শ্রীমঙ্গলে যানজট নিরসনে প্রস্তাবিত বাইপাস সড়ক: ১৩ জুন অংশীজন সভা, প্রকল্প অনুমোদনের পথে

প্রকাশিত: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে যানজট নিরসনে প্রস্তাবিত বাইপাস সড়ক: ১৩ জুন অংশীজন সভা, প্রকল্প অনুমোদনের পথে

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১১ জুন ২০২৬ : চায়ের রাজধানী ও পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন এবং পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত নতুন সংযোগ সড়ক (বাইপাস) নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আগামী শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত সম্ভাবনা, ভূমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত বিষয় এবং স্থানীয় জনগণের মতামত নিয়ে আলোচনা হবে।

Manual2 Ad Code

সওজের মৌলভীবাজার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, “মিরপুর-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর (এন-২০৭) সড়কের ২১তম কিলোমিটারে শ্রীমঙ্গল শহরের যানজট নিরসন ও পর্যটকদের যাতায়াত সহজীকরণের লক্ষ্যে নতুন সংযোগ সড়ক (এন-২১৫) নির্মাণ” শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্পটি বর্তমানে সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রকল্প যাচাই কমিটির নির্দেশনায় অংশীজন সভা

সওজ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে অনুষ্ঠিত প্রকল্প যাচাই কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ভবিষ্যতে ভূমি অধিগ্রহণ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় একটি অংশীজন সভা আয়োজন করতে হবে।

এছাড়া সভার কার্যবিবরণী, অংশগ্রহণকারীদের মতামত, আলোকচিত্র এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি)-এর সঙ্গে সংযুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ১৩ জুন সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে বহুপক্ষীয় আলোচনা

Manual4 Ad Code

সভায় সভাপতিত্ব করবেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সওজের মৌলভীবাজার সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান।

এছাড়া জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ভূমি অধিগ্রহণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক সংগঠন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

Manual6 Ad Code

পর্যটন শহরের অন্যতম বড় সমস্যা যানজট

শ্রীমঙ্গল দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, সাতরঙা চা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে সারা বছরই এখানে পর্যটকদের ব্যাপক আগমন ঘটে। সরকারি ছুটি ও উৎসব মৌসুমে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের মধ্য দিয়ে জাতীয় মহাসড়কের যানবাহন চলাচল এবং অভ্যন্তরীণ সড়কের ট্রাফিক একসঙ্গে মিশে যাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই যানজট সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ভানুগাছ সড়ক মোড়, চৌমুহনা এলাকা, কলেজ রোড সংযোগস্থল এবং শহরের বাণিজ্যিক এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রীমঙ্গলকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার, কমলগঞ্জ, হবিগঞ্জ এবং সিলেট অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো যুক্ত থাকায় শহরের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে একটি কার্যকর বাইপাস বা বিকল্প সংযোগ সড়কের দাবি দীর্ঘদিনের।

অর্থনৈতিক ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাবের আশা

সওজ কর্মকর্তাদের মতে, প্রস্তাবিত সংযোগ সড়ক বাস্তবায়িত হলে শহরের ভেতর দিয়ে ভারী যানবাহনের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এতে নগর এলাকার যানজট হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা বাড়বে এবং পর্যটকদের যাতায়াত আরও দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত সড়ক যোগাযোগ পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং বিনিয়োগ পরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে শ্রীমঙ্গলকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

Manual1 Ad Code

ভূমি অধিগ্রহণ ও পরিবেশগত বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অংশীজন সভায় এসব বিষয়ে স্থানীয়দের মতামত গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রকল্প প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সওজ কর্মকর্তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ সভা প্রকল্পটির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের প্রত্যাশা

স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বহুদিনের আলোচিত এ সংযোগ সড়ক প্রকল্প দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গল শহরের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে এটি একটি মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আগামী ১৩ জুনের অংশীজন সভা প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর মাধ্যমে প্রকল্পের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, স্থানীয় বাস্তবতা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক তথ্য পাওয়া যাবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ