সিলেট ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:৫৫ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৮ মে ২০২২ : ‘৪৩-এর দুর্ভিক্ষের বিখ্যাত চিত্রকর, উপমহাদেশের কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ৪৬তম মৃত্যু বার্ষিকী অাজ।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন একাধারে বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলনের পথিকৃৎ, উপমহাদেশের কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী, তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষের বিখ্যাত চিত্রকর, সফল শিল্পী-শিক্ষক, বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান ধারক-বাহক ও সেবক এবং মানবতার প্রেমিক ।
শিল্পগুরু শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার কেন্দুয়াতে জন্মগ্রহণ করেন৷ তিনি নিজ প্রচেষ্টায় কলকাতায় গিয়ে সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হন এবং ছাত্র অবস্থাতেই তরুণ শিল্পী হিসেবে সারা বাংলায় সুপরিচিত হয়ে ওঠেন। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের দুর্ভিক্ষ চিত্রমালার মাধ্যমে মানবতাবাদী শিল্পী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। দেশভাগের প্রেক্ষাপটে ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় একটি শিল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার নেতৃত্ব দান তাঁর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
ছোটবেলা থেকেই তিনি ছবি আঁকতে পছন্দ করতেন। তাঁর বিখ্যাত চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে ‘দুর্ভিক্ষ-চিত্রমালা’, ‘সংগ্রাম’, ‘সাঁওতাল রমণী’, ‘ঝড়’, ‘কাক’, ‘বিদ্রোহী’, ‘নবান্ন-৭০’ ইত্যাদি। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে গ্রামবাংলার উৎসব নিয়ে আঁকেন তাঁর বিখ্যাত ৬৫ ফুট দীর্ঘ ছবি ‘নবান্ন’। চিত্রশিল্প বিষয়ক শিক্ষার প্রসারে আমৃত্যু প্রচেষ্টার জন্য জনসাধারণ্যে তিনি ‘শিল্পাচার্য’ অভিধা লাভ করেন। অনুমান করা হয়, তাঁর চিত্রকর্মের সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি৷
বাংলাদেশের চিত্রকরদের মধ্যে তিনি শিল্পগুরু বিবেচিত। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে এই কীর্তিমান শিল্পীর ৮০৭টি চিত্রকর্ম সংগ্রহে আছে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সংগ্রহে আছে প্রায় ৫০০ চিত্রকর্ম। এছাড়া, পাকিস্তানের বিভিন্ন সংগ্রহশালায় তাঁর বিপুল পরিমাণ চিত্রকর্ম সংরক্ষিত আছে। এমনকি তাঁর পরিবারের কাছে এখনো প্রায় চার শতাধিক চিত্রকর্ম সংরক্ষিত আছে। ময়মনসিংহের সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত চিত্রকর্মের সংখ্যা ৬২টি।
জয়নুল আবেদিন ছিলেন সাধারণ আটপৌরে মানুষের শিল্পী। সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র, দুঃখ-বেদনা ছিল এ মহান শিল্পীর ছবির উপজীব্য। তিনি একাধারে ছিলেন নিসর্গপ্রেমিক, অন্যদিকে তার রঙ-তুলিতে ফুটে উঠেছে দ্রোহের ভাষা। শিল্পাচার্যের ‘৪৩-এর দুর্ভিক্ষের ছবিগুলো মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা তুলে ধরার পাশাপাশি তৎকালীন ব্রিটিশ রাজের এ দেশের মানুষের প্রতি চরম অবহেলা এবং মানুষের দুর্দশা লাঘবের ব্যর্থতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল। একইভাবে ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মহাপ্রলয়ের পর বঙ্গবন্ধু যেমন ছুটে গিয়েছিলেন দুর্গত মানুষের পাশে, শিল্পী জয়নুল আবেদিনও সেদিন ঘরে বসে থাকতে পারেননি। তিনিও ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দুর্গত এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন।
সেখান থেকে ফিরে শিল্পী আঁকলেন তাঁর বিখ্যাত ছবি ‘মনপুরা-৭০’। ৩০ ফুট দীর্ঘ এ শিল্পকর্মে শিল্পী সাইক্লোনের ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি বাঙালির ঘুরে দাঁড়ানোর দৃঢ়চিত্তের ইঙ্গিতও প্রতিভাত করেছেন। জীবনাশ্রয়ী বাস্তবানুগ শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের কৃতিত্ব সর্বজন স্বীকৃত। সাধারণ মাটির মানুষের বিচিত্র জীবনের বিভিন্ন দিক এবং নিসর্গ, নবান্ন, দুর্ভিক্ষ, জলোচ্ছ্বাস, যুদ্ধ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও জীবজন্তু ইত্যাদি অনায়াসে তাঁর শিল্পকর্মের বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। অবশেষে ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৮শে মে এই কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী প্রয়াণবরণ করেন৷
আজ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন’র প্রয়াণ বার্ষিকীতে জানাই অন্তর্লীন শ্রদ্ধাঞ্জলি ও সশ্রদ্ধ সম্মান৷

সম্পাদক : সৈয়দ আমিরুজ্জামান
ইমেইল : rpnewsbd@gmail.com
মোবাইল +8801716599589
৩১/এফ, তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০।
© RP News 24.com 2013-2020
Design and developed by ওয়েব নেষ্ট বিডি