কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে যা করবেন

প্রকাশিত: ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২২

কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে যা করবেন

Manual6 Ad Code

স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিবেদক | ঢাকা, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ : গবেষণা বলছে, ৮০ শতাংশ করোনা রোগীর উপসর্গ থাকে মৃদু কিংবা মাঝারি। তাদের বেশিরভাগেরই প্রয়োজন হয় না হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার। মৃদু উপসর্গের মধ্যে সহনীয় মাত্রায় জ্বর, শুকনা কাশি, গলা ব্যাথা, মাথা ব্যাথা, পেশিতে ব্যাথা, মুখে স্বাদ না থাকা, গন্ধ না পাওয়া প্রভৃতি রয়েছে। আর এসবের পাশাপাশি ১০১-১০২ ডিগ্রি জ্বর ও কিছুটা শ্বাসকষ্ট থাকলে বিবেচনা করা হয় মাঝারি উপসর্গ হিসাবে।

করোনায় পজিটিভ হলে কী করতে হবে, তা জানা থাকলে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার এবং মনোবল শক্ত রাখার কাজ সহজ হতে পারে। আসুন জেনে নিই, করোনা আক্রান্ত হলে কী করবেন আর কী করবেন না। আর আপনার পরিবার বা বন্ধুকে কীভাবে রাখবেন নিরাপদে।

Manual2 Ad Code

উপসর্গ দেখা দিলেই আলাদা হোন

করোনা আক্রান্ত বেশির ভাগের ক্ষেত্রে ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা যায়। মৃদু কিংবা মাঝারি থেকে গুরুতর হতে পারে সেসব উপসর্গ। জ্বর-কাশির মতো করোনার উপসর্গ দেখা দিলেই পরিবারের সদস্যদের থেকে আলাদা হয়ে যান। কঠোরভাবে মেনে চলুন স্বাস্থ্যবিধি। আপনার পরিবার বা আশপাশের লোকদের সংক্রমণমুক্ত রাখতে এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Manual2 Ad Code

এরপর আসবে করোনার টেস্ট করানোর ধাপ। অনলাইনেই টেস্টের সিরিয়াল নেওয়ার চেষ্টা করুন। টেস্টের সিরিয়াল পেলে সে অনুযায়ী গিয়ে নমুনা দিয়ে আসুন। অনলাইনে সম্ভব না হলে সরাসরি কোভিড-ডেডিকেটেড হাসপাতালে যান। নমুনা দিতে যেখানেই যান না কেন, কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন।

আক্রান্ত হলেই নিন চিকিৎসকের পরামর্শ

Manual2 Ad Code

করোনায় আক্রান্ত হলে প্রথম কাজটি করতে হবে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। তিনি আপনাকে বলতে পারবেন, আপনার পরিস্থিতি বিবেচনায় কীভাবে এবং কি কি উদ্যোগ নিতে হবে। সরাসরি ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন বেশিরভাগের ক্ষেত্রে পড়বে না। সার্বক্ষণিক চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়ার জন্য সরকারি জরুরি স্বাস্থ্য সেবার নম্বরগুলোতে আপনি যোগাযোগ করতে পারবেন। সেখানকার চিকিৎসকরা আপনাকে জরুরি পরামর্শ দিবেন এবং ওষুধের প্রয়োজন হলে তা প্রেসক্রাইব করবেন। কোনোভাবে নিজে নিজে ওষুধ গ্রহণ ঠিক হবে না।

কল সেন্টার নম্বরগুলোর মধ্যে রয়েছে: ৩৩৩-১ (জাতীয় কল সেন্টার), ১৬২৬৩ (স্বাস্থ্য বাতায়ন), ১০৬৫৫ (আইইডিসিআর), ০৯৬৬৬৭৭৭২২২ (কোভিড-১৯ টেলিহেলথ) এবং ০৯৬৬৬৮৮৮৮৮৮ (মা টেলিহেলথ)।

আইসোলেশনে থাকুন

আপনার সঙ্গে বাসায় যারা থাকেন, তাদের থেকে আলাদা হয়ে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, রোগীর সেবক বা পরিবারের সদস্যদের সুস্থ রাখার চেষ্টা করতে হবে সর্বাগ্রে।

শহুরে বাসায় বসবাস করলে আলাদা রুমে থাকুন, অন্যদের থেকে আলাদা টয়লেট ব্যবহার করুন। গ্রামীণ পরিবেশে থাকলে সেখানেও চেষ্টা করুন আলাদা করোনা রোগীর জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা করার। আলাদা টয়লেট ব্যবহার সম্ভব না হলে ব্যবহারের পর জীবানুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য খাবার বা ওষুধ পরিবারের সদস্যরা রুমের সামনে রাখবেন এবং পরে রোগী তা গ্রহণ করবেন। এক সেট থালাবাসন আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য তার রুমে রেখে দিতে পারেন এবং সেগুলো পরিষ্কার তিনিই করবেন। ময়লা-আবর্জনার জন্য রুমের মধ্যে ঢাকনাযুক্ত বিন ব্যবহার করতে পারেন।

প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য অনলাইনে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে পারেন। কোভিড-ডেডিকেটেড হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যদি যেতে হয়, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, মেনে চলুন স্বাস্থ্যবিধি।

নজরে রাখবেন যেসব উপসর্গ

আক্রান্ত হওয়ার পরের দুই সপ্তাহ উপসর্গগুলোর পরিবর্তন লক্ষ্য রাখা খুবই জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে লক্ষণ ও সংক্রমণের গুরুতর পরিস্থিতি বুঝা যায়। অন্যদিকে, ৮ থেকে ১০ দিনে ইমিউন সিস্টেমে বড় প্রভাব পড়তে পারে। এই সময়েয়র মধ্যে উপসর্গগুলো কমে না আসলে নতুন করে স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার প্রয়োজনও পড়তে পারে।

শ্বাসপ্রশ্বাসের পরিমাণ, অস্বস্তি এবং অক্সিজেন লেভেল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার। এক্ষেত্রে লক্ষণগুলো কোন দিকে যাচ্ছে, তার গতিপথ পাওয়া যাবে। প্রতিনিয়ত শরীরের তাপমাত্রা, পালস রেট ও রক্তচাপ পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। গুরুতর অবস্থার দিকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য যোগাযোগ করুন।

Manual1 Ad Code

কোয়ারেন্টিন শেষ হলে…

সাধারণত করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনের পরামর্শ দিয়ে থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। কারণ এই সময়টাতে রোগীরা বেশি সংক্রমিত অবস্থার মধ্যে থাকে এবং অন্যদের আক্রান্ত করতে পারে বেশি মাত্রায়। করোনার উপসর্গ চলে যাওয়ার পর করোনামুক্ত হলেন কি-না, বুঝার জন্য দ্বিতীয় টেস্ট করান। রিপোর্ট আবারও পজিটিভ এলে আরও এক সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে থাকুন। এরপরও কোয়ারেন্টিনে থাকা লাগবে কি-না, ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আইসোলেশন শেষ করার জন্য আপনার রুম স্যানিটাইজ করুন, ময়লা-আবর্জনা পুরোপুরি পুরস্কার করুন এবং রুমের আশপাশের স্থানও জীবানুনাশক ছিটান। সম্ভব হলে ব্যবহৃত জিনিসপত্র সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে পারেন।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ