অগ্নিকন্যা বেগম মতিয়া চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২৫

অগ্নিকন্যা বেগম মতিয়া চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ১৬ অক্টোবর ২০২৫ : বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনন্য নাম, আজীবন সংগ্রামী ও সাহসী নেত্রী, কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের কণ্ঠস্বর, ‘অগ্নিকন্যা’ বেগম মতিয়া চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এই প্রবীণ রাজনীতিক। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষত আওয়ামী লীগ পরিবারে, যেখানে তিনি ছিলেন সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ও দলের একনিষ্ঠ যোদ্ধা।

বেগম মতিয়া চৌধুরীর জীবনের শুরু ও সংগ্রাম

১৯৪২ সালের ৩০ জুন পিরোজপুরে জন্মগ্রহণ করেন মতিয়া চৌধুরী। তাঁর পিতা মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মাতা নুরজাহান বেগম গৃহিণী। শৈশব থেকেই নেতৃত্বগুণ ও স্পষ্টভাষিতার জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি। ইডেন কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হয়ে শুরু হয় তাঁর রাজনীতিক জীবনের পথচলা।

১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানি সামরিক শাসক আইয়ুব খানের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। চারবার কারাবরণ করেন সেই সময়। ১৯৬৫ সালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন—যা ছিল নারী নেতৃত্বে বিরল অর্জন। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও অনন্য।

Manual1 Ad Code

রাজনৈতিক জীবন ও অবদান

স্বাধীনতার পর মতিয়া চৌধুরী যোগ দেন আওয়ামী লীগে। সমাজতান্ত্রিক ভাবধারায় বিশ্বাসী এই নেত্রী মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল রাজনীতির ধারক-বাহক হিসেবে উঠে আসেন।
তিনি শেরপুর-২ (নকলা–নালিতাবাড়ী) আসন থেকে ছয়বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯৬, ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কৃষিখাতে আধুনিকায়ন ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে তাঁর অবদান দেশজুড়ে প্রশংসিত।

২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে তিনি জাতীয় সংসদের উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন, যা তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পালন করেন।

ব্যক্তিজীবন

১৯৬৪ সালের ১৮ জুন তিনি খ্যাতিমান সাংবাদিক বজলুর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সততা, সাদামাটা জীবনযাপন ও দেশপ্রেম ছিল তাঁর জীবনের মূল দর্শন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি নারী শিক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবিক রাজনীতির প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।

রাজনৈতিক মহলে শ্রদ্ধা ও স্মরণ

তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তিত্ব শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নুর আহমদ বকুল এক বিবৃতিতে বলেন, “বেগম মতিয়া চৌধুরী ছিলেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের এক অগ্রণী সেনানী। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা রক্ষায় ও কৃষক-শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক ও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান তাঁর শ্রদ্ধা বার্তায় বলেন, “মতিয়া চৌধুরী ছিলেন এক অনন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ন্যায় ও মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অবিচল ছিলেন। তাঁর সাহস, সততা ও আদর্শ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।”

Manual1 Ad Code

অগ্নিকন্যার উত্তরাধিকার

Manual6 Ad Code

‘অগ্নিকন্যা’ উপাধি অর্জন করেছিলেন তাঁর তেজস্বী বক্তৃতা, নির্ভীক মনোভাব ও ন্যায়ের প্রতি অটল অবস্থানের কারণে। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তাঁর দৃঢ় অবস্থান তাঁকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক প্রতীকী চরিত্রে পরিণত করেছে।
রাজনীতিতে নারীর অগ্রযাত্রার পথিকৃৎ হিসেবে মতিয়া চৌধুরীর অবদান দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বেগম মতিয়া চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানায় কৃতজ্ঞ জাতি।

Manual7 Ad Code

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ