সাবেক ছাত্রনেতা কমরেড বিধান চন্দ্র রায়ের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ৮, ২০২৬

সাবেক ছাত্রনেতা কমরেড বিধান চন্দ্র রায়ের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৮ জুন ২০২৬ : আশির দশকের সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, গণতান্ত্রিক ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সদস্য কমরেড বিধান চন্দ্র রায়ের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ (৮ জুন)।

দিবসটি উপলক্ষে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁর সংগ্রামী জীবন, রাজনৈতিক আদর্শ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নূর আহমেদ বকুল এক যৌথ বিবৃতিতে কমরেড বিধান চন্দ্র রায়ের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, বিশেষ করে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী সংগ্রামে বিধান চন্দ্র রায় ছিলেন রাজপথের একজন সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। ছাত্রসমাজের অধিকার আদায় এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি তাঁর অটল নিষ্ঠা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সংগ্রামী নেতৃত্ব তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। নেতৃবৃন্দ প্রয়াতের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের উজ্জ্বল অধ্যায়

কমরেড বিধান চন্দ্র রায় ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ও তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি আশির দশকে গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। গণতান্ত্রিক ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে তিনি শিক্ষা, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বেগবান করা এবং দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং বামপন্থী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন।

লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

কমরেড বিধান চন্দ্র রায় ২০২২ সালের ৮ জুন যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যাম ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

Manual8 Ad Code

তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সে সময় গভীর শোক প্রকাশ করে এবং তাঁর সংগ্রামী জীবনের অবদানের কথা স্মরণ করে।

সহযোদ্ধার শ্রদ্ধাঞ্জলি

কমরেড বিধান চন্দ্র রায়ের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক, জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, সাপ্তাহিক নতুন কথা–এর বিশেষ প্রতিনিধি, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।

এক স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, “কমরেড বিধান চন্দ্র রায় ছিলেন আপসহীন সংগ্রামী রাজনীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক। ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি আজীবন নিবেদিত ছিলেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, মানবিক এবং সহযোদ্ধাদের প্রতি আন্তরিক। তাঁর রাজনৈতিক সততা, আদর্শিক দৃঢ়তা এবং সংগ্রামী চেতনা আগামী প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কঠিন সময়ে কমরেড বিধান সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অবদান কখনও বিস্মৃত হওয়ার নয়। তাঁর স্মৃতি ও আদর্শ ধারণ করাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।”

স্মরণে নানা কর্মসূচি

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, স্মরণসভা, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁর সংগ্রামী জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আশির দশকের ছাত্র আন্দোলন এবং স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের ইতিহাসে কমরেড বিধান চন্দ্র রায়ের নাম একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। গণতন্ত্র, প্রগতিশীলতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে তাঁর আজীবন অবস্থান তাঁকে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি সম্মানজনক আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এই নিবেদিতপ্রাণ সংগঠকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও স্মরণ।

কমরেড বিধান লাল সালাম
—সৈয়দ আমিরুজ্জামান

আজও জুনের আকাশজুড়ে মেঘের গম্ভীর ঢেউ,
স্মৃতির নদী ডাকে নীরব, ফিরে আসে কেউ।
চারটি বছর পেরিয়ে গেল, তবু হৃদয়-মাঝে
কমরেডের দীপ্ত মুখটি জেগে থাকে সাজে।

যে মানুষটি রাজপথজুড়ে স্বপ্ন বুনতেন নিত্য,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন প্রতিবাদের চিত্র,
যে মানুষটি শোষণহীন ভোরের গান গেয়েছেন,
মানুষেরই অধিকারের তরে সংগ্রাম করেছেন—

আজ তাঁরই স্মরণ-দিনে নত হয় মনপ্রাণ,
বাংলার মাটি উচ্চারণে বলে তাঁরই নাম।
বিধান চন্দ্র রায়, তুমি সংগ্রামের অগ্নিশিখা,
তোমার পথের ধুলোও যেন ইতিহাসের দীক্ষা।

চট্টগ্রামের পাহাড়ঘেরা সবুজ প্রাঙ্গণে,
যৌবনের সেই দিনগুলো ছাত্র-আন্দোলনে,
তোমার কণ্ঠ উঠেছিল যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে,
ভয়কে ঠেলে দাঁড়িয়েছিলে সত্যের দৃপ্ত সিদ্ধে।

আশির দশক—অন্ধকারে ঢাকা দেশের কাল,
সামরিক শাসনের নিচে স্তব্ধ জনতার চাল।
সেই সময়ে রাজপথজুড়ে গর্জে উঠল যারা,
তুমি ছিলে তাদের মাঝে সাহসী এক তারা।

লাঠির আঘাত, বন্দুকের ভয়, কারারুদ্ধ রাত,
তবু তোমার চোখে ছিল মুক্ত ভবিষ্যৎ-প্রভাত।
স্বৈরশাসন ভাঙার ডাকে, গণতন্ত্রের তরে,
নাম লিখিয়েছিলে তুমি ইতিহাসের ঘরে।

গণতান্ত্রিক ছাত্র ইউনিয়নের পতাকা হাতে,
তুমি হেঁটেছ দৃঢ় পদে দুর্দিনেরই রাতে।
স্লোগানের আগুন বুকে, কণ্ঠে প্রতিবাদ,
ছাত্রসমাজ পেয়েছিল যে তোমার মাঝে সাধ।

ক্ষমতার কাছে মাথা নোয়াওনি কোনোদিন,
আদর্শ ছিল তোমার কাছে জীবনেরই ঋণ।
ব্যক্তিস্বার্থ নয়, মানুষেরই কল্যাণ ছিল ধ্যান,
সেই কারণেই সংগ্রামে ছিলে অবিচল প্রাণ।

রাজনীতিকে দেখনি তুমি ক্ষমতার সিঁড়ি,
দেখেছিলে মানুষের মুক্তি, স্বপ্নের আলোক-নদী।
দেখেছিলে শ্রমিক-কৃষক মুখের নীরব বেদনা,
দেখেছিলে বঞ্চিত জনের দীর্ঘশ্বাসের রচনা।

তাই তো তুমি দাঁড়িয়েছিলে শোষণের বিপক্ষে,
অসাম্প্রদায়িক চেতনার দীপ জ্বেলে ছিলে।
ধর্ম-বর্ণের বিভেদ পেরিয়ে মানুষ ছিল মূল,
মানবতার সেই পাঠ আজও করে আকুল।

কমরেড, তোমার জীবন ছিল স্বচ্ছ নদীর জল,
সাদামাটা জীবনযাপন, সততায় অবিচল।
যশের মোহে হারাওনি পথ, পাওনি কোনো ক্লান্তি,
আদর্শ ছিল তোমার কাছে আত্মার মহাশান্তি।

সহযোদ্ধার দুঃসময়ে বাড়িয়ে দিয়েছ হাত,
মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছিল অবিরত।
বন্ধুরা আজ স্মৃতির পটে তোমায় দেখে চুপে,
শুনতে পায় সেই আহ্বান এখনও রক্তরূপে।

Manual2 Ad Code

যে রাজনীতি মানুষেরই মুক্তির কথা কয়,
যে রাজনীতি সাম্যের পথে নতুন সূর্য রয়,
তুমি ছিলে তারই একজন নির্ভীক পথিক,
অন্যায়ের সাথে আপস না-করা এক সৈনিক।

Manual7 Ad Code

সময়ের কত পরিবর্তন, কত ঘটনার ঢেউ,
কত পতাকা উঠল-নামল, বদলে গেল কেউ।
কিন্তু তোমার আদর্শ আজও স্থির পর্বত-সম,
সত্যের পাশে দাঁড়াবার যে শিক্ষা দেয় অবিরাম।

Manual3 Ad Code

দূর লন্ডনের হাসপাতালে শেষ হয়েছিল ক্ষণ,
কিন্তু শেষ কি হয় কখনো সংগ্রামী জীবন?
শরীর থামে, সময় থামে, থামে পার্থিব গান,
মানুষ বাঁচে কর্মে-চিন্তায়, বাঁচে তাঁর সম্মান।

দীর্ঘ অসুখ, ব্রেইন স্ট্রোকের নির্মম অধ্যায়,
জীবনের সঙ্গে লড়াই ছিল শেষদিন অবধায়।
তারপর এল নীরব ক্ষণ, থেমে গেল শ্বাস,
কিন্তু রেখে গেলে হৃদয়ভরা অনিঃশেষ বিশ্বাস।

আজও যখন গণতন্ত্রের প্রশ্ন ওঠে দেশে,
তোমার কথা মনে পড়ে সংগ্রামেরই শেষে।
আজও যখন অধিকারহীন মানুষ কাঁদে পথে,
তোমার কণ্ঠ ভেসে আসে প্রতিবাদের রথে।

আজও যখন তরুণেরা খোঁজে চলার দিশা,
তোমার জীবন শেখায় তাদের আদর্শের ভাষা।
সুবিধাবাদের ভিড়ের মাঝে মাথা তুলে রয়
ত্যাগের দীপ্ত উদাহরণ—বিধান চন্দ্র রায়।

যে রাজপথে হেঁটেছিলে স্লোগান হাতে নিয়ে,
সেই পথ আজও সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দিয়ে
অসংখ্য পদচিহ্ন, রক্ত, স্বপ্ন আর ইতিহাস,
যেখানে তুমি রেখে গেছ সংগ্রামের সুবাস।

শাসকের ভয়, ক্ষমতার দম্ভ, দমনের আয়োজন—
সবকিছুরই বিরুদ্ধে ছিল তোমার অবস্থান।
গণমানুষের শক্তিতে যে বদলাবে সময়,
সেই বিশ্বাসেই জীবনভর এগিয়ে গেছ নির্ভয়।

তোমার মতো মানুষরা তো সহজে হারায় না,
মাটির গভীর স্তরে গিয়ে বীজ হয়ে যায় তারা।
একদিন সেই বীজ থেকে জাগে নতুন বন,
নতুন প্রজন্ম খুঁজে পায় সংগ্রামের কারণ।

ইতিহাসের পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় লেখা থাকে নাম,
কেউ বা থাকে ক্ষমতায়, কেউ সংগ্রামের ধাম।
ক্ষমতার সেই নামগুলো মুছে যায় অনেককাল,
ত্যাগের নামই থেকে যায় হয়ে অনির্বাণ জ্যোতিবল।

তাই আজ তোমার মৃত্যুদিন শুধু শোকের নয়,
এ দিন আমাদের শপথের, নতুন আলোর জয়।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব দৃঢ় প্রাণে,
মানবমুক্তির স্বপ্ন রাখব জীবনেরই টানে।

তোমার স্মৃতি মানে শুধু অতীতের আহ্বান নয়,
ভবিষ্যতের দায়িত্বও তার অন্তরে রয়।
তোমার স্মৃতি মানে সত্য, সাহস, নৈতিক বল,
অন্ধকারে পথ দেখানো দীপশিখার দল।

কমরেড, তুমি নেই—তবু আছ মানুষের মাঝে,
শ্রমিকের ঘামে, কৃষকের মুখে, ছাত্রের প্রতিবাদে।
আছো প্রতিটি ন্যায়সংগ্রামে, প্রতিটি মিছিলে,
আছো প্রতিটি স্বপ্নবাজের প্রত্যয়েরই কূলে।

বাংলার আকাশ স্মরণ করে তোমার দৃপ্ত গান,
বাংলার মাটি স্মরণ করে সংগ্রামী সেই প্রাণ।
বাংলার মানুষ স্মরণ করে তোমার আদর্শধারা,
যেখানে জেগে থাকে মুক্ত ভবিষ্যতের তারা।

চতুর্থ এই মৃত্যুবার্ষিকী শ্রদ্ধার অর্ঘ্য হয়ে,
উঠুক ধ্বনি দেশজুড়ে সব মানুষের হৃদয়ে—
“সংগ্রাম থামে না কখনো, থামে না ন্যায়ের রথ,
কমরেডদের পদচিহ্নেই এগিয়ে চলে পথ।”

তোমার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, অশেষ ভালোবাসা,
মানুষমুক্তির স্বপ্নভরা অঙ্গীকারের ভাষা।
যতদিন এই বাংলাতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে
মানুষ জাগে, সত্য উচ্চারিত হয় দৃপ্ত সিদ্ধে—

ততদিনই বেঁচে থাকবে তোমার দীপ্ত পরিচয়,
ততদিনই উচ্চারিত হবে—বিধান চন্দ্র রায়।
ততদিনই সংগ্রামের গান ভাসবে মাঠে-ঘাটে,
ততদিনই তোমার স্মৃতি জাগবে প্রভাত-পাতে।

নম্র প্রণাম, কমরেড তুমি—ইতিহাসের সন্তান,
জনতারই স্বপ্নমাখা এক অবিনশ্বর প্রাণ।
তোমার পথে আলোক জ্বেলে এগিয়ে যাক দেশ,
মানুষের জয়, ন্যায়ের জয়—এই হোক শেষ রেশ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ