ভারত-বাংলাদেশ পর্যটন সহযোগিতা জোরদারে মৌলভীবাজারে মতবিনিময়

প্রকাশিত: ১১:০০ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬

ভারত-বাংলাদেশ পর্যটন সহযোগিতা জোরদারে মৌলভীবাজারে মতবিনিময়

Manual2 Ad Code
  • পর্যটন খাতের উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ, সীমান্তভিত্তিক পর্যটন সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক | মৌলভীবাজার, ১১ জুন ২০২৬ : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সীমান্তভিত্তিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টির লক্ষ্যে মৌলভীবাজারে দুই দেশের পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Manual1 Ad Code

সভায় পর্যটন খাতকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে দুই দেশের মধ্যে পর্যটক বিনিময়, যোগাযোগ সহজীকরণ, যৌথ প্রচারণা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Manual1 Ad Code

বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মনোজ জৈন এবং ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলাভিত্তিক পর্যটন প্রতিষ্ঠান হলিডে প্ল্যানার্সের স্বত্বাধিকারী ও ট্যুর অপারেটর মনিষ চক্রবর্তী সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে এসে এ মতবিনিময়ে অংশ নেন।

সফরের শুরুতে তারা মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সেখানে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান দৈনিক কালের কণ্ঠ–এর মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম এবং দৈনিক নয়া দিগন্ত–এর শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি ও স্মার্ট ট্যুরিজমের স্বত্বাধিকারী এম এ রকিব।

পর্যটনকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে দেখার আহ্বান

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে পর্যটন শিল্প শুধু বিনোদন বা ভ্রমণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, স্থানীয় ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং ভৌগোলিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর হলেও সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটক চলাচলের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতি দেখা যায়নি।

তারা বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে আন্তরিক যোগাযোগ ও পর্যটন বিনিময় বৃদ্ধি পেলে শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আস্থার সম্পর্কও আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল, চা-বাগান, হাওর ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে যৌথ পর্যটন প্যাকেজ চালুর সুযোগ রয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের পর্যটন সম্ভাবনায় মুগ্ধ ভারতীয় অতিথিরা

বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে ভারতীয় প্রতিনিধিদল দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল পরিদর্শন করেন। তারা বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) ঘুরে দেখেন এবং দেশের চা শিল্পের ইতিহাস, গবেষণা কার্যক্রম ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অবহিত হন।

Manual2 Ad Code

এ সময় তাদের স্বাগত জানান বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. এ কে এম রফিকুল হক। সফরকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যুগ্ম সচিব সালেহা বিনতে সিরাজ।

পরিদর্শন শেষে ভারতীয় অতিথিরা শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা-বাগান, পর্যটন অবকাঠামো এবং আতিথেয়তার প্রশংসা করেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হলে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

সীমান্তভিত্তিক পর্যটন ও যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব

Manual5 Ad Code

মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোকে কেন্দ্র করে পর্যটন উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে উভয় দেশের পর্যটন শিল্প উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হবে।

আলোচনায় সীমান্ত পর্যটন, ধর্মীয় পর্যটন, চা-পর্যটন, ইকো-ট্যুরিজম এবং সাংস্কৃতিক পর্যটনকে কেন্দ্র করে যৌথ কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তাব উঠে আসে। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, তথ্য বিনিময়, যৌথ পর্যটন মেলা আয়োজন এবং পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন

পর্যটন উদ্যোক্তারা মনে করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পর্যটন সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে উভয় দেশের স্থানীয় অর্থনীতি উপকৃত হবে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা ও শহরগুলোতে হোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন, হস্তশিল্প এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তারা বলেন, দুই দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা, সেবা মান উন্নয়ন এবং আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

উল্লেখযোগ্য তথ্য

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মনোজ জৈন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ঊনকোটি জেলার জেলা প্রশাসক শ্রীমতি মেঘা জৈন–এর পিতা। তাঁর এই সফরকে দুই দেশের পর্যটন ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পর্যটন সহযোগিতা সম্প্রসারণে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উভয় দেশের পর্যটন শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ