চীনা বিপ্লবের ৭৭ বছর: বিপ্লবী রূপান্তর ও বিশ্বশক্তি হয়ে ওঠার অনন্য নজির

প্রকাশিত: ১:১৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২৬

চীনা বিপ্লবের ৭৭ বছর: বিপ্লবী রূপান্তর ও বিশ্বশক্তি হয়ে ওঠার অনন্য নজির

Manual5 Ad Code

সৈয়দ আমিরুজ্জামান |

এক সময়কার খুবই দরিদ্র ও পশ্চাৎপদ দেশ চীন এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এক অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

১ অক্টোবর ২০২৬। গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠার ৭৭ বছর পূর্তি। ১৯৪৯ সালের এই দিনে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) নেতৃত্বে দীর্ঘ বিপ্লবী সংগ্রামের পর বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে দাঁড়িয়ে চীনা বিপ্লবের মহান নেতা কমরেড মাও সে তুং সমাজতান্ত্রিক বিনির্মাণের প্রত্যয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার মধ্য দিয়ে চীনের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।

১৯৪৯-এর চীন আর ২০২৬-এর চীন এক নয়। কৃষিনির্ভর, দরিদ্র, যুদ্ধ ও সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের শিকার বিপর্যস্ত হয়েও একটি দেশ গত সাত দশকে শিল্প, অবকাঠামো, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হওয়ার বিষয়টি চমকপ্রদ অনন্য নজির বটে।

দেশটিতে আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতির দেশটি নজিরবিহীন সম্পদ অর্জন করেছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে। গণপ্রজাতন্ত্রী চীন আজ শুধু এশিয়া মহাদেশেই নয়, সারাবিশ্বেও পরাক্রমশালী এক সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

এই রূপান্তরকে যেমন একটি রাজনৈতিক বিপ্লবের ফল দেখা হয়, তেমনি অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে যে আঁকাবাঁকা পথে এগোতে হয়েছে, এর হিশেবটা না দেখলে চীনের ইতিহাসের পূর্ণতা ধরা পড়ে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, ভূমি সংস্কার, শিল্পায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সম্প্রসারণ, ১৯৭৮-পরবর্তী অর্থনৈতিক সংস্কার, বৈদেশিক বিনিয়োগ, রপ্তানিমুখী উৎপাদন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংযুক্তি। একই সঙ্গে এই ইতিহাসে রয়েছে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, সাংস্কৃতিক বিপ্লব, শ্রমিক শ্রেণির মতাদর্শের ব্যবস্থা নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে জনস্বার্থ বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়াকে (আইনের শাসন) রাজনৈতিক দমন-পীড়ন হিসেবে দেখা, ১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন সংকট এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা।

অতএব, চীনের ৭৭ বছরের ইতিহাস একই সঙ্গে সাফল্য, সংকট, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিপ্লবী রূপান্তর ও রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার ইতিহাস।

বিপ্লবের পথ

চীনা বিপ্লবের শিকড় উনিশ ও বিশ শতকের চীনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে নিহিত। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চাপ, অসম চুক্তি, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দুর্বলতা, সামন্তীয় সম্পর্ক, যুদ্ধবাজদের আধিপত্য এবং জাপানি আগ্রাসন চীনের সমাজকে দীর্ঘ সময় অস্থিতিশীল করে রেখেছিল।

১৯২১ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তী সময়ে কৃষকভিত্তিক বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে মাও সে তুংয়ের নেতৃত্বের উত্থান ঘটে। ১৯৩৪-৩৫ সালের লং মার্চ চীনা কমিউনিস্ট আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এরপর জাপানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫-৪৯ সালের গৃহযুদ্ধ চীনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন বাহিনী কুয়োমিনতাংকে পরাজিত করে মূল ভূখণ্ডে ক্ষমতা গ্রহণ করে। কুয়োমিনতাং সরকার পরবর্তীতে তাইওয়ানে সরে যায়। ১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠিত হয়।

এটি শুধু সরকার পরিবর্তন ছিল না; চীনের রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও সমাজকে নতুন আদর্শের ভিত্তিতে বিপ্লবী রূপান্তর ও পুনর্গঠনের একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সূচনা ছিল।

Manual5 Ad Code

মাও যুগ: রাষ্ট্র নির্মাণ ও কঠিন পরীক্ষা

১৯৪৯ থেকে ১৯৭৬—মাও সে তুংয়ের নেতৃত্বাধীন সময় চীনের রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনের প্রথম পর্যায়। ভূমি সংস্কার, শিল্পায়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার বিস্তার, নারীর সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এই সময়ের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

তবে এই সময়ের ইতিহাস গভীরভাবে আলোচনা ও বিশ্লেষণের দাবী রাখে।

১৯৫৮ সালে শুরু হয় ‘গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড’। কৃষি ও শিল্প উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর লক্ষ্যে বৃহৎ আকারের গণকমিউন ও উৎপাদন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বাস্তবতা, প্রশাসনিক চাপ, উৎপাদন-সংক্রান্ত ভুল তথ্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন কারণে এই কর্মসূচি ভয়াবহ খাদ্যসংকটে রূপ নেয়। ১৯৫৯-৬১ সালের দুর্ভিক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে, তবে এটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হিসেবে স্বীকৃত।

এরপর ১৯৬৬ সালে শুরু হয় সাংস্কৃতিক বিপ্লব। ‘পুরোনো চিন্তা, পুরোনো সংস্কৃতি, পুরোনো অভ্যাস ও পুরোনো রীতির’ বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলন দ্রুত সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নেয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সরকারি কর্মকর্তা ও পার্টির বহু নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হন।

কমরেড মাও সে তুং চীনা বিপ্লবের কেন্দ্রীয় নেতা হলেও তাঁর নেতৃত্বাধীন সময়ের পদক্ষেপসমূহ সম্পর্কে পরবর্তী চীনা নেতৃত্বও মূল্যায়ন করেছে। যদিও ১৯৮১ সালের ঐতিহাসিক পার্টি রেজল্যুশনে সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে গুরুতর ভুল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ মূল্যায়ন সরলীকরণ কিনা, এর বিশ্লেষণ ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

চীনের ইতিহাসের এই অধ্যায় তাই একদিকে রাষ্ট্র নির্মাণের, অন্যদিকে নীতিগত ভুলের ভয়াবহ মূল্য দেওয়ার ইতিহাস।

দেং জিয়াওপিং ও নতুন পথের সূচনা

১৯৭৬ সালে কমরেড মাও সে তুংয়ের মৃত্যুর পর চীনের রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯৭৮ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির তৃতীয় প্লেনামের পর দেং জিয়াওপিংয়ের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্মুক্তকরণের নতুন যুগ শুরু হয়।

দেংয়ের মৌলিক উপলব্ধি ছিল—দারিদ্র্য দূর না হলে সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

কৃষিতে কমিউন ব্যবস্থা শিথিল করে পরিবারভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করা হয়। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হয়। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি ও বাজারভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়।

দেংয়ের বহুল উদ্ধৃত ‘বিড়াল কালো না সাদা—ইঁদুর ধরতে পারলেই হলো’ কথাটি বাস্তববাদী অর্থনৈতিক নীতির প্রতীক হয়ে ওঠে। চীন সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক কাঠামো বজায় রেখেও বাজারের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করতে শুরু করে।

পরবর্তী সময়ে এই ব্যবস্থাকে ‘সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

বাজার অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের সমন্বয়

চীনের অর্থনৈতিক মডেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—বাজার ব্যবস্থার সম্প্রসারণের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ধারাবাহিকতা।

চীন পুরোপুরি সোভিয়েত ধাঁচের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা অর্থনীতি ধরে রাখেনি। আবার পশ্চিমা ধাঁচের উদার বাজার অর্থনীতিতেও পরিণত হয়নি। বরং রাষ্ট্র কৌশলগত শিল্প, ব্যাংকিং, জ্বালানি, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভূমিকা বজায় রেখেছে।

এই মডেলের ফলে চীন কয়েক দশক ধরে অত্যন্ত দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ১৯৭৮ সালের পর থেকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে শত শত মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। চীনের নিজস্ব সরকারি হিসাবে, ২০২০ সালের মধ্যে দেশটি চরম দারিদ্র্য নির্মূলের লক্ষ্য অর্জন করেছে।

তবে চীনের দারিদ্র্য পরিমাপের পদ্ধতি এবং ‘চরম দারিদ্র্য নির্মূল’ ঘোষণার মূল্যায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষকদের মধ্যে বিভিন্ন আলোচনা রয়েছে। দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে চীনের অগ্রগতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আঞ্চলিক বৈষম্য, আয়বৈষম্য ও শহর-গ্রামের ব্যবধানও চীনের উন্নয়ন-আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

শিল্পায়ন থেকে ‘বিশ্বের কারখানা’

চীনের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো শিল্পায়ন।

১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে বিপুল শ্রমশক্তি, তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয়, অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে চীন বিশ্ব উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে যায়।

২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (WTO) চীনের যোগদান এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করে।

ইলেকট্রনিক পণ্য, পোশাক, যন্ত্রপাতি, ইস্পাত, রাসায়নিক পণ্য, সৌর প্যানেল, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক যানবাহন—বিভিন্ন খাতে চীন বিশ্ব উৎপাদন ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় অবস্থান অর্জন করে।

বর্তমানে চীন বিশ্বের বৃহত্তম পণ্য রপ্তানিকারকদের অন্যতম এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক শক্তি। দেশটির বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারও বহুজাতিক কোম্পানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় পরিবর্তন

চীনের রূপান্তরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র কৃষি।

১৯৪৯ সালের তুলনায় খাদ্যশস্য উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশটির শস্য উৎপাদন প্রায় ১.৪ ট্রিলিয়ন জিনের কাছাকাছি পৌঁছায়। একই সঙ্গে সেচ, উন্নত বীজ, কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, রাসায়নিক সার, কৃষি গবেষণা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে।

কৃষির কাঠামোও পরিবর্তিত হয়েছে। শুধু শস্য উৎপাদনের পরিবর্তে পশুপালন, মৎস্য, বনজ ও বহুমুখী কৃষি অর্থনীতি সম্প্রসারিত হয়েছে।

কৃষি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি চীনের খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। উচ্চফলনশীল জাত, স্মার্ট কৃষি, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এখন চীনা কৃষির নতুন বাস্তবতা।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নতুন চীন

১৯৭০ সালে চীনের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘SDVSNS-১’ মহাকাশে উৎক্ষেপিত হয়। সেই সূচনা আজ চীনের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন, চাঁদ ও মঙ্গল অভিযান এবং মানববাহী মহাকাশ কর্মসূচিতে পৌঁছেছে।

Manual4 Ad Code

৫জি প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, সৌরশক্তি, উচ্চগতির রেল, ড্রোন ও ডিজিটাল পেমেন্ট—বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীন দ্রুত সক্ষমতা অর্জন করেছে।

বিশেষ করে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক চীনের অবকাঠামোগত রূপান্তরের একটি দৃশ্যমান উদাহরণ। একই সঙ্গে সৌর প্যানেল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের উৎপাদনে চীনের বৈশ্বিক অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য।

তবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত চিপ, কিছু উচ্চপ্রযুক্তি যন্ত্রপাতি ও মৌলিক প্রযুক্তিতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা চীনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ও চীনের শিক্ষা

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনে গভীর অভিঘাত সৃষ্টি করে। চীনা নেতৃত্ব এই ঘটনাকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে।

মিখাইল গরবাচেভ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে সোভিয়েত ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছিলেন। ‘পেরেস্ত্রোইকা’ ও ‘গ্লাসনস্ত’ সেই সংস্কার প্রক্রিয়ার পরিচিত দুটি ধারণা।

চীন ভিন্ন পথ গ্রহণ করে। অর্থনৈতিক সংস্কার ও বাজার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা হলেও রাজনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা হয়।

চীনা নেতৃত্বের যুক্তি ছিল—অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো যেতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক ভাঙন রাষ্ট্রীয় ঐক্য ও উন্নয়নকে বিপন্ন করতে পারে।

এই নীতির ফলে চীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো রাষ্ট্রীয় ভাঙনের মুখে পড়েনি। তবে এর বিনিময়ে রাজনৈতিক বহুত্ববাদ ও মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় থেকেছে—যা চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে পশ্চিমা উদার গণতান্ত্রিক মডেল থেকে পৃথক করেছে।

তিয়ানআনমেন ১৯৮৯: চীনের ইতিহাসের আরেক অধ্যায়

১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন আন্দোলন চীনের সমসাময়িক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।

বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে শিক্ষার্থী ও অন্য নাগরিকদের বিক্ষোভ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলার পর ৪ জুন সামরিক বাহিনী এক কঠিন ধৈর্যের সঙ্গে অভিযান চালায়। বিক্ষোভের ব্যাপকতার তুলনায় হতাহতের সঠিক সংখ্যা খুবই কম। সেনাবাহিনীর নজিরবিহীন প্রশংসনীয় ধৈর্যের বিষয়টি সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তে পশ্চিমা মিডিয়ায় আলোচিত হয়নি এবং পশ্চিমা বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যার কথা বলা হয়, যদিও তা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার উদাহরণ নয়।

এই ঘটনার পর চীনা সরকার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করে। একই সময়ে অর্থনৈতিক রূপান্তর ও সংস্কার আবারও গতি পায়।

তিয়ানআনমেন চীনের উন্নয়ন মডেল নিয়ে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনে—অর্থনৈতিক উন্মুক্ততা কি রাজনৈতিক উন্মুক্ততার দিকে অনিবার্যভাবে নিয়ে যায়?

চীনের অভিজ্ঞতা বলছে, তা অনিবার্য নয়। দেশটি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্মুক্ততা গ্রহণ করলেও রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন বজায় রেখেছে।

শি জিনপিংয়ের যুগ

২০১২ সালে শি জিনপিং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হন এবং ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে নতুন কিছু বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়েছে।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, দারিদ্র্য বিমোচন, সামরিক আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা, রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চীনের সক্রিয় ভূমিকা—এসব তাঁর নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

২০১৩ সালে শি জিনপিং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI) ঘোষণা করেন। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে অবকাঠামো, বাণিজ্য ও যোগাযোগের সম্পর্ক বাড়ানো এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

BRI নিয়ে সমর্থন যেমন আছে, তেমনি ঋণের শর্ত, প্রকল্পের অর্থনৈতিক কার্যকারিতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং ভূরাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েও আন্তর্জাতিক বিতর্ক রয়েছে। চীন এসব প্রকল্পকে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে তুলে ধরে; সমালোচকেরা এর কিছু প্রকল্পকে চীনের কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করে দেখেন।

তাই BRI-কে শুধু অর্থনৈতিক প্রকল্প বা শুধু ভূরাজনৈতিক কৌশল—যেকোনো একমাত্রিক ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ না করে প্রকল্পভিত্তিক বাস্তবতা দিয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের উত্থান

চীন এখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের একটি। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে এর আন্তর্জাতিক প্রভাবও বেড়েছে।

চীন আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারিত করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এই প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। দক্ষিণ চীন সাগর, তাইওয়ান, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি, সমুদ্রপথ, সামরিক সক্ষমতা ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ক্রমেই জটিল হয়েছে।

এই প্রতিযোগিতা ভবিষ্যৎ বিশ্বব্যবস্থার অন্যতম নির্ধারক উপাদান হতে পারে। তবে একে সরলভাবে ‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধ’ বলা হবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

চীনের উন্নয়নের মূল্যও আছে

চীনের উন্নয়নকে কেবল সাফল্যের গল্প হিসেবে দেখলে বাস্তবতার একটি অংশ বাদ পড়ে যায়।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে পরিবেশ দূষণ বেড়েছে। দ্রুত শিল্পায়নের কারণে কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও বর্তমানে চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ করছে।

আবার দ্রুত নগরায়নের ফলে শহর-গ্রাম বৈষম্য, আবাসন সমস্যা, কর্মসংস্থান, বয়স্ক জনসংখ্যা এবং জনমিতিক পরিবর্তন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

চীনের এক-সন্তান নীতি কয়েক দশক পর জনসংখ্যার বয়স কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এনেছে। পরবর্তীতে নীতি শিথিল করা হলেও জন্মহার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যায়নি।

অর্থাৎ চীনের সামনে এখন আর শুধু ‘দারিদ্র্য থেকে উন্নয়ন’-এর প্রশ্ন নেই; বরং উচ্চ আয়ের, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশগতভাবে টেকসই ও জনমিতিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

২০৪৯: দ্বিতীয় শতবর্ষের লক্ষ্য

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার সময় চীনের সামনে ছিল রাষ্ট্রীয় ঐক্য, খাদ্য, ভূমি, শিল্পায়ন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। আজ ৭৭ বছর পর চীনের সামনে লক্ষ্য আরও ভিন্ন।

চীনা নেতৃত্ব ২০৪৯ সাল—গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের শতবর্ষ—কে একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। ‘দ্বিতীয় শতবর্ষের লক্ষ্য’-এর সঙ্গে আধুনিক, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের ধারণা যুক্ত।

এই লক্ষ্য অর্জনের পথে চীনকে একসঙ্গে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে—অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি, প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা, জনসংখ্যার বার্ধক্য, পরিবেশ, আয়বৈষম্য, বৈশ্বিক বাণিজ্য সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক।

বাংলাদেশের জন্য চীনের অভিজ্ঞতার তাৎপর্য

বাংলাদেশের জন্য চীনের অভিজ্ঞতা নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

চীনকে অনুকরণ করা নয়; বরং তার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি শিল্পনীতি, অবকাঠামো বিনিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি উৎপাদনশীলতা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তি উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গবেষণার বিষয় হতে পারে।

তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, জনমিতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা চীনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ফলে কোনো মডেল সরাসরি আমদানি না করে নিজস্ব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি নির্ধারণ প্রয়োজন।

বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং বৈষম্য হ্রাসকে উন্নয়ননীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা জরুরি।

বিপ্লবের ৭৭ বছর: ইতিহাসের শিক্ষা

চীনা বিপ্লবের ৭৭ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা।

মাও সে তুং রাষ্ট্রীয় ভিত্তি নির্মাণ করেছিলেন। দেং জিয়াওপিং অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে রূপান্তর, সেই রাষ্ট্রকে নতুন পথে পরিচালিত করেন। পরবর্তী নেতৃত্ব সেই সংস্কার ও রূপান্তরকে আরও বিস্তৃত করে। শি জিনপিংয়ের সময় রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা, প্রযুক্তি, জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রভাবের ওপর নতুন করে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

চীনের অভিজ্ঞতা দেখায়, কোনো রাষ্ট্রের উন্নয়ন একটি একক সিদ্ধান্তের ফল নয়। এটি বহু দশকের নীতি, প্রতিষ্ঠান, শ্রম, শিক্ষা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সম্মিলিত ফল।

একই সঙ্গে এই ইতিহাস আমাদের সতর্কও করে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নীতিগত ভুলের মূল্যও অনেক বড় হতে পারে। গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব তার ঐতিহাসিক উদাহরণ। তিয়ানআনমেনের অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক অধিকারের সম্পর্ক নিয়ে আজও গবেষণা ও বিশ্লেষণের বিষয়।

অতএব চীনের ইতিহাসকে না অন্ধ প্রশংসা দিয়ে, না অন্ধ বিরোধিতা দিয়ে—বরং ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্লেষণ ও বিচার করা প্রয়োজন।

Manual6 Ad Code

আজকের চীন মাওয়ের ১৯৪৯-এর চীন ধারাবাহিকতা। আবার এটি পশ্চিমা উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রও নয়। তবে ক্রম ধারাবাহিকভাবে এটি একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মডেল, যেখানে বৃহত্তর জনগণের পক্ষে শ্রমিক শ্রেণির মতাদর্শের একদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে বাজার, বেসরকারি উদ্যোগ, রাষ্ট্রীয় মালিকানা, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের সমন্বয় ঘটেছে।

এই মডেল কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা ভবিষ্যৎ বলবে। কিন্তু গত ৭৭ বছরে চীনের রূপান্তর যে আধুনিক বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Manual8 Ad Code

বাংলাদেশের প্রগতিশীল সমাজের জন্য প্রাসঙ্গিকতা

চীনা বিপ্লবের ইতিহাস শুধু চীনের ইতিহাস নয়; এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বহু মুক্তি ও সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, কৃষক-শ্রমিকের অধিকার, অসাম্প্রদায়িকতা, সামাজিক ন্যায় ও বৈষম্য হ্রাসের সংগ্রামের সঙ্গে চীনের বিপ্লবী ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ের তুলনামূলক পাঠ হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার ক্ষেত্র।

তবে ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা মানে ইতিহাসের সব সিদ্ধান্তকে প্রশ্নাতীতভাবে গ্রহণ করা নয়। বরং মহান বিপ্লবী ও রাষ্ট্রনায়কদের অর্জনের পাশাপাশি তাঁদের ভুল, সীমাবদ্ধতা এবং ঐতিহাসিক আলোচনা ও বিতর্ক থেকেও শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।

সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান, কৃষকের ন্যায্য অধিকার, শ্রমিকের মর্যাদা এবং সামাজিক বৈষম্য হ্রাস—যে কোনো প্রগতিশীল রাজনৈতিক দর্শনের মৌলিক পরীক্ষার জায়গা এখানেই।

চীনা বিপ্লবের ৭৭তম বার্ষিকীতে তাই মাও সে তুং, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বিপ্লবী কর্মী এবং চীনের আধুনিক রাষ্ট্র নির্মাণে অবদান রাখা কোটি কোটি মানুষের সংগ্রামকে স্মরণ করার পাশাপাশি ইতিহাসের শিক্ষা গ্রহণ করাও জরুরি।

ইতিহাসের নির্মাতা শেষ পর্যন্ত জনগণ। রাষ্ট্র, নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক সংগঠন ইতিহাসের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে; কিন্তু মানুষের শ্রম, আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রাম ছাড়া কোনো বৃহৎ সামাজিক পরিবর্তনই সম্ভব নয়।

চীনের ৭৭ বছরের ইতিহাস সেই দীর্ঘ পরিবর্তনেরই এক অনন্য দলিল।

চীনা বিপ্লব বার্ষিকী উপলক্ষ করে এই নিবন্ধটি লেখা হলেও মহান ও কীর্তিমান বিপ্লবীদের নিয়ে সব সময়ই লেখা যায়। পরিশেষে, সমাজতন্ত্র অভিমুখী অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সমতা-ন্যায্যতার প্রশ্নে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনেই জনগণের নতুন ধারার এক আর্থসামাজিক বৈপ্লবিক ব্যবস্থা প্রবর্তনে বিশ্বজনীন মহান ও কীর্তিমান বিপ্লবীদের রাজনীতি, আত্মোৎসর্গ, জীবন সংগ্রাম, কীর্তি, ইতিহাস, তত্ত্ব ও অনুশীলন সম্পর্কে পাঠ প্রাসঙ্গিক ও জরুরী।

কিংবদন্তী মহানায়ক কমরেড মাও সে তুং, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সকল বিপ্লবীসহ ইতিহাসের নির্মাতা ও চালিকাশক্তি জনগণের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা ও অভিবাদন!

#

সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;
বিশেষ প্রতিনিধি, দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট (ইংরেজি দৈনিক) ও সাপ্তাহিক নতুনকথা;
সম্পাদক, আরপি নিউজ;
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি;
‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।
সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন।
সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি।
প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ আইন ছাত্র ফেডারেশন।
E-mail : syedzaman.62@gmail.com
WhatsApp : 01716599589
মুঠোফোন: ০১৭১৬৫৯৯৫৮৯
Bikash number : +8801716599589 (personal)