সিলেট ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ : একের পর এক হাতি হত্যার ছায়া তদন্ত থেকে সরকারের কাছে ১১ সুপারিশ তুলে ধরেছে ৩৩টি সংগঠনের সমন্বিত প্রয়াস বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোট (বিএনসিএ)।হাতির মৃত্যুর ঘটনায় করা ছায়া তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে অদ্য মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২) সকাল ১১টায় স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (ঠিকানা: ৫১, সিদ্দেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা-১২১৭)-এর অডিটরিয়ামে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি। করোনা পরিস্থিতির বিবেচনায় সংবাদ সম্মেলনটি জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও সম্প্রচারিত হয়।
ভার্চুয়ালী সংবাদ সম্মেলনটির জুম প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, ভারতের নিউজ এর সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আমিরুজ্জামান, বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোটের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার, সেভ আওয়ার সি-এর মহাসচিব মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, প্রাণ-প্রকৃতি সাংবাদিক কেফায়েত শাকিল এবং এনভায়রনমেন্ট পিপল-এর চেয়ারম্যান রাশেদ উল মাজীদ, সেভ আওয়ার সি-এর মহাসচিব মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, প্রাণ-প্রকৃতি সাংবাদিক কেফায়েত শাকিল, গ্রিন ফাইটিং মুভমেন্ট-এর সভাপতি নাবিল আহমদ, সবুজ আন্দোলনের চেয়ারম্যান বাপ্পী সরদার ও অর্থ পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন, শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন, দৈনিক সমকালের জাহিদ, মেরিন প্রেসিডেন্ট গোলাম মওলা, দেলাওয়ার হোসাইন দোলন, ইয়াহিয়া সরদার, ইয়াহিয়া নকিব, ইবনুল সৈয়দ রানা, নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী, নাজিফা ফরহাত, নোমান হোসাইন, রাজনীন ফারহানা, জসিম উদ্দিন ও সাংবাদিকরা।
সংবাদ সম্মেলনে সুপারিশ তুলে ধরে বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোটের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, “দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর হাতি হত্যার ঘটনাসহ বন্যপ্রাণীর সংগে মানুষের সংঘাত বেড়েছে। ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪টি হাতি মানুষের হামলার শিকার হয়ে মারা গেছে। এসব ঘটনায় বন্যপ্রাণীকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বন অধিদফতর।
এই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে হাতি হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একটি ছায়াতদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছে দেশের পরিবেশ, বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় কাজ করা এই সংগঠনটি।
জোটের সুপারিশে বলা হয়েছে— বন, বনভূমি এবং বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা দিতে সুস্পষ্টভাবে ব্যর্থ হয়েছে বন বিভাগ। এই ব্যর্থতার কারণ যাচাইয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে; বিচারের আওতায় না আসা হাতি হত্যার ঘটনাগুলো সিআইডি বা পিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করিয়ে দোষীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে; বনভূমি থেকে অবৈধ দখলদারদের সরাতে হবে; জাতীয় কমিশন গঠন করে সরকারের সব বিভাগকে বন-বন্যপ্রাণী রক্ষায় যুক্ত করতে হবে; বাণিজ্য ছেড়ে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা বন বিভাগের মূল ম্যান্ডেট নির্ধারণ করতে হবে; প্রকল্প দিয়ে নয়, বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগকে নিয়মিত বাজেটে বরাদ্দ দিতে হবে; বন্যপ্রাণী রক্ষায় জনসচেতনতার যথেষ্ট সংকট রয়েছে। গণমাধ্যমকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
এছাড়াও সংরক্ষিত বন ও হাতির কোরিডোরের ভেতর বিদ্যুৎলাইন, সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণে বরাদ্দ বন্ধ করতে হবে; হাতি হত্যার আসামিদের জামিন বন্ধ করে ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে; বন বিভাগে দ্রুত পর্যাপ্ত জনবলসহ সব প্রয়োজনীয় সুবিধা যুক্ত করতে হবে। এলিফ্যান্ট রেস্পন্স টিমকে বেতনভুক্ত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং সংরক্ষিত বনকে আর কোনো সরকারি, বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তির জন্য বরাদ্দ দেওয়া যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে থেকে জানানো হয়, কক্সবাজারে ছায়া তদন্ত দলে ছিলেন সেভ আওয়ার সি-এর মহাসচিব মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, প্রাণ-প্রকৃতি সাংবাদিক কেফায়েত শাকিল এবং এনভায়রনমেন্ট পিপল-এর চেয়ারম্যান রাশেদ উল মাজীদ।
অন্যদিকে জোটের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক, পরিবেশবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদারের নেতৃত্বে শেরপুরের ছায়া তদন্ত দলে ছিলেন সেভ আওয়ার সি-এর মহাসচিব মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, প্রাণ-প্রকৃতি সাংবাদিক কেফায়েত শাকিল, গ্রিন ফাইটিং মুভমেন্ট-এর সভাপতি নাবিল আহমদ, সবুজ আন্দোলনের চেয়ারম্যান বাপ্পী সরদার ও অর্থ পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন এবং শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন।

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি