ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ১৩জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান

প্রকাশিত: ১:৫২ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০২২

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ১৩জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান

Manual8 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ২৬ মে ২০২২ : ‘ঐক্য ও অগ্রগতির ২৭ বছর’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানীতে কর্মরত পেশাদার রিপোর্টারদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মে ২০২২) ডিআরইউ প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি।
সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিবের সঞ্চালনায় এ সময় সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন ডিআরইউ সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু।

Manual3 Ad Code

ডিআরইউ’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ বছর ব্যতিক্রমী আয়োজন ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা সদস্যদের সংবর্ধনা দেয়া। সরকারের সমন্বিত তালিকা অনুযায়ী ১৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডিআরইউ সদস্যের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক, এমপি।

Manual7 Ad Code

সংবর্ধনা প্রাপ্তরা হলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃণাল কৃষ্ণ রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শফিকুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাক আহমেদ মোবারকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল বাশার চপল, বীর মুক্তিযোদ্ধা কার্তিক চ্যাটার্জী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসেন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বপন দাশ গুপ্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সরদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা তালুকদার হারুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শংকর কুমার দে ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হালিম আজাদ।

নসরুল হামিদ মিলনায়তনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সাংবাদিকরা দেশে-বিদেশে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জাতি এ বীরদের আজীবন স্মরণ করবে। যারা কলম সৈনিক, তারাও মুক্তিযোদ্ধা। যারা চরমপত্র লিখেছেন, তারাও মুক্তিযোদ্ধা। কারণ মুক্তিযোদ্ধা শুধু একদিক থেকে নয়, সার্বিক দিক থেকে সবকিছু মিলিয়েই মুক্তিযোদ্ধা।

Manual5 Ad Code

সংবর্ধনা পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে এবং স্মৃতিচারণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে-বিদেশে যে সাংবাদিকতা হয়েছিল সে সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে, দালিলিকভাবে ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হবে। গণমাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের যারা জীবিত আছেন তাদের মূল্যায়ন করতে হবে। প্রজন্মের পর প্রজন্মে মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরব প্রবাহিত হবে বলেও এ সময় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিবের সঞ্চালনায় সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মিঠু বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তাদের মধ্যে অনেকেই সামনের সারিতে থেকে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে জীবন বাজি রেখে ছিলেন। তাদের সম্মান করতে পেরে আমরা গর্বিত।

২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ডিআরইউ’র সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও ডিআরইউ’র প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কামাল উদ্দিন সুমন মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন।

দিনব্যাপী আয়োজনে ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শাহনাজ শারমীন, অর্থ সম্পাদক এস এম এ কালাম, দপ্তর সম্পাদক রফিক রাফি, নারী বিষয়ক সম্পাদক তাপসী রাবেয়া আঁখি, তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক কামাল মোশারেফ, ক্রীড়া সম্পাদক মাকসুদা লিসা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাদিয়া শারমিন, আপ্যায়ন সম্পাদক মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান ও কল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবলু, কার্যনির্বাহী সদস্য হাসান জাবেদ, মাহমুদুল হাসান, সোলাইমান সালমান, সুশান্ত কুমার সাহা, মো: আল-আমিন, এসকে রেজা পারভেজ এবং মো: তানভীর আহমেদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সাবেক সভাপতি শাহজাহান সরদার, এম শফিকুল করিম, সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাইফুল ইসলাম, ইলিয়াস হোসেন, রফিকুল ইসলাম আজাদ ও মুরসালিন নোমানী এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, রাজু আহমেদ, সৈয়দ শুকুর আলী শুভ ও কবির আহমেদ খান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ঘোড়ার গাড়ি ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। র‌্যালিটি ডিআরইউ চত্বর থেকে বের হয়ে বারডেম হাসপাতাল (মহিলা ও শিশু) ও শিল্পকলা একডেমি মোড় ঘুরে ডিআরইউ চত্বরে এসে শেষ হয়।

Manual8 Ad Code

র‌্যালি শেষে ডিআরইউ নসরুল হামিদ মিলনায়তনে কেক কাটা হয়। এছাড়া ডিআরইউ সদস্য ও পরিবারের জন্য দিনব্যাপী বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প ও সন্ধ্যায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ