ঢাকা বিমানবন্দরে – অনেকের মাঝে আমি একা

প্রকাশিত: ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২২

ঢাকা বিমানবন্দরে – অনেকের মাঝে আমি একা

Manual3 Ad Code

| এ কে শেরাম | ঢাকা বিমানবন্দর থেকে, ০৩ মার্চ ২০২২ : একা ভ্রমণে একটু ঝক্কি থাকেই। তার ওপর বয়স যদি একটু বেশি হয়, তাহলে তো কথাই নেই। আমি তো চিরকালই নিজের মধ্যে গুটিয়ে থাকা মানুষ। জীবনের অনেক বিষয়েই ভীষণ অপটু। তাই প্রায় সব ভ্রমণেই ভালো সঙ্গী-সাথী বেছে নেবার চেষ্টা করেছি এবং ভ্রমণকালে তাদের ওপর প্রায় পুরোটাই নির্ভরশীল থেকেছি। কিন্তু এবার অনিবার্য বাস্তবতায় একাই ভ্রমণ করতে হচ্ছে। তাই প্রথম থেকেই মনটা কেমন খচখচ করছিল। এক ধরনের শঙ্কা-ভয় গোপনে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিল মনের অলিন্দে।

Manual5 Ad Code

জয়ন্তিকা ট্রেন থেকে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে নামলাম। এখানে আগে কোনোদিন নামিনি। তাই কোনো ধারণাও নেই রাস্তাঘাট সম্পর্কে। জিজ্ঞেস করে জানলাম, ওভারব্রিজ পেরিয়ে ওপারে গেলেই বিমানবন্দর এলাকা, কাছেপিঠে কোনো হোটেলে রাত্রিযাপন করে নিলেই হবে। ট্রেনের অসংখ্য যাত্রি হনহনিয়ে ছুটছে ওভারব্রিজ দিয়ে। তাদের সাথে ঠিক তাল মেলাতে না পারলেও আমিও কিছুটা ছুটেই চলেছি। ট্রলি ব্যাগটা বেশ ভারি। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার সময় টানা যাচ্ছে না, হাতে তুলে নিতে হচ্ছে। তার ওপর একটা হ্যান্ডব্যাগও। তাও যে খুব হালকা তা কিন্তু নয়। সব মিলিয়ে আমার জন্য বিষয়টা বেশ কস্টসাধ্যই ছিল। তারপরও একটু একটু করে ওপরে উঠছি, ওপরের শেষ সিঁড়ির প্রায় কাছাকাছিই চলে এসেছি। হঠাৎ সামান্য হোঁচট, হাত থেকে ফসকে ছুটে গেলো ভারি ব্যাগটা, পড়তে পড়তে কোনোরকম সামনে নিলাম আমি। পাশেই হাঁটছিল এক তরুণ যুবক, সে অসম্ভব ক্ষিপ্রতায় ধরে নিল পতনোন্মুখ ব্যাগ এবং আমাকে। আমাকে আশ্বস্ত করে ব্যাগটা নিজে বয়ে নিয়ে আমাকে পার করে দিল পুরো ওভারব্রিজটা। তারপর ব্যাগটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে স্বাভাবিক দ্রুততায় ছুটে চলে গেল তার গন্তব্য অভিমুখে। সাধারণ একটা ধন্যবাদ জানানোর মতো সময় এবং সুযোগও পাইনি আমি। মনে মনে যুবকটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে কেবল বললাম, অসংখ্য অমানুষের ভিড়ে এখনও কিছু কিছু মানুষ ঠিকই বেঁচে আছে, যারা বাঁচিয়ে রেখেছে ক্রমশ দুর্লভ হয়ে ওঠা ‘মানবিকতা’কে।

Manual8 Ad Code

এয়ারপোর্ট এবং ইমিগ্রেসনের বেশ কিছু ঝামেলা থাকেই। নতুন যুক্ত হয়েছে কোভিড সংক্রান্ত একটি অনলাইন ফরম পূরণ এবং সার্টিফিকেট সংগ্রহ। আসার আগেরদিন রাতে ছেলেকে নিয়ে অনেক চেস্টা করেছিলাম, কিন্তু পারিনি। কেউ কেউ বললেন, ওটা লাগবে না, টিকা কার্ড দেখালেই চলবে। কিন্তু এসে জানলাম, ওটাও লাগবে। ফলে নির্ধারিত ফির বিপরীতে ওদেরকে দিয়ে করিয়ে নিলাম। অবশেষে সব ফর্মালিটিজ সম্পূর্ণ করে অপেক্ষমান যাত্রীদের সাথে বসে অপেক্ষা করছি ইন্ডিগো উড়োজাহাজের।
০৩.০৩.২০২২, বিকেল ২-১৫
(এয়ারপোর্টের ওয়েটিং লাউঞ্জে বিমানের অপেক্ষায়)

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ