মেহনতি বাঙালির গল্প

প্রকাশিত: ১:১৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০২৪

মেহনতি বাঙালির গল্প

Manual5 Ad Code

লুৎফর রহমান |

প্রজা ও প্রভু:

খেটে-খাওয়া বাঙালিদের গল্পটা শুরু করার আগে নৃতাত্ত্বিক গবেষকরা কী বলেন তার খোঁজ নিতে হবে। নৃতাত্ত্বিকরা বলেছেন, বাঙালির মধ্যে প্রধানত রয়েছে অস্ট্রিক-দ্রাবিড়, আলপীয় আর্য ও মঙ্গোলদের রক্ত। অস্ট্রেলিয়ার আদি অধিবাসীদের সাথে মিল রয়েছে বলে বাঙলার জনগোষ্ঠীর এক অংশকে অস্ট্রাল বলা হয়, নৃতাত্ত্বিক পরিভাষায় তারাই অস্ট্রিক। আর দ্রাবিড় নামে পরিচিত দক্ষিণ ভারতের জনগণ। এই অস্ট্রিক-দ্রাবিড়রা মূলত ভূমধ্যসাগরীয় জনগোষ্ঠীর সগোত্রীয়। ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা থেকে এরা ভারতে এসেছে জলপথে অথবা উপকূলীয় স্থলপথে। বাঙলায় এরা এসেছে বিভিন্ন সময়ে ও নানা দলে বিভক্ত হয়ে।

বাঙলায় প্রাচীনকালে অস্ট্রিক-দ্রাবিড়দের পরে এসে বাস শুরু করে আলপীয় আর্যভাষী জনগোষ্ঠী। আল্পস পার্বত্য অঞ্চলে যে নরগোষ্ঠী বসবাস করতো তারাই আলপীয়। এরা বসবাস করতো রাশিয়ার উড়াল মালভূমি ও দক্ষিণের সমতল ভূমি থেকে দানিয়ুব নদীর উপত্যকা জুড়ে। তাদের মধ্যে স্থানিক ভাষার সাদৃশ্য রয়েছে। তাই গবেষকদের মতে আর্য নামটি ভাষা জ্ঞাপক, জাতিজ্ঞাপক নয়। এই আল্পীয় আর্যরাই বাঙলায় আসে সমুদ্রপথে বা স্থলপথে।

বর্তমানের চাকমা, মারমা, লেপচা, ভুটিয়া, মিজো, ত্রিপুরা, মুরং, খাসিয়া, মেচ, গারো, হাজং প্রভৃতি গোত্রের লোকেরা মোঙ্গলীয় বর্গের। এই নানা বর্গের মানুষ হিমালয়ের মালভূমি ও উপত্যকা অঞ্চল থেকে এবং লুসাই পর্বত বেয়ে বাঙলায় এসেছে। এ ছাড়া নিগ্রো বা আর যারা নানা কারণে ও প্রয়োজনে এখানে এসেছে তাদের সংখ্যা নগণ্য। আজকের বাঙালি তাই নানা রক্তের মিশ্রণে এক সঙ্কর জাতি। এদরে মধ্য থেকে প্রাচীনকালে কোনো গোত্রের মানুষ মানসিক উৎকর্ষের কারণে জীবিকার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায়। ওরাই কৃষিজীবী ও বৃত্তিজীবী হয়। দুর্বল অস্ট্রিক-দ্রাবিড়রা বহুকাল ছিলো ফলমূল আহরণকারী, শিকারি ও জঙ্গলবাসী। এরা ‘নিষাদ’ নামে পরিচিত ছিলো। কোল, ভিল, মুণ্ডা, সাঁওতাল, কোরওয়া প্রভৃতি আদিবাসী উপজাতি অস্ট্রিক-দ্রাবিড় গোত্রীয়।

Manual3 Ad Code

ফলমূল সংগ্রহকারী শিকারি জঙ্গলবাসী মঙ্গোলদের বলা হতো ‘কিরাত’। কোনো কোনো নৃতাত্ত্বিকের মতে বাঙলায় উন্নত মানসিকতার কারণে আবিষ্কৃত হাতিয়ার প্রয়োগে সামনের কাতারে এসে যায় আলপীয় আর্যভাষীবর্গের জনগোষ্ঠী। এরাই বিবর্তনের ধারায় শক্তিতে প্রবল হয়ে অন্যদের দাসে পরিণত করে। এরাই প্রয়োজনীয় সামগ্রীর যোগানদাতা হয়। পরবর্তীতে সমাজে পেশানুসারে এরাই ব্রাহ্মণ, বৈদ্য ও কায়স্থ রূপে জায়গা করে নেয়। এই সমাজটাতে প্রভাব ছিলো বৈদিক আর্যভাষীদের। বৈদিক আর্যভাষীরা আল্পীয় আর্যভাষীদের অবজ্ঞার চোখে দেখতো। এই সময়টাতে জৈন-ব্রাহ্মণ্য শাস্ত্রের আবির্ভাব হয়। এই শাস্ত্র, সমাজ ও শাসকদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে আলপীয় আর্যভাষীরা শাসক-শোসকদের অনুগ্রহজীবী হয়ে তাদের সাথে মিশে যায়। সময়ে বর্ণ-বিন্যস্ত ব্রাহ্মণ্য সমাজে এরা হয়ে যায় গুণে-মানে উচ্চবর্গের সুখী মানুষ। নিম্নবর্ণের ও নিম্নবিত্তের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এদের সেবা দিতে ও প্রভু মানতে বাধ্য হয়।

আর অস্ট্রিক-দ্রাবিড় গোত্রের মানুষরা তাদের নিজস্বতা হারিয়ে আড়াই হাজার বছর ব্যাপী রইলো উন্নয়নের সুযোগবঞ্চিত, জীবীকা নির্বাচনের অধিকারবঞ্চিত স্বল্প আয়ের মানুষ রূপে। ওরা হলো অবজ্ঞার পাত্র অস্পৃশ্য প্রাণী। ওদের মধ্যে যারা ঐ ব্রাহ্মণ-বৈদ্য-কায়স্থদের প্রতিদিনের খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর যোগান দিয়ে সেবা দিতে পারলো তারা কিছুটা অনুগ্রহ পেয়ে গেলো। তারাই সদ্গোপ, নাপিত, ধোপা, স্বর্ণকার, কর্মকার, কুমার, গোপাল প্রভৃতি। আর অন্যরা মুচি, মেথর, চাঁড়াল, বাগদী, কৈবর্ত, হাড়ি, ডোম, কাপালী প্রভৃতি রইলো অস্পৃশ্য হয়ে। জৈন-বৌদ্ধ-ব্রাহ্মণ্য-ইসলাম শাস্ত্র পর্যন্ত এদের সমাজভুক্ত করতে পারলো না।

এটা একটা সাধারণ বিষয় যে ফলমূল সংগ্রহকারী ও শিকারজীবী যাযাবর সমাজে, জঙ্গলের সমাজে সভ্যতার বিকাশ ঘটতে পারে না। অন্যদিকে কৃষিজীবী স্থির ও স্থায়ী সমাজেই সংস্কৃতি-সভ্যতার উন্নয়ন সম্ভব। যাযাবর জীবনে প্রয়োজনটাকে সঙ্কুচিত করে রাখতে হয় কারণ বেশি সামগ্রী থাকলে চলাফেরায় সমস্যা হয়। স্থায়ী ও স্থির বাসস্থান না হলে আকাঙ্ক্ষার প্রসার হয় না, চাহিদার বিস্তার ঘটে না ও উপকরণেরও বৃদ্ধি হয় না। এজন্যই এক সময় কৃষিজীবী মানুষ ও সমাজ গুণে-মানে শ্রেষ্ঠ ছিলো। আমরা জানি সংস্কৃতির আরেক নাম কৃষ্টি। কৃষ্টি শব্দটা এসেছে কৃষকের কর্ষণ থেকে।

ইতোমধ্যে সমাজবিবর্তনের ধারায় যান্ত্রিক বিকাশ হলো। একদল মানুষ হাতিয়ার প্রয়োগের দক্ষতায় ও শক্তিবলে, বুদ্ধিবলে প্রবল হয়ে ওঠলো। তারা প্রতাপ ও প্রভাব খাটিয়ে অন্যের শ্রম আত্মসাৎ করতে শুরু করলো। এরা হয়ে গেলো সেবাভোগী, অবসরভোগী। ক্রমে এরাই হলো শোষক ও শাসকশ্রেণি। এই সময়টাতে শ্রমসাধ্য কৃষি হয়ে গেলো ঘৃণ্য বিষয়। জমির মালিক হয়ে গেলো ঐ শোষকরা, শাসকরা। এরা হয়ে গেলো অত্যাচারী দাপুটে। এই ভূমিমালিকানাই ছিলো দাপটের উৎস। এমনিভাবে উৎপাদক শক্তি চাষী হলো প্রজা আর জোরদখলকারী ভূমির মালিক জমিদার হলো প্রভু।

ইতিহাস যা বলে:

বাঙলাদেশে প্রাচীনকালে শাস্ত্রপতিরা, সমাজপতিরা, সামন্তরা ছিলো গণমানুষের শাসন-শোষণের মালিক। একে বলা যায় এক প্রকারের দাসপ্রথা। সে সময় গণমানুষের, জানের ওপর মালের ওপর কোনো অধিকার ছিলো না। শাস্ত্র-সমাজ-সরকারের বেঁধে দেয়া নিয়মে তাদের চলতে হতো। তাদের কাজে নিযুক্ত হয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে জীবন পার করতে হতো। সে সময় ঋণের চাপে, খাজনার চাপে ও মালিকের অত্যাচারের ভয়ে মানুষ এ ভূমি-মালিকের এলাকা থেকে সে-ভূমি মালিকের এলাকায় পালিয়ে বেড়াতো। যেখানেই যেতো সেখানেই তাদের কোনো না কোনো ভূপতির অধীনে থাকতে হতো। সবাইকে প্রভুর জন্য বেগার খাটতে হতো। প্রভুর পরিবারের উৎসবে, পার্বণে, বিয়েতে, শ্রাদ্ধে ও অন্নপ্রাসনে দিতে হতো নজর-সম্মানী। এর ওপর ছিলো নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন- বন্যা, খরা, ঝড়, মহামারি ইত্যাদি। এসব কারণে জনসংখ্যাও খুব একটা বৃদ্ধি পেতো না। ছিলো না জীবনের কোনো নিশ্চয়তা।

Manual2 Ad Code

সে সময়ের অর্থনীতি-সমাজনীতি-সংস্কৃতির মালিক ছিলো এই ভূ-স্বামীরা। গণমানুষের ওপর তারা শাসন-শোষণ ইচ্ছেমতো চালাতো। কামার, কুমার, চামার, হাড়ি, ডোম, তাঁতি, তিলি, চাঁড়াল, বাগদী, কৈবর্ত কারোরেই তখন ধনী হওয়ার সুযোগ ছিলো না। পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে তাদের কোনো স্বীকৃতি ছিলো না। তারা তাদের প্রভুর কাছ থেকে প্রতিদিন পেতো অমানবিক আচরণ। তাদের নিজের ইচ্ছায় জীবিকা নির্বাচন করার কোনো অধিকার ছিলো না। ফলে তাদের কোনো সুযোগ ছিলো না নিজেকে বিকশিত করে প্রতিষ্ঠা করার। তখন সম্পদের স্বপ্ন দেখার, সুখের স্বপ্ন দেখার প্রশ্নই উঠতো না, ছিলো অত্যাচার, নিপীড়ন, বঞ্চনার ও অকাল মৃত্যুর শিকার। সময়ে এইসব মানুষ আপন ধর্ম বদলিয়েও পেশা পরিবর্তনের কোনো সুযোগ পেতো না। এমন অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তির কোনো উপায় ছিলো না। মধ্যযুগ পর্যন্ত তাই গণমানুষ তাদের এই অবস্থাকে বিধাতার বিধান বলে জ্ঞান করতো।

তারপর বাঙলার মেহনতি মানুষের জীবনে অনেক নতুন ঘটনা ঘটে যায়। জীবন চিরকাল নদীর মতো বহমান গতিশীল, এক জায়গায় থেমে থাকার নয়। বাঙলার মানুষের ক্রমে পশ্চিমের উন্নত জীবন প্রণালির সাথে পরোক্ষ পরিচয় ঘটে। সমাজে ঘটে কৃৎকৌশলের প্রসার। দ্রুত বাড়ে কল-কারখানা। উত্থান ঘটে নগর জীবনের। সহজ হয়ে আসে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। সব মিলিয়ে গণমানুষের জীবনের চাহিদা বেড়ে যায়, বেড়ে যায় জীবন পরিচালনার উপকরণের চাহিদা। প্রচলন হয় মুদ্রার। ফলে মুদ্রার মাধ্যমে পণ্য বিনিময় ও শ্রম ক্রয়-বিক্রয় সহজ হয়ে যায়। বাঙলার মানুষের পরিচয় ঘটে যান্ত্রিক পৃথিবীর মানুষের ভাব-কল্পনা ও কর্মের সাথে। ইতোমধ্যে ছাপাখানার প্রবর্তন হওয়ায় চিন্তা-চেতনার বিকাশে বই একটা অবদান রাখে। এসব ঘটনাবলি একত্রে শাসকদের-শোষকদের এতোদিনের রীতিনীতি নিয়ম-কানুনে একটা বিরূপ প্রভাব ফেলে। ফলে যন্ত্রনির্ভর জীবন পদ্ধতির দিকে মানুষের গতি অপ্রতিরোধ্য হয়ে দাঁড়ায়।

আমরা যদি ব্রিটিশ শাসকদের দিকে দৃষ্টি দিই দেখবো শোষণের বিচিত্র রূপ। এও দেখবো নতুন যন্ত্রসভ্যতার ছোঁয়ায় বাঙলার অবজ্ঞার পাত্র অস্পৃশ্য শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে জেগেছিলো এক আত্মজিজ্ঞাসা। মনে নিজেদেরকে বিকশিত করার অদম্য ইচ্ছা জেগেছিলো। সেটা ভাগ্যকে মেনে নেয়া নয়, ভাগ্য গড়ার ইচ্ছে। এই চেতনা বঞ্চিত মানুষের প্রাণে জাগায় ক্ষোভ। তারা সম্পদে সম্মানে সমৃদ্ধ হতে চাইলো। এই আকাঙ্ক্ষা থেকে জন্ম নিলো বিদ্রোহের। অবসান হলো বৃটিশ শাসনের।

তারপর আমরা যদি পাকিস্তান আমলের দিকে নজর দিই দেখবো মিথ্যা ছিলো দ্বি-জাতি তত্ত্ব। এর আড়ালে ছিলো পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ঔপনিবেসিক কায়দায় শাসন-শোষণের গোপন খায়েশ। ফলে নতুন স্বাধীনতা মেহনতি মানুষের মনের আশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই যখন শাসকরা বাঙালির ভাষার ওপর আক্রমণ করে তখন এ আজাদী যে মিথ্যে সেটা বাঙালি বোঝে ফেলে। বাঙলার মানুষের মধ্যে স্বাধিকারের চেতনা জাগে, ৬ দফার আন্দোলন এরই ফল। এই আন্দোলন বেগবান হয়ে ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত গেলে বাঙলার কৃষক-শ্রমিকের দাবিগুলো জায়গা করে নেয় ১১ দফায়। তারপর ’৭০-এর নির্বাচনে বাঙালিরা এককভাবে জিতলে পাকিস্তানি শাসকরা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বাঙালির ওপর চাপিয়ে দেয় এক অসম যুদ্ধ। বাঙালি বীরের জাতি, নয় মাস যুদ্ধ করে বাঙলাদেশ স্বাধীন করে ফেলে।

বাঙালি এই প্রথম পেয়ে যায় সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতা। তারা একটি সার্বভৌম ভূ-খণ্ডের মালিক হয়। এবার গণমানুষের অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক মুক্তির পালা। রচিত হয় ’৭২-এর সংবিধান। সংবিধানে মূলনীতি হিসেবে উল্লেখিত হয়, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও শোষণহীন সমাজব্যবস্থা সমাজতন্ত্র। মুক্তিযুদ্ধে প্রধানত অংশ গ্রহণ করেছিলো বাঙলার কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষ। এবার তাদের মনে মুক্তির আশা জাগলো। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে ছিলো বাঙলার উঠতি ধনিকরা যাদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিলো পাকিস্তানি একচেটিয়া পুঁজিপতিদের দ্বারা। এরা স্বপ্ন দেখেছিলো দেশ স্বাধীন হলে সুবিধা পবে। এরাই শাসকের আসন দখল করলো এবং দ্রুত বিকাশের জন্য অস্থির হয়ে ওঠলো। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে যারা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো সেই সাম্রাজ্যবাদ ও দেশীয় প্রতিক্রিয়াশীলরা নতুন শাসকদের পক্ষ নিলো। এরা একটি ক্যু-এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নিহত করে ’৭২-এর সংবিধানের নীতিমালাকে বদলিয়ে সাম্রাজ্যবাদের আদর্শ বাজার অর্থনীতির অবাধ লুটপাটের নীতি চালু করলো এবং আজো এই নীতিই চলছে।

Manual8 Ad Code

বাঙলার মেহনতি মানুষ মুক্তিযুদ্ধটা করলো, কিন্তু তাদের মুক্তির স্বপ্ন পূরণ হলো না, শুধু চালকের আসনে অর্থাৎ ক্ষমতা দখল করতে পারলো না বলে। ডিম পাড়লো হাঁসে খাইলো বাগডাশে। বর্তমানে বাঙলাদেশে যা চলছে শাসকগোষ্ঠীর পরস্পরের মধ্যে সাম্রাজ্যবাদের সহযোগিতায় ক্ষমতা দখলের নোংরা কামড়াকামড়ি। এই নোংরা দ্বন্দ্বের মধ্যে মেহনতি মানুষের কোনো স্বার্থ নেই। মেহনতি মানুষের আজ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নাভিশ্বাস। তারা সকল গণতান্ত্রিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদের বিষবাষ্পে ভরে গেছে দেশ। খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, হত্যা, গুম, লুটপাট নিত্য ব্যাপার। জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। মেহনতি মানুষকে আজ তার সকল মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিজ্ঞানসম্মত সংগঠিত লড়াই করতে হবে। শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয় রুটি-রুজির অধিকার বাস্তবায়িত হবে এমন গণতন্ত্রের জন্য লড়তে হবে। মনে রাখতে হবে শাসকগোষ্ঠী একটা ক্ষমতার মজবুত ভিত গড়েছে। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার কাজটি যতো কঠিনই হোক, মেহনতি মানুষদেরকে মুক্তির লক্ষ্যে ধীরগতিতে হলেও দৃঢ়তার সাথে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মুক্ত তারা হবেই, ইতিহাস সে কথাই বলে।

লেখক : কলামিস্ট

Manual4 Ad Code