যুবলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক হলেন হবিগঞ্জের ব্যারিস্টার সুমন

প্রকাশিত: ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০২০

যুবলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক হলেন হবিগঞ্জের ব্যারিস্টার সুমন

Manual6 Ad Code

হবিগঞ্জ, ১৫ নভেম্বর ২০২০: আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আইন বিষয়ক সম্পাদক হওয়ার পর গণমাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিওতে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, কমিটিতে নাম থাকা কোনো সুবিধা নয় বরং বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ভাইয়ের সম্মান পাহারার দায়িত্ব নেয়া। দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।

শনিবার আামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করেন সংগঠনের নেতারা।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিটির সদস্যদের নাম জানান।

এর আগে যুবলীগের ২০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। অনুমোদন পাওয়া কমিটিতে সংগঠনটির ৯ নম্বর প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নিক্সন চৌধুরী।

Manual5 Ad Code

সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

Manual7 Ad Code

বাংলাদেশের বেশ কিছু আলোচিত মামলায় সুমন আইনজীবী হিসেবে সম্পৃক্ত হয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তিনি আইনজীবী ছিলেন। এছাড়াও ফেনীর সোনাগাজীতে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় সুমন আইনি সহায়তা প্রদান করেন।

সায়েদুল হক সুমন হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলা সদরের পাশে পীরবাজার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী ও মা ছিলেন গৃহিণী। বাবা-মার ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। স্থানীয় কেজি স্কুলেই তার শিক্ষার হাতেখড়ি। তিনি ডিসিপি হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি মার্কেটিং বিষয়ে বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৮ সালে সুমন লন্ডনে বার অ্যাট ল পড়া শুরু করেন। ইংল্যান্ড থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।

Manual4 Ad Code

জনস্বার্থে করা বেশ কয়েকটি রিটের জন্য সুমন আলোচনায় আসেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- গণমাধ্যমে কিশোর আদালতে বিচারাধীন কোনো শিশুর নাম প্রকাশ না করা সংক্রান্ত রিট।

ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে সুমন উল্লেখযোগ্য সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছেন। একবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় নরসিংদীর শিবপুরে রাস্তার পাশে পল্লিবিদ্যুতের খুঁটি দেখতে পান। এর ফলে একাধিক দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছিল। সুমন এ নিয়ে ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ করলে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে কর্তৃপক্ষ খুঁটি অপসারণ করে। সড়কে এ ধরনের খুঁটি সরাতে সুমন হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে হাইকোর্ট সড়কের মাঝখানে অবস্থিত বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের নির্দেশ প্রদান করেন।

পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু দিয়ে যাওয়ার সময় সুমন লক্ষ্য করেন, সেতুটিতে কোনো বাতি নেই। এ নিয়ে তিনি ফেসবুক লাইভে এলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটি বাতিতে আলোকিত হয়।

রাজধানীর কাঁটাবন মোড় ও হাজীর বিরিয়ানির দোকানের সামনে থাকা আবর্জনার স্তূপ নিয়ে করা সুমনের ফেসবুক লাইভের পরে এ স্তূপ দ্রুত অপসারিত হয়।

Manual4 Ad Code

ব্যক্তিগত উদ্যোগে চুনারুঘাট এলাকায় তিনি ছড়া-খালের উপর ২১টি সেতু নির্মাণ করেন। এছাড়াও সুমন নিজ এলাকায় ৪০টি রাস্তা তৈরিতে ভূমিকা পালন করেন।

যশোরের মণিরামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসান দুইজন বৃদ্ধ ও একজন ভ্যানচালককে কানে ধরে দাঁড় করিয়ে এর দৃশ্যচিত্র ধারণ করার অভিযোগে অভিযুক্ত হলে ব্যারিস্টার সুমন তার বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দেন।

গৌতম কুমার এডবর নামক এক ব্যক্তি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে সুমনের নামে মামলা করেন। পরবর্তীতে সুমন বলেন, একটি গোষ্ঠী তার নামে অপপ্রচারের অংশ হিসেবে ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। এর আগে প্রিয়া সাহা নামে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী ও মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথোপকথন নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হলে সুমন প্রিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করেন। তবে আদালত সে মামলা খারিজ করে দেন।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক নিযুক্ত হওয়ায় ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ