রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ফিরোজের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১২:১০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২৫

রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ফিরোজের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Manual3 Ad Code
স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অক্লান্ত সংগঠক, প্রবাসে বাঙালির অধিকার আন্দোলনের পথিকৃৎ

সৈয়দা নাজমা শবাব, বিশেষ প্রতিনিধি | লন্ডন (যুক্তরাজ্য), ১৭ অক্টোবর ২০২৫ : একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রবাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখা, বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতৃত্ব ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ ফিরোজের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

Manual3 Ad Code

২০২৪ সালের এই দিনে—১৭ অক্টোবর—ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফের হিথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, তিন কন্যা ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

Manual3 Ad Code

মৌলভীবাজারের কৃতী সন্তান ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক

মৌলভীবাজার জেলা সদরের কচুয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া মোহাম্মদ ফিরোজ ছিলেন এক বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী মানুষ। তরুণ বয়সে তিনি ছিলেন কৃতি ফুটবলার। কিন্তু খেলাধুলার মাঠ ছাড়িয়ে তাঁর জীবন গড়ে ওঠে সংগঠন ও রাজনীতির অঙ্গনে।
স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ষাটের দশকে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং মৌলভীবাজার মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।

প্রবাসে নেতৃত্ব ও অবদান

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত মোহাম্মদ ফিরোজ সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে। তিনি ছিলেন ‘৭১-এর একশন কমিটি, ওয়েলস শাখার সেক্রেটারি, এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতাকারী অন্যতম সংগঠক।
স্বাধীনতার পরও তিনি প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির অধিকার প্রতিষ্ঠা, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।

তিনি ছিলেন

ওয়েলস আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি,

বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট,

গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল (ইউকে) সাউথ ওয়েলসের চেয়ারপার্সন,

এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় জাতীয় পরিষদের সদস্য।

তাঁর অবদান শুধু রাজনৈতিক পরিসরেই সীমিত ছিল না; প্রবাসে বাঙালিদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় গঠনে তিনি ছিলেন অন্যতম স্থপতি।

কমিউনিটি নেতাদের শ্রদ্ধা নিবেদন

তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কার্ডিফ ও ওয়েলসের বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মোহাম্মদ ফিরোজের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

কার্ডিফ বাংলাদেশ কমিউনিটি ও ওয়েলস আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, “মোহাম্মদ ফিরোজ ছিলেন প্রবাসে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার এক অবিচল প্রহরী। তাঁর অবদান প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম অনুপ্রেরণা জোগাবে।”

শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন—কমিউনিটি নেতা ও সাংবাদিক মকিস মনসুর, ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মতিয়ার চৌধুরী, বিশ্ববাংলা নিউজ টুয়েন্টিফোরের সম্পাদক শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখার সাবেক সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলাম, সাংবাদিক আজিজুল আম্বিয়া প্রমুখ।

সৈয়দ আমিরুজ্জামানের শ্রদ্ধা বার্তা

প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ফিরোজের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, ‘৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।

Manual2 Ad Code

তিনি বলেন, “মোহাম্মদ ফিরোজ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রেরণাদাতা ও প্রবাসে রাজনৈতিক চেতনার ধারক। তাঁর জীবন সংগ্রাম, সততা ও দেশপ্রেম আজও তরুণ প্রজন্মের জন্য এক আলোকবর্তিকা।”

এক প্রজন্মের প্রেরণা হয়ে থাকবেন তিনি

Manual8 Ad Code

মোহাম্মদ ফিরোজের জীবন ও কর্ম শুধু রাজনীতির পরিমণ্ডলেই নয়, বরং বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গভীর ছাপ রেখে গেছে।
তাঁর মতো অক্লান্ত সংগ্রামী, সৎ ও আদর্শবান নেতৃত্ব আজকের প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে থাকবে—যিনি প্রমাণ করে গেছেন যে দেশপ্রেম ও মানবসেবার কোনো সীমানা নেই।
????️
তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতি ও প্রবাসী সমাজ স্মরণ করছে এক নিরলস যোদ্ধাকে, যার স্বপ্ন ছিল মুক্ত, মানবিক ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ