বাসায় নরমাল ডেলিভারিও ঝুঁকিপূর্ণ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২৪ ঘন্টা নিরাপদ সেবা চালু রয়েছে

প্রকাশিত: ১০:১০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২৬

বাসায় নরমাল ডেলিভারিও ঝুঁকিপূর্ণ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২৪ ঘন্টা নিরাপদ সেবা চালু রয়েছে

Manual4 Ad Code
  • শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সচেতনতামূলক প্রচারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১১ জুলাই ২০২৬ : মা ও নবজাতকের মৃত্যু এবং প্রসবজনিত জটিলতা কমাতে বাসায় ডেলিভারির পরিবর্তে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সচেতনতামূলক বার্তায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাসায় নরমাল ডেলিভারি অনেক ক্ষেত্রেই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যখন সেখানে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী, জরুরি ওষুধ এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকে না।

Manual7 Ad Code

পোস্টে বলা হয়, বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার যুগে অধিকাংশ প্রসব নিরাপদভাবে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সম্পন্ন করা সম্ভব। কিন্তু নানা সামাজিক কুসংস্কার, অসচেতনতা এবং অবহেলার কারণে এখনো অনেক পরিবার বাসায় সন্তান প্রসব করানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যা অনেক সময় মা ও নবজাতকের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, বাসায় প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (Postpartum Hemorrhage-PPH) দেখা দিলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া প্রসব দীর্ঘায়িত বা বাধাগ্রস্ত (Obstructed Labor) হলে মা ও শিশুর জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। জন্মের পর নবজাতক শ্বাস নিতে ব্যর্থ হলে (Birth Asphyxia) প্রয়োজনীয় উন্নত নবজাতক সেবা বাসায় দেওয়া সম্ভব হয় না।

এছাড়া অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্রসব করানোর কারণে মা ও শিশুর সংক্রমণ (Sepsis) হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। জরুরি অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের সুযোগ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সিজারিয়ান অপারেশন কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পেতেও বিলম্ব হয়। উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতা, ইক্ল্যাম্পসিয়া, কর্ড প্রোলাপ্স, প্লাসেন্টা আটকে যাওয়াসহ বিভিন্ন জটিল পরিস্থিতি বাসায় সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রসব একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া হলেও কখন জটিলতা দেখা দেবে তা আগে থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাই প্রসবকালীন যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষ মিডওয়াইফ, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় ওষুধ, অক্সিজেন, নবজাতক পুনর্জীবন সেবা এবং জরুরি অপারেশনের সুবিধা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Manual2 Ad Code

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, “প্রতিটি গর্ভবতী মায়ের নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা আমাদের অঙ্গীকার। প্রসব কখন জটিল হয়ে উঠবে তা আগে থেকে সব সময় বোঝা যায় না। তাই আমরা সকল গর্ভবতী মাকে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এসে সন্তান প্রসবের অনুরোধ জানাই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্বক্ষণিক দক্ষ মিডওয়াইফের মাধ্যমে নিরাপদ নরমাল ডেলিভারির ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা ও উচ্চতর কেন্দ্রে রেফারের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “অনেক পরিবার এখনো বাসায় প্রসবকে নিরাপদ মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে প্রসবকালীন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, শিশুর শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘায়িত প্রসব কিংবা উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতা মুহূর্তেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এসব পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব। তাই মা ও নবজাতকের সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রত্যেকের উচিত হাসপাতালে এসে প্রসব করানো।”

Manual7 Ad Code

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, এখানে ২৪ ঘণ্টা নরমাল ডেলিভারি সেবা চালু রয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ ও চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত প্রসবপূর্ব (ANC) ও প্রসব-পরবর্তী (PNC) সেবাও প্রদান করা হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যু ও নবজাতকের মৃত্যুহার কমাতে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দক্ষ সেবাদানকারীর উপস্থিতিতে প্রসব নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিরাপদ প্রসবসেবা সহজলভ্য হওয়ায় গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং প্রসবের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে যাওয়ার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

Manual1 Ad Code

এ লক্ষ্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সকল গর্ভবতী মা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসাসেবা গ্রহণের মাধ্যমে মা ও নবজাতকের জীবন রক্ষা করা সম্ভব।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ