শ্রীমঙ্গলে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ আহত ২০

প্রকাশিত: ৯:০০ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ আহত ২০

Manual7 Ad Code
আড়াই ঘণ্টা অচল ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, শহরজুড়ে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৯ মে ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পরিবহন শ্রমিকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ছয় সাংবাদিকসহ ২০ জন আহত হয়েছেন।

Manual4 Ad Code

মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) দুপুরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে পড়ে, বিপাকে পড়েন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ সড়কে একটি সিএনজি পার্কিংকে কেন্দ্র করে প্রথমে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও একটি মাইক্রোবাসের চালকের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি দুই পক্ষের শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহরের চৌমুহনা, স্টেশন রোড ও পেট্রল পাম্প এলাকায়। এ সময় ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়েন শত শত যানবাহনের যাত্রী। স্কুল-কলেজ ছুটির সময় হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেককে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ

সংঘর্ষ চলাকালে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে। ছবি ও ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে এক পক্ষের শ্রমিকরা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিক ইসমাইল মাহমুদ, প্রেসক্লাব সদস্য আমজাদ হোসেন বাচ্চু, প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক খোলাকাগজের মৌলভীবাজার জেলা স্টাফ রিপোর্টার এহসান বিন মুজাহির, কার্যকরী সদস্য নুর মোহাম্মদ সাগর, সাংবাদিক এস কে দাস সুমন ও মোহাম্মদ আল আমিন।

আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, ক্ষতির অভিযোগ

Manual2 Ad Code

সংঘর্ষ চলাকালে আতঙ্কে শহরের বিভিন্ন মার্কেট, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ইট-পাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বলেন, “এই ঘটনায় ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

শ্রীমঙ্গল সিএনজি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সালাউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, মাইক্রোবাস শ্রমিকরা তাদের স্ট্যান্ডে গিয়ে হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, “খবর পেয়ে স্ট্যান্ডে রিকশা থেকে নামতেই দেখি এক সিএনজি শ্রমিকনেতাকে মারধর করা হচ্ছে। পরে কয়েকজন লাইটেস গাড়ির ড্রাইভার লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়।”

তিনি আরও বলেন, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও একটি প্রাইভেট কারের ওভারটেককে কেন্দ্র করে চালকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

অন্যদিকে মাইক্রোবাস শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের এক শ্রমিককে মারধর করায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়।

দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, র‌্যাব ও অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর বিকেলের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

ঘটনার পর হাসপাতালে আহতদের খোঁজ নিতে যান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক নেতারা।

Manual2 Ad Code

প্রশাসনের বক্তব্য

শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Manual5 Ad Code

মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষ উত্তেজিত হয়ে গেলে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। আমরা বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করছি।”

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ