পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার মানুষ বেশি কিছু চায় না, চায় নাগরিক মর্যাদা: খায়রুল চৌধুরী

প্রকাশিত: ৩:২৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০২৫

পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার মানুষ বেশি কিছু চায় না, চায় নাগরিক মর্যাদা: খায়রুল চৌধুরী

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৮ আগস্ট ২০২৫ : পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী সভাপতির বক্তব্যে বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা রাজনৈতিক সমস্যা। এখানকার মানুষ বেশি কিছু চায় না। নাগরিক হিসেবে, রাজা–প্রজার সম্পর্কের বাইরে এসে নাগরিক মর্যাদা চেয়েছে। সরকারগুলো যদি এটা বিবেচনায় না নেয়, তাহলে এগোনো যাবে না। জাতীয় সংলাপের চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

পাহাড়ের ভূমি সমস্যা নিয়ে আয়োজিত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

Manual4 Ad Code

আজ সোমবার (১৮ আগস্ট ২০২৫) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ১ বছর। পাহাড়ের ভূমি সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ভূমি কমিশনকে সক্রিয়করণ’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে।

Manual8 Ad Code

আলোচনা সভায় বলা হয়, এযাবৎ পার্বত্য চট্টগ্রামে কত জমি দখল হয়েছে, তার হিসাব তুলে ধরার জন্য সরকারের প্রতি দাবি উঠেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যা নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি করেন বক্তাদের অনেকেই। তাঁরা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির প্রায় ৩০ বছর হতে চললেও সেখানে ভূমি সমস্যার সমাধান হয়নি। বিভিন্ন সরকার এলেও কেউই সমস্যার সমাধান করেনি। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে গঠিত ভূমি কমিশনও কার্যকর নয়। এ অঞ্চলের সমাধানের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সব পক্ষের সমর্থন প্রয়োজন।

অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, এই গণ-অভ্যুত্থানের মূল স্লোগান ছিল বৈষম্য দূর করা। ভূমি অধিকার, শিক্ষা, লিঙ্গবৈষম্যসহ সব ধরনের বৈষম্য নিরসনের শপথ নিয়েই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু সরকার পাহাড়ের সমস্যার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়নি। সারা দেশে গণতন্ত্রের লড়াই করবে কিন্তু পাহাড়কে বাইরে রেখে সে লড়াই হবে না। কারণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘পাহাড়ের সমস্যা নিয়ে অনেক কথা বলা হলেও সরকারগুলো যৌক্তিক কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করেনি। তাই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের উচিত কোন সরকারের আমলে পাহাড়ের কত ভূমি দখল করা হয়েছিল, অবৈধভাবে লিজ দেওয়া হয়েছিল, সেসব প্রকাশ করার জোর দাবি জানাই। কত সেটলার, কোন সংখ্যায় সেখানে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটাও প্রকাশ করা হোক।’

Manual2 Ad Code

গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, বৈষম্যের বড় চিত্র পার্বত্য চট্টগ্রাম। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে প্রতি জায়গায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। সেখানকার অধিবাসীরা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আইন হয়, বিধিমালা হয় না, ঝুলে যায়। আবার বিধি হলেও তা বাস্তবায়িত হয় না। মূল বিষয় হচ্ছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কী। যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দল এই বিষয়গুলোকে ধারণ করে কি না। চুক্তি বাস্তবায়ন যে আমলা ও বাহিনী করবে, তাদের নীতিগতভাবে এক করা হচ্ছে কি না এবং সমর্থন আছে কি না, তা দেখতে হবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারেও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয় নেই। আগামী ছয় মাসেও তা হবে বলে মনে হয় না। সমস্যা জিইয়ে রাখা হয়েছে। অসাধারণ এক অভ্যুত্থান হয়েছে কিন্তু শাসকশ্রেণির দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়নি এই এক বছরে।

সভায় আলোচনার ধারণাপত্র উত্থাপন করেন সংগঠনটির যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন। সেখানে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি সমস্যার সমাধানের কিছু করণীয় বিষয়ে তুলে ধরেন—দ্রুত ভূমি কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ন করা ও কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা; ভূমি কমিশনের পর্যাপ্ত জনবল, তহবিল ও পরিসম্পদ বরাদ্দ করা; ভূমি বিরোধের নিষ্পত্তি চেয়ে আবেদনপত্র লেখা ও দাখিল করার ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করা; পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি সম্পর্কে প্রথাগত প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের সচেতন করা; সংক্ষুব্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের আইনি, কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য দীপায়ন খীসার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, আদিবাসী অধিকার কর্মী মেইনখেন প্রমীলা প্রমুখ।

 

Manual7 Ad Code

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ