ভূনবীর ইউনিয়নে মা সমাবেশ ও ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প

প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

ভূনবীর ইউনিয়নে মা সমাবেশ ও ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প

Manual3 Ad Code
  • ১১০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ৮৯ নারীর VIA পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নে নিরাপদ মাতৃত্ব, নারীর স্বাস্থ্যসেবা এবং জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশেষ মা সমাবেশ ও ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে ইউনিয়নের দশরথের এফডব্লিউসিতে (ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার) দিনব্যাপী এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

ক্যাম্পে স্থানীয় সাধারণ রোগী, গর্ভবতী মা এবং নারীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জরায়ুমুখ ক্যান্সার শনাক্তকরণের প্রাথমিক স্ক্রিনিং হিসেবে VIA (Visual Inspection with Acetic Acid) পরীক্ষা করা হয়। তৃণমূল পর্যায়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করতেই এ আয়োজন করা হয়।

Manual8 Ad Code

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সিনথিয়া তাসমিনের সার্বিক নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ মেডিক্যাল ক্যাম্পে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি দক্ষ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর্মী দল দিনব্যাপী সেবা প্রদান করেন।

ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন চিকিৎসক ডাঃ আজহার মাহমুদ। তাঁর সঙ্গে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হাসিনা আক্তার ও জোস্না বেগম। মিডওয়াইফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মনি বেগম। স্বাস্থ্য পরিদর্শক মনোয়ারা বেগম এবং সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক গঙ্গা রায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে অংশ নেন। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (CHCP) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অজয় পাল, হেপী রানী সেন ও সিক্তা রানী দেব। স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দিপেন দেবনাথ।

একদিনে তিন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিনব্যাপী এ ক্যাম্পে মোট ১১০ জন সাধারণ রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ গ্রহণ করেন। চিকিৎসকদের মাধ্যমে রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগের বিষয়ে পরামর্শ এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ক্যাম্পে ১০ জন গর্ভবতী মা অংশ নিয়ে প্রসবপূর্ব যত্ন (অ্যান্টেনাটাল কেয়ার) ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ গ্রহণ করেন। গর্ভাবস্থায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিরাপদ মাতৃত্ব এবং প্রসবপূর্ব যত্নের গুরুত্ব সম্পর্কে তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়।

নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে ক্যাম্পে ৮৯ জনের VIA পরীক্ষা করা হয়। জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে ঝুঁকি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রত্যন্ত ও তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের কাছে এ সেবা পৌঁছে দেওয়াকে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিরাপদ মাতৃত্বে জোর

Manual4 Ad Code

মা সমাবেশে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রসবপূর্ব সেবা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সময়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে নারীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করা এবং রোগের প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল। বিশেষ করে জরায়ুমুখ ক্যান্সার সম্পর্কে নারীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে এ ধরনের ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরাসরি যেতে না পারা বা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে দূরে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে মা ও নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা স্থানীয় পর্যায়ে নিশ্চিত করা গেলে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

Manual5 Ad Code

অব্যাহত থাকবে স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রম

Manual5 Ad Code

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপদ মাতৃত্ব, জরায়ুমুখ ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের মানবিক ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার উদ্যোগ রয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে একসঙ্গে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা, গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব পরামর্শ এবং নারীদের VIA পরীক্ষার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ক্যাম্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।