হামে শিশু মৃত্যুর জন্য দায়ীদের গ্রেপ্তার ও বিচার করতেই হবে: রতন

প্রকাশিত: ৩:১২ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২৬

হামে শিশু মৃত্যুর জন্য দায়ীদের গ্রেপ্তার ও বিচার করতেই হবে: রতন

Manual7 Ad Code
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ওয়ার্কার্স পার্টির মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৬ মে ২০২৬ : দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন বলেছেন, “তদন্ত কমিশন গঠন করে হামে শিশু মৃত্যুর জন্য দায়ীদের গ্রেপ্তার এবং বিচার করতেই হবে।” হামে শিশু মৃত্যুর জন্য দায়ীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবীতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি কর্তৃক আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে শিশুদের জীবন রক্ষায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধি, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং অপুষ্টি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

Manual2 Ad Code

শনিবার (১৬ মে ২০২৬) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির চিকিৎসা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে হাম ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং এটি এখন কার্যত মহামারির রূপ নিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া, টিকাদান কার্যক্রমে অব্যবস্থাপনা এবং শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবহেলার কারণে হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হচ্ছে এবং শত শত শিশুর মৃত্যু ঘটছে।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং পার্টির চিকিৎসা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের আহ্বায়ক কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড নজরুল হক নীলু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ছাত্রনেতা অতুলন দাস আলো।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন, জাতীয় কৃষক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক দীপংকর সাহা দীপু, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রাজু, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুর্শিদা আখতার নাহার, বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিউলি শিকদার, বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ফজলু এবং বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সহ-সভাপতি আব্দুল আহাদ মিনার।

এছাড়া অনলাইনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন পারকিনসন্স রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আহসান হাবিব হেলাল।

Manual5 Ad Code

বক্তারা বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। একজন হাম আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৪ জনকে সংক্রমিত করতে পারে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকা পরিবেশে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত ভাইরাস সক্রিয় থাকতে পারে। তারা দাবি করেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ হাজার শিশু হাম আক্রান্ত হয়েছে এবং পাঁচ শতাধিক শিশু ইতোমধ্যে মারা গেছে।

বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিসেফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আগেই হামের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করলেও সে সময় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকাদান কর্মসূচি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ কার্যক্রমও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়নি। এর ফলে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

Manual8 Ad Code

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ একসময় হাম নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল। কিন্তু স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা, টিকা সংগ্রহে ব্যর্থতা এবং জনস্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এত সংখ্যক শিশুর মৃত্যুর দায় সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অপুষ্টি নিয়ে বেড়ে ওঠা শিশু আগামী দিনের জন্য বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। তাই শিশুস্বাস্থ্যকে জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তারা অবিলম্বে হাসপাতালগুলোতে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত শয্যা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করা, জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশব্যাপী গণটিকাদান কর্মসূচি পুনরায় জোরদারের দাবি জানান।

Manual6 Ad Code

একই সঙ্গে হামে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়। তদন্তের মাধ্যমে দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি বা গাফিলতির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।

মানববন্ধন শেষে আয়োজকরা বলেন, শিশুদের জীবন রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তারা জনস্বাস্থ্য খাতে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ