মাঠে পুরোদমে সক্রিয় আওয়ামী সফট পাওয়ার, রাজনৈতিক তকমার নিন্দা উদীচীর

প্রকাশিত: ১১:২১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২৬

মাঠে পুরোদমে সক্রিয় আওয়ামী সফট পাওয়ার, রাজনৈতিক তকমার নিন্দা উদীচীর

Manual3 Ad Code
  • সাংস্কৃতিক সংগঠনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সমাজ ও মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসরের জন্য বিপজ্জনক

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ : ‘মাঠে পুরোদমে সক্রিয় আওয়ামী সফট পাওয়ার’ শিরোনামে ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত আমার দেশ এর একটি সংবাদে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীকে আওয়ামী লীগের ‘সফট পাওয়ার’ ও ‘সাংস্কৃতিক ফ্রন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সংবাদটির এ ধরনের রাজনৈতিক তকমা, একপাক্ষিক উপস্থাপন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাষার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

Manual7 Ad Code

এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, উদীচী কোনো রাজনৈতিক দলের সাংস্কৃতিক ফ্রন্ট নয়, কোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়া বা ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ারও নয়। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে উদীচী এ দেশের মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, মুক্তচিন্তা ও সাংস্কৃতিক মুক্তির সংগ্রামে অবিচল ভূমিকা পালন করে আসছে। পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক শাসন, স্বৈরাচার, সাম্প্রদায়িকতা, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে উদীচী বরাবরই সোচ্চার থেকেছে।
উদীচীর ইতিহাস কোনো একক রাজনৈতিক দলের ইতিহাস নয়; এটি এ দেশের গণমানুষের সাংস্কৃতিক সংগ্রামের ইতিহাস। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, যে রাজনৈতিক শক্তিই রাষ্ট্র পরিচালনা করুক, জনগণের অধিকার ও মুক্তচিন্তার পরিপন্থী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উদীচী কথা বলেছে, বলছে এবং ভবিষ্যতেও বলবে। কোনো সরকারের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া যেমন উদীচীর সাংস্কৃতিক দায়িত্ব, তেমনি কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের ভিত্তিতে সাংস্কৃতিক সংগঠনকে চিহ্নিত করাও স্বাধীন সাংস্কৃতিক চর্চার পরিপন্থী।

প্রকাশিত সংবাদে উদীচীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির শুভেচ্ছা বক্তব্যকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ানের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো অনুষ্ঠানে কারও উপস্থিতি কিংবা শুভেচ্ছা বক্তব্যের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন সাংস্কৃতিক সংগঠনের রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণ করা সাংবাদিকতার দায়িত্বশীল চর্চা হতে পারে না। উদীচীর অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মত, পথ ও পরিচয়ের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। সাংস্কৃতিক সংগঠনের এই উন্মুক্ততাকে রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা অনভিপ্রেত।

Manual2 Ad Code

আমরা মনে করি, সাংস্কৃতিক সংগঠনকে রাজনৈতিক তকমা দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সমাজ ও মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসরের জন্য বিপজ্জনক। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠিত হওয়ার অধিকার এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের অনুগ্রহ নয়; এগুলো নাগরিকের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার।
উদীচী কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্যে বিশ্বাস করে না। বরং ন্যায়, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নে উদীচীর অবস্থান সুস্পষ্ট। অতীতেও ক্ষমতাসীনদের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে উদীচী প্রতিবাদ করেছে। বর্তমানেও করবে। ভবিষ্যতেও যে কোনো স্বৈরাচারী প্রবণতা, ফ্যাসিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্য ও সাংস্কৃতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে উদীচীর কণ্ঠ সোচ্চার থাকবে।
আমরা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা প্রত্যাশা করি। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তথ্যের সত্যতা, নিরপেক্ষতা ও প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করাও জরুরি। রাজনৈতিক অভিসন্ধিমূলক তকমা দিয়ে একটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠনের দীর্ঘ সংগ্রাম ও ভূমিকা খাটো করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

Manual1 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ