জুড়ীতে বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত ৮ পরিবারকে ব্র্যাকের মানবিক সহায়তা

প্রকাশিত: ৫:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬

জুড়ীতে বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত ৮ পরিবারকে ব্র্যাকের মানবিক সহায়তা

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | জুড়ী (মৌলভীবাজার), ১১ জুন ২০২৬ : মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় বজ্রপাতে গবাদিপশু হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ৮টি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক।

Manual4 Ad Code

মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ব্র্যাক কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে এ সহায়তার অর্থ তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্র্যাক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম বলেন, বজ্রপাতে গবাদিপশু হারিয়ে অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। এ ধরনের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ব্র্যাক যে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কেউ ব্র্যাকের সদস্য না হলেও প্রতিষ্ঠানটি মানবিক বিবেচনায় তাদের সহায়তা করেছে। এতে পরিবারগুলো কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে এবং ক্ষতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।”

ব্র্যাকের সিলেট বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স ইউনিট) রিপন চন্দ্র মন্ডল বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। ব্র্যাক সবসময় অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। তিনি বলেন, “যদিও এই সহায়তা ক্ষতির তুলনায় খুবই সামান্য, তবুও এটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে এবং তাদের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মঈন উদ্দিন, ব্র্যাক জেলা প্রতিনিধি ইলিমেন্ট হাজং, রেডিও পল্লীকণ্ঠের সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার মো. মেহেদী হাসান, ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির এরিয়া ম্যানেজার মো. আবুল কাশেম এবং শাখা ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম।

বজ্রপাতে ১৩ গরু ও ১ মহিষের মৃত্যু

গত ৩ জুন জুড়ী উপজেলার ৮ নম্বর গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কুচাই জ্বালাই ও পাথরটিলা এলাকায় ভয়াবহ বজ্রপাতের ঘটনায় ১৩টি গরু ও একটি মহিষ মারা যায়। এতে স্থানীয় কয়েকটি পরিবার একসঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

Manual3 Ad Code

ক্ষতিগ্রস্তদের একজন বিরসা মুন্ডা জানান, ঘটনার দিন সকালে প্রতিদিনের মতো গবাদিপশুগুলো টিলায় ঘাস খাওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। দুপুরের দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে পশুগুলোকে মাঠের পাশে একত্র করা হয়। এ সময় একটি শক্তিশালী বজ্রপাত সরাসরি ওই স্থানে আঘাত হানলে ঘটনাস্থলেই ১৩টি গরু মারা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত গবাদিপশুগুলোর মালিকদের মধ্যে রয়েছেন কুচাই চা বাগান এলাকার রবি মুন্ডা, কালাচান মুন্ডা, বুধুলাল মুন্ডা, রাজেন মুন্ডা, মক্র মুন্ডা, চিনিলাল মুন্ডা ও বিরসা মুন্ডা। এছাড়া বজ্রপাতে মারা যাওয়া মহিষটির মালিক আব্দুল গাফফার।

Manual1 Ad Code

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্দশা

স্থানীয়দের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ পরিবারই নিম্নআয়ের। গবাদিপশু ছিল তাদের অন্যতম সম্পদ ও আয়ের উৎস। হঠাৎ বজ্রপাতে একাধিক গবাদিপশুর মৃত্যু হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার দুধ বিক্রি ও কৃষিকাজের সহায়ক হিসেবে এসব গবাদিপশুর ওপর নির্ভরশীল ছিল।

Manual3 Ad Code

এ অবস্থায় ব্র্যাকের মানবিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে আরও সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে বজ্রপাতের ঘটনা ও তীব্রতা বাড়ছে। তাই বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং গবাদিপশু সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ