শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন লাইব্রেরি ‘পাঠক কর্ণার’: নতুন করে ৫৩ বই

প্রকাশিত: ১১:২১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২৬

শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন লাইব্রেরি ‘পাঠক কর্ণার’: নতুন করে ৫৩ বই

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৮ আগস্ট ২০২৬ : ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের অবসর সময়কে বই পড়ার সুযোগে পরিণত করতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের পাঠক কর্ণারে নতুন করে ৫৩টি বই যুক্ত করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে পাঠক কর্ণারে এসব বই রাখা হয়। নতুন বইয়ের মধ্যে শিশুতোষ সাহিত্য, গল্প-উপন্যাস, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের বই রয়েছে।

পৌরসভার পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের শিক্ষক ও ‘উত্তরণ’ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মো. সাইফুল ইসলাম এবং শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য ইসমাইল মাহমুদ পাঠক কর্ণারের জন্য বই দেন। তাঁদের দেওয়া বইসহ মোট ৫৩টি বই নতুন করে পাঠক কর্ণারে সংযোজন করা হয়েছে।

বইগুলো পাঠক কর্ণারে রাখার সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল, শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম এবং শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন।

জানা গেছে, যাত্রীদের অবসর সময়কে অর্থবহ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে গত বছরের ৩০ অক্টোবর শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উদ্যোগে রেলস্টেশনে পাঠক কর্ণারটি স্থাপন করা হয়। শুরুতে পাঠক কর্ণারটি যাত্রী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি করলেও সেখানে রাখা বইগুলো বেশিদিন টেকেনি। বছর না ঘুরতেই পাঠক কর্ণারের সব বই উধাও হয়ে যায়।

তবে বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের ভাষ্য, বইপ্রেমী পাঠকেরা বই পড়ে ভালোবেসে তা সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারেন। এরপর পাঠক কর্ণারটি সচল রাখতে কয়েক দফায় সেখানে নতুন বই রাখা হয়। কিন্তু প্রতিবারই একই চিত্র দেখা যায়—পাঠকেরা বই নিয়ে ট্রেনে উঠে পড়েন। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই আবার বইশূন্য হয়ে পড়ে পাঠক কর্ণার।

Manual8 Ad Code

এবার চতুর্থ দফায় নতুন করে ৫৩টি বই রাখা হলো। এর আগে তিন দফায় বই দেওয়ার পরও পাঠক কর্ণারে বই ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। তবু পাঠকদের বই পড়ার সুযোগ করে দিতে নতুন করে বই দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পৌরসভা ও স্থানীয় বইপ্রেমীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেলস্টেশনের মতো ব্যস্ত একটি স্থানে পাঠক কর্ণারের উদ্যোগটি ব্যতিক্রমী। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন। ট্রেন আসার অপেক্ষায় অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় স্টেশনে থাকতে হয়। এ সময় মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকার পরিবর্তে কেউ যদি একটি বই হাতে তুলে নেন, তাহলে তাঁর অপেক্ষার সময়টিও হয়ে উঠতে পারে আনন্দময় ও জ্ঞানসমৃদ্ধ। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Manual8 Ad Code

পাঠক কর্ণারে এবার বিভিন্ন বয়সী পাঠকের কথা বিবেচনায় রেখে নানা ধরনের বই রাখা হয়েছে। শিশুদের উপযোগী বইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানভিত্তিক বইও রয়েছে। ফলে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীরা তাঁদের পছন্দের বই পড়ার সুযোগ পাবেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় মানুষ যাতে অবসর সময়ে বই পড়ার সুযোগ পান, সেই লক্ষ্যেই পাঠক কর্ণারটি চালু করা হয়েছে। মানুষের মধ্যে আবার বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হোক—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, “আমরা চাই, যাঁরা এখানে বই পড়বেন, তাঁরা বই পড়ে যথাস্থানে রেখে যাবেন। বই নিয়ে গেলে অন্য একজন পাঠক বই পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।”

স্থানীয় বইপ্রেমীদের মতে, পাঠক কর্ণারের বই পাঠকেরা নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে শুধু বই হারিয়ে যাওয়া হিসেবে দেখলে উদ্যোগটির ইতিবাচক দিকটি আড়ালে পড়ে যাবে। বরং এর মাধ্যমে বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তবে পাঠক কর্ণারকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখতে বই নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট স্থানে বসে বই পড়ার বিষয়ে পাঠকদের সচেতন করা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত নতুন বই সংযোজন ও পাঠক কর্ণারের দেখভালের ব্যবস্থা করা গেলে এটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে পারে।

Manual2 Ad Code

শ্রীমঙ্গলের এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যেও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, পাঠক কর্ণারটি শুধু রেলযাত্রীদের জন্য সাময়িক বিনোদনের জায়গা না হয়ে ধীরে ধীরে একটি উন্মুক্ত পাঠচর্চার কেন্দ্রে পরিণত হবে। বই পড়ার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি স্টেশনের পরিবেশেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।

Manual5 Ad Code

নতুন করে ৫৩টি বই সংযোজনের মধ্য দিয়ে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনের পাঠক কর্ণার আবারও পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত হলো। এখন বইগুলো কতটা যত্নে সংরক্ষিত থাকে এবং নিয়মিত পাঠকেরা কতটা এর সুবিধা নিতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়।