BIJEM-এর দুই দিনব্যাপী এডভান্স ট্রেনিং-এর সমাপ্তি

প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২৬

BIJEM-এর দুই দিনব্যাপী এডভান্স ট্রেনিং-এর সমাপ্তি

Manual6 Ad Code
  • ৩০ Citizen Journalist পেলেন পডকাস্ট, অপ-এড, ফ্যাক্টচেকিং ও AI-ভিত্তিক কনটেন্ট তৈরির প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেট প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক | গাজীপুর, ৩১ আগস্ট ২০২৬ : সার্টিফিকেট প্রদানের মধ্য দিয়ে সফলভাবে শেষ হয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া (BIJEM) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ ‘Advanced Training on Podcast Making, Op-Ed Writing & Digital Literacy for Youth’।

দেশের নয়টি জেলা থেকে নির্বাচিত ৩০ জন Citizen Journalist এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন। সাংবাদিকতা, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, তথ্য যাচাই, পডকাস্ট নির্মাণ, মতামতধর্মী লেখা (Op-Ed), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কৌশল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের মতো সমকালীন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ পান তারা।

৩০ ও ৩১ আগস্ট গাজীপুরের পূর্বাচলের ছুটি রিসোর্টে অনুষ্ঠিত এ আবাসিক প্রশিক্ষণের সমাপনী দিনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে প্রশিক্ষণ সমাপ্তির সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও শেখার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Manual7 Ad Code

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় এবং ActionAid Bangladesh-এর পরিচালনায় SUSHIL Project-এর আওতায় BIJEM-এর উদ্যোগে এ Advanced Training-এর আয়োজন করা হয়।

২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এবার Citizen Journalist-দের আরও দক্ষ, সচেতন ও দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে উন্নত ও সময়োপযোগী বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

Manual7 Ad Code

সমসাময়িক সাংবাদিকতার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ

দুইদিনের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের জন্য সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে পৃথক সেশন পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল Public Speaking, Pronunciation & Voice Over, Story Development, Mobile Journalism & Visual Storytelling, Digital Content Creation, Podcast Making, Social Media Strategy, Advanced Op-Ed Writing, Digital Literacy, Fact-checking, Information Verification এবং AI-powered Content Creation।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে Citizen Journalist-দের শুধু সংবাদ সংগ্রহ ও উপস্থাপনের প্রচলিত ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ডিজিটাল যুগের সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দক্ষতার সঙ্গে পরিচিত করা হয়। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সংবাদ ও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরি, পডকাস্ট নির্মাণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্টের কার্যকর ব্যবহার এবং তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার কারণে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ তথ্যের বিস্তারও বাড়ছে। এ বাস্তবতায় প্রশিক্ষণে Digital Literacy, Fact-checking ও Information Verification-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে AI প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কীভাবে দায়িত্বশীল ও কার্যকর কনটেন্ট তৈরি করা যায়, সে বিষয়েও অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হয়।

অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও মিডিয়া পেশাজীবীদের সেশন

প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনের অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও মিডিয়া পেশাজীবীরা।

Public Speaking, Pronunciation & Voice Over বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন BIJEM-এর Executive Director Masum Khan। বক্তব্য উপস্থাপন, উচ্চারণের শুদ্ধতা, কণ্ঠের ব্যবহার এবং ভয়েস ওভারের মৌলিক ও ব্যবহারিক দিক নিয়ে তিনি অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ দেন।

Story Development, Mobile Journalism & Visual Storytelling বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন The Daily Prothom Alo-এর Senior Content Creator S. S. Al Arefin। একটি সাধারণ ঘটনাকে কীভাবে আকর্ষণীয় ও তথ্যবহুল গল্পে রূপ দেওয়া যায় এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কীভাবে কার্যকর ভিজ্যুয়াল স্টোরি তৈরি করা যায়, তা নিয়ে ব্যবহারিক আলোচনা করেন তিনি।

The Daily Jugantor-এর Multimedia In-charge Amit Hasan Robin পরিচালনা করেন Digital Content Creation, Podcast & Social Media Strategy বিষয়ক সেশন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জন্য কনটেন্ট তৈরির কৌশল, পডকাস্টের পরিকল্পনা ও নির্মাণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্টের কার্যকর উপস্থাপনা নিয়ে তিনি অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেন।

Advanced Op-Ed Writing বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন The Daily Samakal-এর Associate Editor Sheikh Rokon। মতামতধর্মী লেখা বা Op-Ed-এর কাঠামো, বিষয় নির্বাচন, যুক্তি উপস্থাপন এবং পাঠকের কাছে একটি শক্তিশালী বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার কৌশল নিয়ে সেশন পরিচালিত হয়।

The Dissent-এর Editor Kodoruddin Shishir পরিচালনা করেন Digital Literacy, Fact-checking & Information Verification বিষয়ক সেশন। অনলাইনে পাওয়া তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই, ভুল তথ্য শনাক্তকরণ এবং কোনো তথ্য প্রকাশের আগে তার সত্যতা নিশ্চিত করার বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

এ ছাড়া Dhaka Post-এর Head of New Media Initiative Ariful Islam Arman পরিচালনা করেন AI-powered Content Creation & Digital Communication বিষয়ক সেশন। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে AI-এর সম্ভাব্য ব্যবহার, কনটেন্ট তৈরিতে এর ব্যবহার এবং প্রযুক্তিটি দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রশিক্ষণার্থীদের

প্রশিক্ষণের পুরো সময়জুড়ে Citizen Journalist-রা বিভিন্ন সেশনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। শুধু বক্তৃতা বা তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন ব্যবহারিক অনুশীলন, আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে তারা নতুন বিষয়গুলো আয়ত্ত করার সুযোগ পান।

অভিজ্ঞ মেন্টরদের কাছ থেকে সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়ার পরিবর্তিত বাস্তবতা সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজেদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা। নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা, মানুষের জীবন ও স্থানীয় ঘটনাকে কীভাবে আরও কার্যকর ও দায়িত্বশীলভাবে গল্পের আকারে তুলে ধরা যায়, সে বিষয়েও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পডকাস্ট, মোবাইল জার্নালিজম, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং, Op-Ed এবং AI-ভিত্তিক কনটেন্ট তৈরির মতো বিষয়ে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাওয়ায় প্রশিক্ষণটি অংশগ্রহণকারীদের জন্য নতুন দক্ষতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।

Manual1 Ad Code

নয় জেলার ৩০ Citizen Journalist

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে নয়টি জেলা থেকে নির্বাচিত ৩০ জন Citizen Journalist এ প্রশিক্ষণে অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী জেলাগুলো হলো—ঢাকা, কুড়িগ্রাম, নওগাঁ, গাইবান্ধা, বাগেরহাট, বান্দরবান, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা ও চট্টগ্রাম।

বিভিন্ন ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতা থেকে আসা Citizen Journalist-দের অংশগ্রহণের ফলে প্রশিক্ষণে স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকতা ও নাগরিক সাংবাদিকতার নানা অভিজ্ঞতা উঠে আসে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সমস্যা, স্থানীয় পর্যায়ের সম্ভাবনা, সামাজিক পরিবর্তন এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় আনা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।

স্থানীয় গল্পকে দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য

আয়োজকদের মতে, বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে সাধারণ মানুষও নিজ নিজ এলাকার নানা ঘটনা ও সমস্যাকে দ্রুত সবার সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে তথ্য প্রকাশের এই সুযোগের সঙ্গে দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ করা হলে তা দ্রুত বিভ্রান্তিকর তথ্য হিসেবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এ কারণে প্রশিক্ষণে Citizen Journalist-দের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সাংবাদিকতার নৈতিকতা, তথ্য যাচাই এবং দায়িত্বশীল কনটেন্ট তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে কীভাবে তথ্যনির্ভর, আকর্ষণীয় ও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা যায়, তা শেখানো হয়।

প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য ছিল অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ এলাকার মানুষের সমস্যা, সম্ভাবনা ও গুরুত্বপূর্ণ গল্প আরও দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর মাধ্যমে একজন Citizen Journalist হিসেবে তাদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল যোগাযোগের পরিবেশ তৈরি করাও এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

২০২৪ সালের প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা

২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এবারের Advanced Training আয়োজন করা হয়। আগের প্রশিক্ষণে অর্জিত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে এবার আরও উন্নত ও সময়োপযোগী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে পডকাস্ট, Advanced Op-Ed Writing, Digital Literacy, Fact-checking এবং AI-powered Content Creation-এর মতো বিষয় যুক্ত হওয়ায় প্রশিক্ষণটি বর্তমান ডিজিটাল সাংবাদিকতার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে।

সাংবাদিকতার ধরন ও প্ল্যাটফর্ম দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় একজন Citizen Journalist-এর জন্য শুধু লেখার দক্ষতা যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে অডিও-ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরি, মোবাইল সাংবাদিকতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনা, তথ্য যাচাই এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন প্রয়োজন। এবারের প্রশিক্ষণে এসব বিষয়কে সমন্বিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

সার্টিফিকেট প্রদানের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি

দুইদিনব্যাপী প্রশিক্ষণের শেষ দিনে অংশগ্রহণকারীদের শেখার অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান এবং প্রশিক্ষণ চলাকালে তৈরি করা বিভিন্ন কাজ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।

পরে ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে প্রশিক্ষণ সমাপ্তির সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। সার্টিফিকেট প্রদানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় দুই দিনব্যাপী এই আবাসিক Advanced Training।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকায় আরও দায়িত্বশীলভাবে তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপন করবেন। স্থানীয় মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, সম্ভাবনা ও বাস্তব জীবনের গল্পগুলোকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরার পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করবেন তারা।

এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে Citizen Journalist-দের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্বশীল নাগরিক সাংবাদিকতার চর্চা আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্যের মান, বিশ্বাসযোগ্যতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Manual2 Ad Code