হবিগঞ্জের বাস চলাচল বন্ধের হুমকি ঘিরে উত্তেজনা, প্রয়োজনে মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা নেতৃবৃন্দের

প্রকাশিত: ৪:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০২৫

হবিগঞ্জের বাস চলাচল বন্ধের হুমকি ঘিরে উত্তেজনা, প্রয়োজনে মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা নেতৃবৃন্দের

Manual8 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি | হবিগঞ্জ, ০৬ নভেম্বর ২০২৫ : ‘৮ নভেম্বরের পর হবিগঞ্জের বাস মৌলভীবাজারে উপর দিয়ে চলতে দেয়া হবে না’— বিএনপি নেতা এম নাসের রহমানের এমন বক্তব্যে ফুঁসে উঠেছে হবিগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

Manual3 Ad Code

এই বক্তব্যের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে হবিগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনাল কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি।

Manual5 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ৮ নভেম্বরের পর যদি হবিগঞ্জের বাস মৌলভীবাজারে চলাচল বন্ধ করা হয়, তবে পুরো মৌলভীবাজার জেলাকে অচল করে দেওয়া হবে।

তারা আরও ঘোষণা দেন, প্রয়োজনে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে মৌলভীবাজারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

Manual7 Ad Code

সংঘাতের সূত্রপাত

গত ১ নভেম্বর শ্রীমঙ্গল থেকে সিলেট রোডে একটি নতুন বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি হবিগঞ্জের পরিবহন ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করেছেন হবিগঞ্জের পরিবহন নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, নাসের রহমান বলেন— “হবিগঞ্জের মানুষ সন্ত্রাসী ও ইতর।” একই সঙ্গে তিনি হুমকি দেন, “৮ নভেম্বরের পর হবিগঞ্জের বাস মৌলভীবাজারে উপর দিয়ে চলতে দিব না।”

এমন বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে হবিগঞ্জের পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু কেউ গায়ের জোরে আমাদের ব্যবসার ক্ষতি করতে চাইলে আমরা দাঁতভাঙা জবাব দেব।”

Manual1 Ad Code

হবিগঞ্জ পরিবহন নেতাদের অবস্থান

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হবিগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব ও হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের আহ্বায়ক ও হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. ফজলুর রহমান, সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাসহ পরিবহন খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা কারও সঙ্গে বিরোধ চাই না। হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের মানুষ বহু বছর ধরে একই সড়কে, একই পথে, সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে যাতায়াত করে আসছে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কেউ যদি জেলাভিত্তিক বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়, তা মেনে নেওয়া হবে না।”

নাসের রহমানের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক

এম নাসের রহমানের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হবিগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে “উসকানিমূলক” ও “অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে নাসের রহমানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তৎপরতা

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি তারা গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছেন। দুই জেলার মধ্যে পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে পারে বলে জানা গেছে।

একজন জেলা প্রশাসক পর্যায়ের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যে কোনো উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এড়াতে আমরা দুই জেলার পরিবহন নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। জনগণের স্বার্থেই সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে হবে।”

উপসংহার

হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার পরিবহন ব্যবসাকে ঘিরে এই উত্তেজনা নতুন করে দুই জেলার সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিবহন খাতের স্বার্থরক্ষার পাশাপাশি পারস্পরিক সহমর্মিতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে জরুরি— এমনটাই মত স্থানীয় বিশ্লেষকদের।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ