মহাখালী পর্যন্ত যেতে হয়, তাকে আপনারা আসলে কোন কার্ডটি দেবেন? তাকে কি আপনারা আগামী দিনে সান্ত্বনা কার্ড দেবেন?’

Manual8 Ad Code

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, ‘দেশে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শতাধিক শিশু সরকারি হিসাবে হাসপাতালে মারা গেছে। অথচ সে সময় বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাপানে গিয়ে জাপানি শিশুদের সঙ্গে ফুল বিনিময় করেছেন।’

Manual8 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ