সৈয়দ আমিরুজ্জামান |
প্রতিবছর ৭ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব শোভন কর্ম দিবস। শ্রমিকের মর্যাদা, ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক সুরক্ষা, সংগঠিত হওয়ার অধিকার এবং কর্মক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের দাবিকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলন ও ট্রেড ইউনিয়নগুলো এই দিনটি পালন করে। দিনটি কেবল শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলার একটি আনুষ্ঠানিক উপলক্ষ নয়; বরং একটি সমাজ তার শ্রমজীবী মানুষকে কতটা মর্যাদা দেয়, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।
সভ্যতার ইতিহাস মূলত মানুষের শ্রমের ইতিহাস। কৃষক জমিতে উৎপাদন করেন, শ্রমিক কারখানা সচল রাখেন, নির্মাণশ্রমিক শহর গড়ে তোলেন, পরিবহনশ্রমিক অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন, গৃহশ্রমিক পরিবার ও নগরজীবনের অদৃশ্য ভিত্তি তৈরি করেন। পোশাকশ্রমিক বাংলাদেশের রপ্তানি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। রিকশাচালক, দোকানকর্মী, হকার, দিনমজুর, পরিবহনশ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক, মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করা তরুণ—সবাই মিলেই আমাদের অর্থনীতির বাস্তব শ্রমশক্তি।
কিন্তু অর্থনীতির এই অপরিহার্য চালিকাশক্তির বড় একটি অংশ এখনো নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও ন্যায্য কর্মজীবন থেকে বঞ্চিত। এই বাস্তবতায় বিশ্ব শোভন কর্ম দিবসের তাৎপর্য আরও গভীর।
শোভন কাজ কেন গুরুত্বপূর্ণ
‘শোভন কাজ’ বা Decent Work বলতে শুধু একটি চাকরি বোঝায় না। এমন কর্মসংস্থান বোঝায়, যেখানে একজন মানুষ ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মর্যাদা পাবেন, বৈষম্যের শিকার হবেন না, সংগঠিত হওয়ার অধিকার ভোগ করবেন এবং অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, মাতৃত্ব, বার্ধক্য কিংবা কর্মহীনতার মতো ঝুঁকির সময়ে সামাজিক সুরক্ষা পাবেন।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা—আইএলও—১৯৯৯ সালে Decent Work Agenda-এর মাধ্যমে শোভন কাজের ধারণাকে বৈশ্বিক শ্রমনীতির গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হিসেবে সামনে আনে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিকের অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা এবং সামাজিক সংলাপ—এই চারটি মূল স্তম্ভের ওপর শোভন কাজের ধারণা দাঁড়িয়ে আছে।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৮ নম্বর লক্ষ্যও হলো ‘Decent Work and Economic Growth’। অর্থাৎ শোভন কর্মসংস্থান শুধু শ্রমিক অধিকারের বিষয় নয়; এটি দারিদ্র্য হ্রাস, বৈষম্য কমানো, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
একজন শ্রমিক যখন ন্যায্য মজুরি পান, তখন তার পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যয় নির্বাহের সক্ষমতা বাড়ে। স্থানীয় অর্থনীতিতে চাহিদা তৈরি হয়। উৎপাদন বাড়ে। ফলে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি কেবল মালিকের ব্যয় বৃদ্ধি নয়; এটি অর্থনীতিতে নতুন চাহিদা ও উৎপাদনেরও জন্ম দেয়। তাই শোভন কাজকে অর্থনীতির বোঝা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি একটি শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি।
তরুণ শ্রমিক: ভবিষ্যতের প্রশ্ন
এবারের বিশ্ব শোভন কর্ম দিবসের মূল বার্তা—‘ভবিষ্যতের জন্য তরুণ কর্মীদের সংগঠিত করা’—বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ বিশ্বের শ্রমবাজারে তরুণরাই একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা এবং সবচেয়ে বড় ঝুঁকির অংশ।
তরুণদের একটি বড় অংশ প্রথম কর্মজীবনেই অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছে। স্থায়ী চাকরির পরিবর্তে অস্থায়ী কাজ, চুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান, কম মজুরি, গিগ-ইকোনমি, অনানুষ্ঠানিক কাজ এবং সামাজিক সুরক্ষাহীন কর্মসংস্থান তাদের বাস্তবতা হয়ে উঠছে।
শিক্ষিত তরুণদের একটি অংশ দীর্ঘদিন চাকরি খুঁজেও কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না। আবার যারা কাজ পাচ্ছেন, তাদের অনেকেই নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তুলনায় কম মজুরির কাজে যুক্ত হচ্ছেন। ফলে ‘চাকরি আছে’—এই পরিসংখ্যান দিয়ে তরুণদের কর্মসংস্থানের প্রকৃত চিত্র বোঝা যায় না। প্রয়োজন কর্মসংস্থানের গুণগত মান বিচার করা।
একজন তরুণ যদি দিনে দীর্ঘ সময় কাজ করেন, কিন্তু তার আয় দিয়ে বাসাভাড়া, খাবার, চিকিৎসা, যাতায়াত ও পরিবারের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব না হয়, তবে সেটিকে কতটা শোভন কর্মসংস্থান বলা যাবে? একজন তরুণ যদি চাকরি হারালে কোনো বেকার ভাতা না পান, অসুস্থ হলে চিকিৎসা সহায়তা না পান, কর্মক্ষেত্রে অন্যায় হলে প্রতিকার চাইতে না পারেন—তাহলে সেই কর্মসংস্থান কতটা নিরাপদ?
এই প্রশ্নগুলো এখন বাংলাদেশের শ্রমনীতির কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বাস্তবতা
বাংলাদেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে শ্রমনির্ভর। কৃষি, শিল্প, নির্মাণ, পরিবহন, পোশাক, ক্ষুদ্র ব্যবসা, সেবা, গৃহস্থালি শ্রমসহ বিভিন্ন খাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মরত। কিন্তু এই শ্রমশক্তির বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত।
অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের বড় অংশের লিখিত নিয়োগপত্র নেই, নিয়মিত কর্মঘণ্টার নিশ্চয়তা নেই, ন্যূনতম মজুরি কার্যকর নয় এবং সামাজিক সুরক্ষা সীমিত। অনেক শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার শিকার হলেও যথাযথ ক্ষতিপূরণ পান না। অসুস্থতা বা কর্মক্ষমতা হারালে পরিবারের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ আর্থিক সংকট।
এই বাস্তবতা শুধু শ্রমিকের ব্যক্তিগত দুর্ভোগ নয়; এটি রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। যে অর্থনীতি তার শ্রমশক্তির বড় অংশকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখে, সে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না।
জীবনযাপন উপযোগী ন্যূনতম মজুরি প্রসঙ্গে
শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু ন্যূনতম মজুরি এবং জীবনযাপনের উপযোগী মজুরি এক বিষয় নয়।
আইন করে একটি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। একজন শ্রমিকের খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াত, পোশাক এবং পরিবারের অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনের ব্যয় বিবেচনায় নিতে হবে। মূল্যস্ফীতি বাড়লে মজুরি পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
বিশেষ করে শহরাঞ্চলে বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে শ্রমিকের প্রকৃত আয় ক্রমেই চাপে পড়ছে। কাগজে মজুরি বৃদ্ধি পেলেও যদি মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিকের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা না বাড়ে, তাহলে সেই মজুরি বৃদ্ধি শ্রমিকের জীবনমানের উন্নতি ঘটাতে পারে না।
অতএব মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু শিল্পের সক্ষমতা নয়, শ্রমিকের জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয়কেও গুরুত্ব দিতে হবে।
ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার ও দরকষাকষি
শ্রমিকের সংগঠিত হওয়ার অধিকার শোভন কাজের অন্যতম মৌলিক শর্ত। একজন শ্রমিক একা মালিকের সঙ্গে দরকষাকষিতে দুর্বল; কিন্তু সংগঠিত শ্রমিক শ্রেণি তাদের যৌক্তিক দাবি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তুলে ধরতে পারে।
ট্রেড ইউনিয়ন তাই কেবল মজুরি বাড়ানোর সংগঠন নয়। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, বৈষম্য প্রতিরোধ, কর্মঘণ্টা, ছুটি, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, চাকরির স্থায়িত্ব—এসব প্রশ্নেও ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে শ্রমিক সংগঠন গঠন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে বাস্তব জটিলতা রয়েছে। কোথাও নিবন্ধনের সমস্যা, কোথাও মালিকপক্ষের বিরোধিতা, কোথাও শ্রমিকদের চাকরি হারানোর ভয়, আবার কোথাও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক প্রভাব শ্রমিক সংগঠনের স্বাধীনতাকে দুর্বল করে।
এই সংস্কৃতি বদলাতে হবে। স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিক-মালিক উভয়ের জন্যই উপকারী হতে পারে। কারণ সুস্থ শ্রমিক সংগঠন থাকলে বিরোধ অনেক সময় সংঘাতে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
রাজনৈতিক সংলাপ ও গণতন্ত্র
শোভন কাজের সঙ্গে গণতন্ত্রের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের কথা বলার অধিকার না থাকলে বৃহত্তর সমাজে গণতন্ত্রও পূর্ণতা পায় না।
রাষ্ট্র, মালিক ও শ্রমিক—এই তিন পক্ষের কার্যকর ত্রিপক্ষীয় সংলাপ শ্রমনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। শ্রমিকের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং শ্রমিককে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশীদার করা প্রয়োজন।
মজুরি বোর্ড, শ্রম আইন সংস্কার, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন কিংবা প্রযুক্তিগত রূপান্তর—সব ক্ষেত্রেই শ্রমিক প্রতিনিধিদের কার্যকর কর্তৃত্ব ও অংশগ্রহণ থাকা উচিত।
গণতন্ত্র শুধু ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অর্থনৈতিক জীবনে মানুষের অংশগ্রহণ, কর্মক্ষেত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংগঠিত হওয়ার অধিকারও গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নারী শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় নারী শ্রমিকের অবদান অসামান্য। পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন উৎপাদন ও সেবা খাতে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু শ্রমবাজারে নারী এখনো নানা ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি।
মজুরি বৈষম্য, পদোন্নতিতে বৈষম্য, মাতৃত্বকালীন সুবিধার সীমাবদ্ধতা, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি, নিরাপদ যাতায়াতের অভাব এবং কর্মক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর কম অংশগ্রহণ—এসব সমস্যা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।
নারী শ্রমিকের অধিকারকে কেবল ‘নারী বিষয়’ হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি জাতীয় অর্থনীতির বিষয়। নারীর শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হলে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়বে, পরিবারের আয় বাড়বে এবং জাতীয় উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।
অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের সুরক্ষা ও মর্যাদা
বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো অনানুষ্ঠানিক খাত। হকার, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, গৃহশ্রমিক, ক্ষুদ্র দোকানের কর্মচারী, কৃষিশ্রমিক, পরিবহনশ্রমিক, বর্জ্য সংগ্রহকারী কিংবা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কর্মী—তারা অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও অনেক ক্ষেত্রেই শ্রম আইনের পূর্ণ সুরক্ষা থেকে বাইরে থাকেন।
তাদের জন্য ধাপে ধাপে সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্ঘটনা বিমা, পেনশন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ন্যায্য মজুরির ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
অনানুষ্ঠানিক খাতকে একদিনে আনুষ্ঠানিক করা সম্ভব নয়। কিন্তু নিবন্ধন, পরিচয়পত্র, সামাজিক বিমা, পেশাভিত্তিক সংগঠন এবং সহজলভ্য সরকারি সেবার মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষার আওতায় আনা সম্ভব।
প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভবিষ্যতের কাজ
শ্রমবাজার এখন আর শুধু কারখানা ও অফিসকেন্দ্রিক নয়। ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স ও অটোমেশন কাজের ধরন দ্রুত পরিবর্তন করছে।
কিছু প্রচলিত কাজ বিলুপ্ত বা সংকুচিত হবে, আবার নতুন ধরনের কাজ সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশের জন্য এই পরিবর্তন একই সঙ্গে ঝুঁকি ও সুযোগ।
পোশাকশিল্পে অটোমেশন বাড়লে কম দক্ষ শ্রমিকের কিছু কাজ কমে যেতে পারে। ব্যাংকিং, কলসেন্টার, হিসাবরক্ষণ, প্রশাসনিক কাজ এবং পরিবহনেও প্রযুক্তির প্রভাব বাড়বে। অন্যদিকে সফটওয়্যার, ডেটা, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল মার্কেটিং, কনটেন্ট, অনলাইন শিক্ষা ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তাই প্রযুক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নয়; প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমিককে সক্ষম করে তোলাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রীয় নীতির লক্ষ্য।
প্রয়োজন ব্যাপক পুনঃদক্ষতা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি। যে শ্রমিকের প্রচলিত কাজ প্রযুক্তির কারণে পরিবর্তিত হচ্ছে, তাকে নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে। রাষ্ট্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে এ দায়িত্ব নিতে হবে।
গিগ-ইকোনমি: স্বাধীনতা না নতুন অনিশ্চয়তা?
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কাজ তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। ফ্রিল্যান্সিং, রাইড শেয়ারিং, ফুড ডেলিভারি, অনলাইন মার্কেটপ্লেসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক তরুণ যুক্ত হয়েছেন।
কিন্তু গিগ-ইকোনমির একটি বড় সমস্যা হলো—অনেক কর্মী প্রচলিত অর্থে ‘কর্মচারী’ হিসেবে স্বীকৃত নন। ফলে তারা মজুরি, ছুটি, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্ঘটনা বিমা কিংবা অবসরকালীন নিরাপত্তার মতো সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
ভবিষ্যতের শ্রমনীতি তাই গিগ-ওয়ার্কারদেরও সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার পথ খুঁজে বের করতে হবে। প্রযুক্তির নতুন ব্যবসায়িক মডেল যেন শ্রমিকের পুরোনো অধিকার কেড়ে নেওয়ার হাতিয়ার না হয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
শিশু শ্রম বন্ধ করা জরুরি
শিশুশ্রম একটি সভ্য সমাজের জন্য গভীর লজ্জার বিষয়। দারিদ্র্য, পরিবারের আয় সংকট, শিক্ষার ব্যয় এবং সামাজিক নিরাপত্তার দুর্বলতার কারণে অনেক শিশু অল্প বয়সেই শ্রমবাজারে প্রবেশ করে।
শিশুশ্রম বন্ধ করতে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। দরিদ্র পরিবারের আয় ও সামাজিক সুরক্ষা বাড়াতে হবে, শিক্ষাকে সহজলভ্য করতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম থেকে শিশুদের দ্রুত সরিয়ে আনতে হবে।
একটি শিশু যখন বিদ্যালয়ে থাকার বয়সে শ্রমবাজারে প্রবেশ করে, তখন শুধু তার শৈশবই নষ্ট হয় না; দেশের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শ্রমিকের নিরাপত্তা: দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন
কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটার পর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেয়ে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারখানা, নির্মাণক্ষেত্র, পরিবহন, কৃষি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
শ্রমিকের নিরাপত্তাকে উৎপাদন ব্যয়ের অতিরিক্ত অংশ হিসেবে দেখার মানসিকতা বদলাতে হবে। নিরাপদ কর্মক্ষেত্র উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, শ্রমিকের আস্থা বাড়ায় এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
সামাজিক সুরক্ষা: দয়া নয়, অধিকার
শ্রমিক অসুস্থ হলে কী করবেন? দুর্ঘটনায় কর্মক্ষমতা হারালে কী হবে? চাকরি হারালে পরিবারের ব্যয় কীভাবে চলবে? বৃদ্ধ বয়সে আয়ের উৎস কী থাকবে?
এসব প্রশ্নের উত্তরই সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বোঝায়।
সামাজিক সুরক্ষা কোনো দয়া বা অনুদান নয়; আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্রে এটি নাগরিকের অধিকার। স্বাস্থ্যবীমা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, দুর্ঘটনা বিমা, বার্ধক্যকালীন নিরাপত্তা, বেকারত্ব সহায়তা এবং পেনশন ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে শ্রমজীবী মানুষের বিস্তৃত অংশের আওতায় আনতে হবে।
রাষ্ট্রের করণীয়
শোভন কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কয়েকটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
প্রথমত, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও নিয়মিত পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, শ্রম আইন বাস্তবায়নের জন্য শ্রম পরিদর্শন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
তৃতীয়ত, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও যৌথ দরকষাকষির অধিকারকে বাস্তবে কার্যকর করতে হবে।
চতুর্থত, অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে।
পঞ্চমত, নারী শ্রমিকের নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ষষ্ঠত, তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, পুনঃদক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করতে হবে।
সপ্তমত, গিগ ও প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কর্মীদের জন্য আধুনিক শ্রমনীতি প্রণয়ন করতে হবে।
অষ্টমত, শ্রমিক-মালিক-সরকারের ত্রিপক্ষীয় সংলাপকে কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে।
মালিকদের দায়
শোভন কাজ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়। শিল্পমালিক ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়েরও বড় দায়িত্ব রয়েছে।
শ্রমিককে শুধু উৎপাদনের উপকরণ হিসেবে দেখলে দীর্ঘমেয়াদে কোনো প্রতিষ্ঠান টেকসই হতে পারে না। শ্রমিক প্রতিষ্ঠানের অংশীদার। তার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও শ্রমই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতার মূল শক্তি।
ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সময়মতো বেতন, আইনসম্মত ছুটি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং শ্রমিকের মতামতের প্রতি সম্মান—এসব নিশ্চিত করা ব্যবসায়িক নৈতিকতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থও।
গণমাধ্যমের ভূমিকা
শ্রমিক অধিকার রক্ষায় নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিক সংগঠনেরও দায়িত্ব রয়েছে।
গণমাধ্যমে শ্রমিককে শুধু ‘দাবিদাওয়া করা মানুষ’ হিসেবে উপস্থাপন না করে তাদের শ্রম ও অবদানের ইতিবাচক মূল্যায়ন করতে হবে। শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা যেমন সামনে আনতে হবে, তেমনি ভালো শ্রমপরিবেশ তৈরির উদাহরণও তুলে ধরতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রম অধিকার, শ্রম আইন, পেশাগত নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রের নৈতিকতা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া যেতে পারে। এতে ভবিষ্যৎ শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা উভয়েই দায়িত্বশীল কর্মসংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন হবে।
মূল রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রশ্ন
শেষ পর্যন্ত শোভন কাজের প্রশ্নটি কেবল শ্রম মন্ত্রণালয় বা শ্রমিক সংগঠনের প্রশ্ন নয়। এটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দর্শন ও উন্নয়ননীতির প্রশ্ন।
আমরা কী ধরনের অর্থনীতি চাই? এমন অর্থনীতি, যেখানে প্রবৃদ্ধির সুফল সীমিত মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হবে, নাকি এমন অর্থনীতি যেখানে উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবনমানও উন্নত হবে?
আমরা কি এমন উন্নয়ন চাই, যেখানে শহরের উঁচু ভবন বাড়বে কিন্তু নির্মাণশ্রমিকের নিজের থাকার ঘর থাকবে না? এমন শিল্পায়ন চাই, যেখানে রপ্তানি বাড়বে কিন্তু শ্রমিকের জীবনযাত্রার নিরাপত্তা থাকবে না? এমন প্রযুক্তিগত অগ্রগতি চাই, যেখানে উৎপাদনশীলতা বাড়বে কিন্তু কর্মীদের একটি বড় অংশ অপ্রস্তুত অবস্থায় চাকরি হারাবে?
নাকি আমরা এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন মডেল চাই, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে শ্রমিকের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদারও অগ্রগতি ঘটবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শ্রমনীতি।
তরুণদের সংগঠিত করার অগ্রাধিকার
বিশ্ব শোভন কর্ম দিবসের এবারের বার্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তরুণ শ্রমিকদের সংগঠিত করা। কারণ তরুণরাই আগামী দিনের শ্রমবাজারের প্রধান শক্তি।
তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে দেখলে চলবে না। তাদের নীতিনির্ধারক, সংগঠক, উদ্যোক্তা এবং শ্রমিক নেতৃত্বের অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
ট্রেড ইউনিয়নে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। নতুন ধরনের কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিক সংগঠনের কাঠামো আধুনিক করতে হবে। তরুণদের কথা বলার জায়গা তৈরি করতে হবে।
একই সঙ্গে তরুণদেরও শ্রম অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। শ্রম আইন জানা, নিজের অধিকার জানা, সংগঠিত হওয়া এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মতভাবে অবস্থান নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
শোভন কাজ মানেই মানবিক সমাজ বিনির্মানের প্রশ্ন
একটি দেশের উন্নয়ন শুধু মাথাপিছু আয়, জিডিপি বা রপ্তানি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। দেখতে হবে সেই উন্নয়নের সুফল কারা পাচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষের জীবন কতটা নিরাপদ হয়েছে, নারী শ্রমিকের মর্যাদা কতটা বেড়েছে, তরুণরা কতটা নিশ্চয়তার সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে পারছে, অসুস্থ ও বৃদ্ধ শ্রমিকের জন্য রাষ্ট্র কী করছে—এসব প্রশ্নও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
শোভন কাজ তাই শ্রমিকের দাবি হলেও এর সুফল পুরো সমাজের। ন্যায্য মজুরি বাজারে চাহিদা বাড়ায়, সামাজিক সুরক্ষা দারিদ্র্য কমায়, নিরাপদ কর্মক্ষেত্র উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, শ্রমিকের সংগঠিত হওয়ার অধিকার শিল্পসম্পর্ককে স্থিতিশীল করে এবং সামাজিক সংলাপ বৃহত্তর জনগণের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।
অতএব শোভন কাজের সংগ্রাম আসলে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ নির্মাণের সংগ্রাম।
উপসংহার
বিশ্ব শোভন কর্ম দিবস আমাদের সামনে একটি মৌলিক সত্য নতুন করে তুলে ধরে—মানুষের শ্রমের মর্যাদা ছাড়া কোনো উন্নয়নই পূর্ণাঙ্গ নয়।
একজন শ্রমিক শুধু উৎপাদনের একটি সংখ্যা নন; তিনি একজন মানুষ, একজন নাগরিক, একটি পরিবারের সদস্য এবং রাষ্ট্রের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তার শ্রমের ন্যায্য মূল্য, নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব।
বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে কীভাবে অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যায়, কীভাবে বিপুল তরুণ শ্রমশক্তিকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদে পরিণত করা যায়, কীভাবে অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা যায় এবং কীভাবে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমিকদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায়।
এর জন্য প্রয়োজন কার্যকর শ্রম আইন, ন্যায্য মজুরি, সামাজিক সুরক্ষা, নিরাপদ কর্মক্ষেত্র, সমঅধিকার, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন, কার্যকর ত্রিপক্ষীয় সামাজিক সংলাপ এবং ভবিষ্যতমুখী দক্ষতা উন্নয়ন।
একই সঙ্গে প্রয়োজন রাষ্ট্র ও অর্থনীতির এমন একটি দর্শন, যেখানে মানুষের মর্যাদা উন্নয়নের কেন্দ্রে থাকবে। গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
তরুণ শ্রমিকদের সংগঠিত করার অর্থ কেবল তাদের মজুরি বা কর্মপরিবেশের উন্নতির জন্য সংগঠিত করা নয়; তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠিত করা। তাদের কণ্ঠস্বরকে রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা।
আজকের তরুণ শ্রমিকই আগামী দিনের বাংলাদেশ নির্মাণ করবে। তাদের জন্য যদি আমরা নিরাপদ, ন্যায্য, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই কর্মজগৎ তৈরি করতে পারি, তাহলেই বিশ্ব শোভন কর্ম দিবসের অঙ্গীকার বাস্তব অর্থে সফল হবে।
আসুন, শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য হ্রাস, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক শ্রমসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। শ্রমিক, মালিক ও রাষ্ট্রের পারস্পরিক দায়িত্বশীল অংশীদারত্বের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠুক এমন এক কর্মজগৎ—যেখানে কাজ শুধু জীবিকা অর্জনের উপায় নয়, বরং মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি।
শোভন কাজ হোক সবার অধিকার।
তরুণ শ্রমিকের কণ্ঠ হোক ভবিষ্যতের শক্তি।
শ্রমের মর্যাদার ভিত্তিতেই গড়ে উঠুক ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ।
#
সৈয়দ আমিরুজ্জামান, এলএল.বি
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;
বিশেষ প্রতিনিধি, দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট (ইংরেজি দৈনিক) ও সাপ্তাহিক নতুনকথা;
সম্পাদক, আরপি নিউজ;
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি;
‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।
সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন।
সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি।
প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ আইন ছাত্র ফেডারেশন।
E-mail : syedzaman.62@gmail.com
WhatsApp : 01716599589
মুঠোফোন: ০১৭১৬৫৯৯৫৮৯
Bikash number : +8801716599589 (personal)
Post Views:
৩,১১২