পঞ্চব্রীহি ধান আবিস্কার: চমক সৃষ্টি করেছেন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী

প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২৩

পঞ্চব্রীহি ধান আবিস্কার: চমক সৃষ্টি করেছেন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী

Manual1 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৪ অক্টোবর ২০২৩ : একবার রোপণে পাঁচবার ফলবে ধান! ‘পঞ্চব্রীহি’ ধান আবিস্কার করেছেন বাঙালি বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী। এ উদ্ভাবনে সারা দুনিয়ায় চমক সৃষ্টি করেছেন তিনি।

সাধারণত একবার রোপণে ধান গাছে একবার ফলন হয়। ধান কেটে নিলে ধানগাছ মারা যায়। সেটা খর হয়। কিন্তু ফলন শেষ হওয়ার পর একটি ধান গাছ পুরোপুরি না কেটে একই গাছে বিভিন্ন মৌসুমে আরও চার রকমের ধান কীভাবে উৎপাদন সম্ভব, তা আবিষ্কার করে চমক সৃষ্টি করেছেন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি বাঙালি বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী।

Manual7 Ad Code

ড. আবেদ চৌধুরী এ আবিষ্কারের নাম দিয়েছেন ‘পঞ্চব্রীহি’। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, এই নতুন ধান চাষ পদ্ধতি সারাদেশের কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে আগামী ৫০ বছরের জন্য গোটা জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী মৌলভীবাজার জেলায় তার নিজ গ্রাম হাজীপুর এলাকার কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে গবেষণা করেছেন। কোনো রাসায়নিক ছাড়াই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার প্রজাতির ধানের মিশ্রণ ঘটিয়ে তিনি পাঁচ রকমের ধান গাছ আবিষ্কার করেছেন। যা চাষের জন্য নতুন করে পাঁচ রকমের ধানের ছারা রোপণ করতে হবে না। এতে কৃষকের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি সাশ্রয় হবে অর্থ ও বাড়বে উৎপাদন।
একই সঙ্গে এক জমিতে একবার চারা রোপণ করে বোরো, আউশ, আমনসহ বিভিন্ন মেয়াদে পাঁচ রকমের ধান উৎপাদন করা যাবে। ফলে দূর হবে দেশের খাদ্য সংকট।

ড. আবেদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘আমার এ আবিষ্কারের গবেষণাগার হলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত মৌলভীবাজার জেলার সীমান্তবর্তী কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রাম, যে গ্রামে আমি বড় হয়েছি। সেখানে আমার গবেষণার সহযোগী ছিলেন সেসব নিরক্ষর কৃষক যাদের গায়ে লেগে থাকে বাংলার জল-কাদার গন্ধ। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ের গবেষণায় দিনরাত আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তাদের বুকে মিশে আছে ধর্ম ও বিজ্ঞান। এসব নিরক্ষর, সরলপ্রাণ, দেশপ্রেমিক কৃষককে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বকে উপহার দিতে চাই উৎপাদনের শ্রেষ্ঠতম বিজ্ঞান। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আমার আবিষ্কারকে ব্যবহার করতে চাই না। আমি চাই এ আবিষ্কার দেশের মানুষের জীবনমান বদলে দিক। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক মাতৃভূমির মানুষের জন্য।”

দীর্ঘদিন ধরেই ধান নিয়ে কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী। সেই গবেষণার ফসল হিসেবে বোরো জাতের নতুন ধান গাছ উদ্ভাবন করে চমক সৃষ্টি করলেন তিনি। এখন তিনি কাজ করছেন বছরে ছয়বার ফসল পাওয়া নিয়ে।

Manual8 Ad Code

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনের অর্থায়নে বিডিওএসএন-এর তত্ত্বাবধানে এক বছর মেয়াদি (আইভিইএমআরভিএম) প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল ধানের এ জাতের চাষ করা হয়েছে। পরে ধানের এ বীজ কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

Manual3 Ad Code

২০১০ সালে প্রথম তার নিজ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামে ২৫ বর্গমিটার জমিতে ২০টি ধানের জাত নিয়ে গবেষণা শুরু করেন আবেদ চৌধুরী। তিন বছরে ২০টি ধানের জাত নিয়ে গবেষণা করলে দেখা যায় নির্দিষ্ট ধরনের এ জাত একই গাছে পাঁচবার ফলন দিতে সক্ষম। স্থানীয় জাতের ধানের সঙ্গে উন্নতমানের ধানের বীজ সংকরায়ণ করে এই উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত পাওয়া যায়।

Manual5 Ad Code

নতুন পঞ্চব্রীহি ধানের জাত বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে এখন ছড়িয়ে দেওয়ার উপযোগী হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবেদ চৌধুরী। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এ ধান তিন গুণ কম খরচে উৎপাদন করা যাবে বলে জানান এ বিজ্ঞানী।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ