অসুবিধাগ্রস্থ মানুষ বাজেটে কী পেল তা স্বচ্ছভাবে জানাতে হবে

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২২

অসুবিধাগ্রস্থ মানুষ বাজেটে কী পেল তা স্বচ্ছভাবে জানাতে হবে

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৭ এপ্রিল ২০২২ : করোনা অতিমারি জাতীয় ও বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতির সৃষ্টি করেছে। সমগ্র বিশ্ব যখন এই ক্ষত কাটিয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলাদেশও সেই অনিশ্চয়তার ফল ভোগ করছে। বিশেষত, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙ্গে পড়ায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় পিছিয়ে পড়া মানুষ নতুন করে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

রোববার (১৭ এপ্রিল ২০২২) এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘আসন্ন বাজেট নিয়ে জনমানুষের প্রত্যাশা’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা।
সংলাপে পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা অংশ নেন।
আসন্ন বাজেট থেকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা কী এবং তারা কোন ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন – সেই বিষয়ে আলোচনা হয়।

সংলাপে অংশগ্রহণকারী আলোচকবৃন্দ বলেন, আসন্ন বাজেটে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে দিক-নির্দেশনা থাকা জরুরি। এছাড়াও, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে অতিমারির ফলে কী কী ক্ষতি হয়েছে এবং কিভাবে সেটা পুষিয়ে নেওয়া যায়, সেই বিষয়েও আলোচনা হয়। উদ্ভূত সমস্যাগুলো নিরসনে ব্যাপক আকারে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে আলোচকরা মনে করেন। সেই সাথে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে আরও সুষ্ঠুভাবে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নিয়ে আসা উচিত বলেও তারা দাবি জানান।

Manual1 Ad Code

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)’র সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সমাপনী বক্তব্যে বলেন, বাজেটে জনসাধারণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা উচিত। তাই বাজেট প্রস্তাব পেশ করার পূর্বেই জনসাধারণের জন্যে একটি খসড়া নীতিমালা উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত যেন জনগণ সরাসরি তাদের প্রত্যাশাগুলো ব্যক্ত করতে পারেন। অর্থনীতির চাকা সচল করতে তাই একটি সম্প্রসারণমূলক মুদ্রা নীতি প্রণয়ন অতীব জরুরি। তাছাড়া বর্তমান প্রেক্ষাপটকে বিবেচনা করে জনগণকে, বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে, সরাসরি বিভিন্ন প্রণোদনা, যেমন- অর্থনৈতিক সুরক্ষা, খাদ্য প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আর এজন্যে আগের সকল প্রণোদনা কর্মসূচির পরিবীক্ষণ প্রয়োজন।

ওয়ার্ল্ড ভিশনের এডভোকেসি ও যোগাযোগ বিভাগের টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম পরিচালক টনি মাইকেল গোমেজ বলেন, অতিমারির জন্য শিশুদের পড়াশোনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরকেন্দ্রিক বিদ্যালয়গুলো চালু থাকলেও গ্রামাঞ্চলে বা দুর্গম জায়গাগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। একই কারণে বিগত দুই বছরে শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ দু’টোই বেড়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন কারণে যারা ঝরে পরেছে, তাদের স্কুলে ফেরত যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই এই সমস্যাগুলোর নিরসনে শিশু বাজেট নতুন আঙ্গিকে প্রণয়ন করা দরকার বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, বাজেট প্রণয়নে শিশুদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত।

সেন্টার ফর সার্ভিসেস এন্ড ইনফরমেশন অন ডিজেবিলিটি (সিএসআইডি) নির্বাহী পরিচালক খন্দকার জহুরুল আলম বলেন, প্রতিবন্ধিদের বাজেট বলতে শুধুমাত্র সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়য়ের বাজেটকে বুঝায়। অন্যদিকে প্রতিবন্ধি মানুষদের সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীর আওতায় মাসিক মাত্র ৭৫০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়, যা দৈনিক হিসাবে ২৫ টাকা। এটা সহজেই অনুমেয়, ভাতার পরিমাণ বাড়ানো উচিত। কিন্তু দেখা যায়, প্রতিবছর ভাতাপ্রাপ্যদের সংখ্যা বাড়লেও, ভাতার পরিমাণ বাড়ে না। আসন্ন বাজেটে তাই প্রতিবন্ধি মানুষদের সুরক্ষা বেষ্টনী টাকার অঙ্কে বাড়াতে প্রস্তাব করেন তিনি।

আসন্ন বাজেট থেকে ট্রান্সজেন্ডার গোষ্ঠীর প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে ট্রান্সজেন্ডারের সংজ্ঞায়ন সুস্পষ্ট নয়। এমনকি ট্রান্সজেন্ডারদের ওপর অতীতে কখনোই কোন শুমারি পরিচালনা করা হয়নি। ফলে, তাদের দাবি ও চাওয়া-পাওয়া এক অর্থে হিসাবে বাইরে চলে যায়। এই বিষয়ে তিনি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করেন। যেমন- ট্রান্সজেন্ডারদের স্বল্প সুদে ব্যবসায়িক ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা, তাদেরকে কর্মসংস্থানে যুক্ত করার লক্ষ্যে নিয়োগদাতাদের সুনির্দিষ্ট প্রণোদনা প্রদান, ট্রান্সজেন্ডারদের স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন নিশ্চিত করতে তাদের পরিবারদের প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।

কর্ডএইডের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ শাকিব নবী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক বর্তমানে অনানুষ্ঠানিকভাবে কৃষি কাজের সাথে জড়িত। ফলে দেখা যাচ্ছে যে, তারা সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষি খাতের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি আরও মনে করেন যে, পরিস্থিতির উন্নয়নে সামগ্রিক কৃষি কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে।

Manual8 Ad Code

অক্সফাম ইন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মো. মোস্তফা আলী বলেন, কৃষি নিয়ে সরকারের আরও পরিকল্পিত নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, অঞ্চলভেদে প্রয়োজনীয় কৃষি কর্মকর্তার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাই এসব সমাধান করতে কৃষি সংক্রান্ত সব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Manual2 Ad Code

এছাড়াও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সহযোগী প্রতিষ্ঠান, নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই সংলাপে অংশগ্রহণ করেন।

Manual1 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ