বারনই নদীর রাবার ড্যাম যেন এখন রাজশাহীর কৃষকদের আশীর্বাদ

প্রকাশিত: ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০২৩

বারনই নদীর রাবার ড্যাম যেন এখন রাজশাহীর কৃষকদের আশীর্বাদ

Manual1 Ad Code

মো. আয়নাল হক | রাজশাহী, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ : বারনই নদীর রাবার ড্যামাটি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলের রাবার ড্যাম থেকে তারা সেচের পানি পেয়ে প্রচুর লাভবান হচ্ছে। এটি বারনই নদীর উভয় তীরে বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষের জীবন-জীবিকাকে সহজ করেছে।

Manual7 Ad Code

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার জগদীশপুরে বারনই নদীতে বাঁধটি স্থাপন করে প্রায় দুই বছর আগে- যা কয়েক’শ মানুষের ভাগ্যের দ্বার উন্মোচন করে। বর্তমানে তারা মান্ডা, বাগমারা, নলডাঙ্গা ও পুঠিয়া উপজেলার প্রায় ৫ হাজার হেক্টর চর জমিতে আলু, বেগুন, পেঁয়াজ ও সরিষাসহ প্রায় ১৫ ধরনের ফসল ও শাকসবজির চাষ করছেন। নদীর দুই পাড়ে ২০টি খাল ও অন্যান্য সংলগ্ন এলাকায় ২০০টি পাম্প বসিয়ে বিস্তীর্ণ জমিকে সেচের আওতায় আনা হয়েছে।

Manual8 Ad Code

কাচারী কোয়ালিয়াপাড়ার কৃষক ইয়াসিন আলী জানান, রাবার বাঁধটি স্থাপনের আগে কৃষকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো। কারণ তখন বর্ষা শেষ হওয়ার পর পরই নদী শুকিয়ে যেত এবং সারা বছর সে অবস্থাতেই থাকত। কিন্তু বর্তমানে সেই প্রতিকূল পরিস্থিতির অবসান ঘটেছে। বেড়িবাঁধকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার মানুষের কাজের সুযোগও তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বাঁধের ফলে হাজার হাজার কৃষক ও জেলে উপকৃত হচ্ছেন।

Manual7 Ad Code

বিএমডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, বাগমারা ও নলডাঙ্গা উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বারনই নদীর তীরে ১৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬২ মিটার রাবার ড্যাম নির্মাণ করেছেন তারা। নদীর আরেকটি অংশ পুঠিয়া উপজেলার মান্দা, মোহনগঞ্জ, নওহাটা ও শিলমারিয়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে গেছে। বাঁধের কারণে নদীটি সারা বছর পানিতে ভরা থাকে- যা নদী সংলগ্ন জমিগুলোকে সেচ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসে বলে জানান করিম। সেচের জন্য এই পানি ব্যবহার করে কৃষকরা এখন তিনবার ফসল আবাদ করছে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে নদীতে অনেক দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এসব মাছ ধরে এলাকার কয়েক শতাধিক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছে। করিম জানান, এখন বিল কুমারী, খয়রা বিল ও মরা বিলসহ প্রায় ১৫টি বিলে সারা বছর পানি থাকে এবং চাষিরা চাষের জন্য বিল থেকে পানি পাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আগে শুষ্ক মৌসুমে নদী থাকত পানিশূন্য। বাঁধ স্থাপিত হওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে এলাকার নলকূপে পানি পাওয়া যায়। প্রকৌশলী করিম বলেন, বাঁধ প্রকল্প শুধু কৃষকদের ভাগ্যই বদলে দেয়নি, পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করেছে। রাবার বাঁধ প্রকল্পকে সরকারের যুগোপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, আরও অনাবাদি জমিকে সেচের আওতায় আনার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে প্রকল্পটি সম্প্রসারণের ওপর জোর দিতে হবে।

ইন্টিগ্রেটেড ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (আইডব্লিউআরএম) প্রকল্পের সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভর না করে ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানি সেচের প্রচার এই অঞ্চলের জন্য পানির ঘাটতি প্রশমনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিএমডিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুল হুদা বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনকে নিরুৎসাহিত করতে খরাপ্রবণ এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অধীনে ১৬টি জেলার সর্বকালের সর্ববৃহৎ সেচ-প্রদানকারী রাষ্ট্র-চালিত সংস্থা বিএমডিএ আগামী দিনে বৃষ্টির পানি জমে থাকা প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দেবে। তিনি বলেন, বরেন্দ্র এলাকায় সেচের পানির ক্ষতি প্রায় ৪০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ সেচ পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকা ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ, ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে ২০৩০ সাল নাগাদ ভূপৃষ্ঠের জল-ভিত্তিক সেচ বর্তমান ১০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছি।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ