চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে শ্রীমঙ্গলে ছাত্র ইউনিয়নের সমাবেশ

প্রকাশিত: ৮:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২৫

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে শ্রীমঙ্গলে ছাত্র ইউনিয়নের সমাবেশ

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৮ অক্টোবর ২০২৫ : সম্পূর্ণ এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি টার্মিনাল লালদিয়া, নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ও বে টার্মিনাল ৩০ বছরের জন্য বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রীমঙ্গলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের মৌলভীবাজার জেলা সংসদ।

Manual8 Ad Code

শনিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৫) বিকেলে শ্রীমঙ্গল শহরের উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মুখ সড়কে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। তিনি বক্তৃতায় বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল কাজ হচ্ছে স্বাধীন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কন্ডাক্ট করা — যেটি সাধারণত তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে করা যায়। নির্বাচনের বাইরে থাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—যেমন, দীর্ঘমেয়াদি বন্দরের ইজারা—গ্রহণ করা নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও জাতীয় নীতিনির্ধারণের দায়িত্ব আগামীতে ক্ষমতাসীন জনগণের প্রতিনিধির; তাই এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তারা নির্ধারণ করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

Manual1 Ad Code

কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান আরও উচ্ছ্বসিত সুরে বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক জীবনী — এর নিয়ন্ত্রণ বিদেশি এজেন্টদের হাতে তুলে দিলেই আমরা তা মেনে নেব না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি এ পদক্ষেপ থেকে সরে না আসে, তাহলে জনগণকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করা হবে — প্রয়োজন হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চও করা হবে।”

Manual8 Ad Code

সমাবেশে মৌলভীবাজার জেলা সংসদের সভাপতি প্রশান্ত কৈরী সভার পরিচালনা করেন ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক অনুরাগ পাল অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। জেলার সহ-সভাপতি অনন্তসহ সংগঠনের নেতারা সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এবং সরকারের কাছে নির্দিষ্ট দাবিসমূহ উপস্থাপন করেন। বক্তারা বলেন, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় বন্দর পরিচালনা দেশের স্বার্থে দেশের সক্ষমতা বাড়িয়ে, দেশীয় কোম্পানিদের মাধ্যমে সম্পাদিত হওয়া উচিত।
• চুক্তি দ্রুতভাবে বাতিল করা না হলে তা দেশের সার্বিক স্বার্থ ও স্থানীয় ব্যবসা-সংস্থার জন্য বিপজ্জনক হবে।
• অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে গৃহীত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয় — জনগণ এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সম্মিলিত আন্দোলনে নেমে আসবে।
• দাবি আদায় না হলে সংগঠন প্রয়োজনীয় সময়ে রাজপথ ও লংমার্চের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সমাবেশে অংশ নেওয়া বক্তারা প্রতিশ্রুতি দেন যে, দেশের সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে তারা গণবিরোধী এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন করবেন। নেতারা বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দিতে দেব না” — এই প্রতিজ্ঞা বারবার প্রতিধ্বনি করে সমাবেশস্থল কাঁপিয়ে তোলে।

Manual5 Ad Code

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন মৌলভীবাজার জেলা সংসদ আয়োজিত এই সমাবেশে বিভিন্ন পেশার মানুষ, ছাত্র সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ