হিমালয়ের এক-চতুর্থাংশ হিমবাহ গলে গেছে

প্রকাশিত: ৮:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২৬

হিমালয়ের এক-চতুর্থাংশ হিমবাহ গলে গেছে

Manual3 Ad Code
  • জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি, বিপদে হিমালয়সংলগ্ন জনপদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৮ আগস্ট ২০২৬ : জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দ্রুত বদলে যাচ্ছে হিমালয়ের ভূপ্রকৃতি।

গত চার দশকে হিমালয় পর্বতমালার হিমবাহগুলোর প্রায় এক-চতুর্থাংশ গলে গেছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রায় উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহ দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে। একই সঙ্গে পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা মাটি ও শিলাস্তর গলে যাওয়ায় পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে হিমবাহ ধস, ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও অতি-ঘন কাদামাটির প্রবাহের ঝুঁকি বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হিমালয়জুড়ে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, বনভূমি ধ্বংস, পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ এবং সুড়ঙ্গ খননের মতো কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে হিমবাহ গলা পানি, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধস একসঙ্গে বড় ধরনের দুর্যোগ তৈরি করতে পারে। এতে নেপালসহ হিমালয়সংলগ্ন দেশগুলোর জনপদ, যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

Manual8 Ad Code

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

কয়েক দশকে দ্রুত বদলে যাচ্ছে হিমালয়

হিমালয় শুধু পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ পর্বতমালা নয়, এ অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের পানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। পাহাড়ের বরফ ও হিমবাহ থেকে উৎপন্ন পানি বিভিন্ন নদ-নদীর মাধ্যমে নিচু অঞ্চলে প্রবাহিত হয়। ফলে হিমবাহের দ্রুত সংকোচন শুধু পাহাড়ি এলাকার জন্য নয়, সমতলের মানুষের জন্যও দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহের ওপর জমে থাকা বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। প্রথমদিকে এতে নদী ও হ্রদে পানির পরিমাণ বাড়তে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে হিমবাহের আয়তন কমে গেলে শুষ্ক মৌসুমে পানির সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে হিমবাহের মুখে ও আশপাশে তৈরি হওয়া অস্থিতিশীল বরফ ও পাথরের স্তূপ।

কোনো বড় বরফখণ্ড বা পাহাড়ের অংশ হঠাৎ ভেঙে পড়লে তা নিচের হ্রদ, নদী বা উপত্যকায় বিপুল পরিমাণ পানি ও পাথর ঠেলে দিতে পারে। মুহূর্তের মধ্যে সৃষ্টি হতে পারে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা বা ধস।

৫ হাজার মিটার উচ্চতা থেকে নেমে আসতে পারে ধ্বংসের ঢল

হিমালয়ের দুর্গম উচ্চভূমিতে হিমবাহ ধসের ঘটনা কতটা ভয়াবহ হতে পারে, নেপালের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তারই উদাহরণ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতা থেকে হিমবাহের বড় কোনো অংশ উপত্যকায় আছড়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বরফ, পানি, পাথর ও মাটি নিচের দিকে ধেয়ে আসে।

এই প্রবাহের সামনে থাকা বাড়িঘর, যানবাহন, সড়ক ও অন্যান্য স্থাপনা কার্যত কিছুই টিকতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে ধস ও পানির প্রবাহ উপত্যকা ধরে বহু কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকা জনপদও বিপদের মুখে পড়ে।

নেপালের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এমন দুর্যোগের পর উদ্ধার অভিযানও অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি, প্রতিকূল আবহাওয়া, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং নতুন করে ধসের আশঙ্কার কারণে উদ্ধারকারী দলকে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়।

ঘণ্টায় ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার গতিতে ধস

নিউজিল্যান্ডের ভূতত্ত্ববিদ সিমন কক্সের মতে, হিমবাহ ও পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়ার কারণে পাহাড়ের স্থিতিশীলতা কমে যাচ্ছে। এতে কোনো কোনো এলাকায় বিপুল পরিমাণ বরফ, পানি, পাথর ও মাটির সমন্বয়ে অত্যন্ত ঘন প্রবাহ তৈরি হতে পারে।

সিমন কক্স বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্রোতের উচ্চতা কয়েক মিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এবং পাহাড়ের গা বেয়ে তা দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসে। কয়েক টন ওজনের কোনো পাথর যদি উচ্চতা থেকে নিচে পড়ে, তার প্রভাব দীর্ঘ পথজুড়ে মারাত্মক হতে পারে। ফলে এ ধরনের দুর্যোগের পর উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, পারমাফ্রস্ট গলে গেলে শুধু বরফের পরিমাণ কমে না, শিলাস্তরের বন্ধনও দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে পাহাড়ের ঢালে অস্থিতিশীলতা বাড়ে এবং বড় ধরনের ধসের গতি ঘণ্টায় ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এমন প্রবাহ তার পথের প্রায় সবকিছু ভাসিয়ে বা গুঁড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে।

Manual2 Ad Code

পারমাফ্রস্ট গলছে, দুর্বল হচ্ছে পাহাড়

হিমালয়ের উচ্চভূমিতে দীর্ঘদিন ধরে জমাট অবস্থায় থাকা মাটি, পাথর ও অন্যান্য উপাদানকে পারমাফ্রস্ট বলা হয়। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এই জমাট স্তর গলতে শুরু করলে পাহাড়ের বিভিন্ন অংশের স্থিতিশীলতা কমে যায়।

পারমাফ্রস্ট অনেকটা প্রাকৃতিক সিমেন্টের মতো কাজ করে—বরফ ও জমাট মাটি শিলাখণ্ড ও মাটিকে একসঙ্গে ধরে রাখে। সেটি গলে গেলে পাহাড়ের ঢাল আলগা হয়ে পড়ে। অতিবৃষ্টি বা হিমবাহ গলার পানি সেই দুর্বল ঢালে প্রবেশ করলে বড় ধরনের ভূমিধসের সূত্রপাত হতে পারে।

এ কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় বা তাপপ্রবাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। পৃথিবীর উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলও এর সরাসরি শিকার হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাড়াচ্ছে ঝুঁকি

হিমালয় অঞ্চলে গত কয়েক দশকে সড়ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পর্যটন অবকাঠামো, আবাসন এবং বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। উন্নয়নের প্রয়োজন থাকলেও পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় না নিয়ে পাহাড় কাটা বা সুড়ঙ্গ নির্মাণ করলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য আরও নষ্ট হতে পারে বলে সতর্ক করছেন গবেষকরা।

বনভূমি ধ্বংসের ফলে পাহাড়ের মাটি ধরে রাখার প্রাকৃতিক ক্ষমতা কমে যায়। অন্যদিকে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি এবং ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কারণে ঢালের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সুড়ঙ্গ খননের সময় ভূগর্ভস্থ পানি ও শিলাস্তরের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

Manual2 Ad Code

ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়া পাহাড় যদি একই সঙ্গে অপরিকল্পিত নির্মাণের চাপের মুখে পড়ে, তাহলে দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

২০১৯ সালেই সতর্ক করেছিলেন গবেষকরা

হিমবাহ ভেঙে আকস্মিক বন্যা বা গ্লেশিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাডের ঝুঁকি নিয়ে বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে সতর্ক করে আসছেন। ২০১৯ সালের একটি গবেষণাতেও তুষারধস ও হিমবাহ ভেঙে আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছিল।

হিমবাহ গলে পানি জমে অনেক সময় পাহাড়ি অঞ্চলে হ্রদ তৈরি হয়। এসব হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ অনেক ক্ষেত্রে বরফ, পাথর ও মাটির তৈরি। হঠাৎ কোনো তুষারধস বা হিমবাহের বড় অংশ সেখানে আঘাত করলে বাঁধ ভেঙে বিপুল পানি নিচের দিকে নেমে যেতে পারে। কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৃষ্টি হতে পারে ভয়াবহ বন্যা।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহের গলন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের হ্রদ ও অস্থিতিশীল বরফ-পাথরের কাঠামোর সংখ্যাও বাড়তে পারে।

হিমালয়ের পানি ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংকটের আশঙ্কা

হিমালয়ের হিমবাহকে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পানির ভাণ্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বরফ জমে থাকা অবস্থায় এগুলো পানিকে ধরে রাখে এবং ধীরে ধীরে গলে নদী ও ঝরনায় পানি সরবরাহ করে।

কিন্তু দ্রুত গলনের ফলে স্বল্পমেয়াদে নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে যেতে পারে। এতে বন্যার ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদে হিমবাহের আয়তন কমতে থাকলে পানির স্বাভাবিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে।

এর প্রভাব পড়তে পারে কৃষি, পানীয় জল, জলবিদ্যুৎ, পর্যটন এবং কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর। হিমালয় থেকে উৎপন্ন নদীগুলোর ওপর নির্ভরশীল নিচু অঞ্চলের দেশগুলোর জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বাংলাদেশের জন্যও সতর্কবার্তা

হিমালয়ের পরিবর্তন বাংলাদেশের ভূখণ্ডে সরাসরি হিমবাহ ধসের ঝুঁকি তৈরি না করলেও এর পানি ও নদীব্যবস্থার প্রভাব বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হিমালয় ও তিব্বত মালভূমি থেকে উৎপন্ন নদীগুলোর পানি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করে।

হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার ফলে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আবার দীর্ঘমেয়াদে হিমবাহের ভাণ্ডার সংকুচিত হলে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

ফলে হিমালয়ের হিমবাহের পরিবর্তন বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা, কৃষি, নদী ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা পূর্বাভাসের সঙ্গেও সম্পর্কিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয় অঞ্চলের জলবায়ু ও হিমবাহের পরিবর্তনকে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রয়োজন আগাম সতর্কতা ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

গবেষকদের মতে, হিমবাহ গলনের প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, কারণ এর প্রধান চালিকাশক্তি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। তবে ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।

হিমবাহ ও হিমবাহ-উৎপন্ন হ্রদগুলোর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ, পাহাড় কাটা বন্ধ, বন সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

একই সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। কারণ একটি হিমবাহ বা পাহাড়ি হ্রদের বিপর্যয় একটি দেশের সীমান্তের মধ্যেই আটকে থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন সংকেত

হিমালয়ের হিমবাহের দ্রুত সংকোচন মূলত বৈশ্বিক উষ্ণায়নের আরেকটি দৃশ্যমান সংকেত। পৃথিবীর অন্য প্রান্তে কার্বন নিঃসরণ, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং বন উজাড়ের যে প্রভাব তৈরি হচ্ছে, তার প্রতিক্রিয়া পৌঁছে যাচ্ছে হাজার হাজার মিটার উচ্চতার বরফাচ্ছাদিত পর্বতেও।

একদিকে বরফ গলে বাড়ছে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে কমে যাচ্ছে প্রাকৃতিক পানির মজুত। এর সঙ্গে অপরিকল্পিত উন্নয়ন যুক্ত হলে বিপদ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

গবেষকদের সতর্কবার্তা তাই স্পষ্ট—হিমালয়ের হিমবাহ সংকটকে কেবল পাহাড়ি অঞ্চলের সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি পানি, খাদ্য, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, অবকাঠামো ও কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে যুক্ত একটি আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক সংকট। জলবায়ু পরিবর্তনের গতি কমানোর পাশাপাশি হিমালয় অঞ্চলে ঝুঁকি-সংবেদনশীল উন্নয়ন ও শক্তিশালী দুর্যোগ প্রস্তুতি এখন সময়ের দাবি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ