মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ‘৭১-এর শহীদ পবন তাঁতী দিবস আজ

প্রকাশিত: ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২৪

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ‘৭১-এর শহীদ পবন তাঁতী দিবস আজ

Manual3 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | শ্রীমঙ্গল, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪ : চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রথম গ্রাজুয়েট, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ‘৭১-এর শহীদ পবন কুমার তাঁতী দিবস আজ।

Manual5 Ad Code

এ দিবস পালনে ও স্মরণে শ্রীমঙ্গলের রাজঘাট চা বাগানে সকালে পুস্প স্তবক অর্পন ও শোভাযাত্রা এবং সন্ধ্যায় আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে।

Manual6 Ad Code

৫ ডিসেম্বর ২০২৪ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজঘাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে আয়োজিত এ স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সুদর্শন শীল।

“বাংলাদেশের চা-শ্রমিকদের মধ্যে প্রথম গ্রাজুয়েট, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ‘৭১-এর ৫ ডিসেম্বর পবন কুমার তাঁতী শহীদ হন। তাঁর এই অসামান্য অবদান ও আত্মদান সরকারিভাবে স্বীকৃতি না পাওয়া দুঃখজনক। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

শহীদ পবন কুমার তাঁতী বিকম পাস করেছিলেন। চা-শ্রমিকদের সকলের কাছে এটা গর্বের হলেও কর্তৃপক্ষ ব্যাপারটা পছন্দ করেনি।

কেননা বাগানে শিক্ষার বিস্তার তাদের কাছে হুমকিস্বরূপ মনে হয়েছিল। তাছাড়া ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যেটা চা-বাগান কর্তৃপক্ষের নজর এড়ায়নি।

Manual4 Ad Code

পবন কুমার তাঁতী কমিউনিস্ট নেতা মফিজ আলীর নেতৃত্বাধীন চা শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে চা-বাগান এলাকায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।

একাত্তরের মার্চে পবন তাঁতী ঢাকায় ছিলেন এমএড কোর্স করতে। ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরু হলে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন এবং খুব কষ্ট করে বাগানে ফিরে যান।

সেখানে যেয়ে তিনি পরিবারের সদস্য ও শ্রমিকদের সাথে যুদ্ধে যাওয়া ও নিরাপদ আশ্রয়ের কথা আলোচনা করেন। তার এই মিটিং-এর কথা পাকসেনাদের কানে যায় এবং একদিন সকালে সেনারা এসে পবন তাঁতীসহ পরিবারের সকলকে লাইনে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাদের ঘরে অস্ত্র খুঁজতে থাকে।

অস্ত্র না পেয়ে বন্দুকের নল দিয়ে তারা পবন তাঁতীকে আঘাত করে। তবে ঐ দফায় প্রাণে না মেরে তার সার্টিফিকেট ও পুরনো চিঠিপত্রের বাক্স নিয়ে পাকসেনারা চলে যায়।

Manual2 Ad Code

পবন তাঁতী ইচ্ছা করলেই নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি দেশে থেকে শ্রমিকদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সংগঠিত করার জন্য কাজ করতে থাকেন।
এরই এক পর্যায়ে তিনি কালিঘাট বস্তিতে আসেন। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ পবন তাঁতীর উপর নজর রাখতে এবং পাকিস্তানি সেনারা কালিঘাট বস্তিতে এসে তার পরিবারের সদস্যদের উপর অত্যাচার শুরু করলে পরিবারের অন্যদের বাঁচানোর স্বার্থে তার কাকা পবন তাঁতীকে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দেন।

তাকে শ্রীমঙ্গল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুমাস ধরে তার উপর চলে অমানবিক নির্যাতন। কখনো চলেছে চাবুক, কখনো গরম ছেঁকা, কখনো গরম পানি গায়ে ঢেলে দেওয়া, কখনোবা পা উপরে আর মাথা নিচে দিয়ে ঝুঁলিয়ে রাখা হতো।

এভাবে শরীরের সব শক্তি নিঃশেষ হলে ৫ ডিসেম্বর রাতে শ্রীমঙ্গলে ওয়াপদা অফিসের বধ্যভূমিতে নিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।”